তিনটি পাখি


      হযরত সায়্যিদুনা আনাস বিন মালিক  رضى الله تعالى عنه  বলেন: রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, রাসুলে আকরাম صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم এর দরবারে তিনটি পাখি হাদিয়া স্বরূপ পেশ করা হল। তখন হুযুর صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم একটি পাখি নিজের বাঁদীকে খাওয়ার জন্য দান করলেন। দ্বিতীয় দিন বাঁদী সে পাখিটি নিয়ে এলাে। তখন রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم তাকে ইরশাদ করলেন: আমি তাে তােমাকে নিষেধ করেছি যে, পরবর্তী দিনের জন্য কিছু সঞ্চয় করে রেখােনা। নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলা পরবর্তী দিনের রিযিক দান করেন। (শুয়াবুল ঈমান, ২য় খন্ড, ১১৮ পৃষ্টা, হাদীস নং- ১৩৪৭)


       আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হােক এবং তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হােক।


صَلُّوا عَلَى الحَبِيب! صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَلىٰ مُحَمَّد




রাসুলুল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যার নিকট আমার আলােচনা হল এবং সে আমার উপর দরূদ শরীফ পড়ল না, সে জুলুম করল।” (আব্দুর রাজ্জাক)



পরবর্তী দিনের জন্য জমা রাখাঃ


       প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! তাজেদারে রিসালাত, শাহানশাহে নবুয়ত, মাহবুবে রব্বল ইযযত صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم এর খােদার উপর ভরসার অবস্থান নিশ্চয় সকলের উর্ধে ছিল। তিনি صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم নিজের জন্য পরবর্তী দিনের খাবার কখনাে সঞ্চয় করে রাখতেন না। হুযুর صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم নিজের সম্পদের কখনাে যাকাত দেননি। এ কারণে যে, কখনাে সম্পদ জমা করেই রাখেননি। সে জন্য যাকাত ফরয হত না। প্রসিদ্ধ মুফাসসির, হাকীমূল উম্মত, হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খান  رحمة اللّٰه تعالىٰ عليه  বলেন: হযরত সায়্যিদুনা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ ٰعَلى نَبِيِّنَا وَعَلَيهِ الصَّلٰوةُ وَالسَّلَامছেলের গলায় ছুরি চালিয়ে দিলেন, হযরত আদহাম  رحمة اللّٰه تعالىٰ عليه  নিজের ছেলে ইবরাহীমের জন্য দোয়া করলেন, “হে খােদা একে মৃত্যু দান করুন, কারণ একে চুমু দেয়ার কারণে কিছুটা সময় আমি তােমার থেকে উদাসীন হয়ে গেছি।” এসব ঐ সকল বুযুর্গদের জযবা ছিল। মূলত: “যে বস্তু বন্ধুর মাঝখানে প্রতিবন্ধক হয় সেটা ছিড়ে ফেল।” হযরত সায়্যিদুনা আবু যর গিফারী  رحمة اللّٰه تعالىٰ عليه  অত্যন্ত দুনিয়া বিমুখ সাহাবী ছিলেন। তাঁর আবেগের সত্যায়ণকারী হচ্ছে এ কবিতা



কু-ড়ি না রাখ্ কাফন কো,


তিজ ঢাল মাল ও ধন কো।


জিছনে দিয়া হে তনকো,


দেগা উহি কাফন কো।



      এটা মনে রাখবেন! হালাল সম্পদ জমা করা হারাম নয়। যেমন মুফতী সাহেব আরাে বলেন: ‘সম্পদ জমা রাখা, মৃত্যুর পর তা রেখে যাওয়া বৈধ, যদি তা থেকে যাকাত, ফিতরা, কতাওবানী ও বান্দার হক আদায় করা হয়ে থাকে।' (মিরআত, ৩য় খন্ড, ৮৮, ৮৯ পৃষ্ঠা থেকে সংকলিত)


রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করাে, আল্লাহ তাআলা তােমাদের উপর রহমত নাযিল করবেন।” (ইবনে আ'দী)।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন