সাতটি খেজুর


      হযরত সায়্যিদুনা ইরবাজ বিন সারিয়া  رضى الله تعالى عنه  বলেন: তাবুক যুদ্ধের রাতে খাতামুল মুরসালীন, শফীউল মুযনিবীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم হযরত সায়্যিদুনা বিলাল  رضى الله تعالى عنه  কে ইরশাদ করলেন: হে বিলাল! তােমার নিকট খাওয়ার কিছু আছে?


রাসুলুল্লাহ্ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি আমার উপর প্রতিদিন সকালে দশবার ও সন্ধ্যায় দশবার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ নসীব হবে।” (মাজমাউয যাওয়ায়েদ)



হযরত সায়্যিদুনা বিলাল  رضى الله تعالى عنه  আরয করলেন: “হুযুর! আপনার প্রতিপালকের শপথ! আমরাতাে আমাদের খাদ্যের থলে খালি করে বসেছি। রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, রাসুলে আকরাম, শাহানশাহে বনী আদম صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم বললেন: ভালভাবে দেখাে, নিজের খাদ্যের থলে ঝেড়ে নাও, হয়তাে কিছু বের হবে। (সে সময় আমরা তিনজন ছিলাম) সবাই নিজ নিজ খাদ্যের থলে ঝাড়লে মােট ৭টি খেজুর বেরিয়ে আসল। তাজেদারে রিসালাত, শাহানশাহে নবুয়ত, মাহবুবে রব্বল ইযযত صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم সেগুলােকে একটি পৃষ্ঠার উপর রেখে সেগুলাের উপর আপন মােবারক হাত রাখলেন এবং ইরশাদ করলেন: بِسمِ اللّٰه পড়ে খাও।” আমরা তিনজন মাহবুবে খােদা, রাহমাতুল্লিল আলামীন, শফিউল মুযনিবীন, রাসুলে আমীন, হুযুর পুরনূর صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم এর বরকতময় হাতের নীচ থেকে উঠিয়ে খুব ভালভাবে খেলাম। হযরত সায়্যিদুনা বিলাল  رضى الله تعالى عنه  বলেন: আমি বীচিগুলাে বাম হাতে রাখছিলাম। যখন আমি পরিতৃপ্ত হয়ে সেগুলাে গণনা করলাম তখন ৫৪টি ছিল! এভাবে ঐ দু'জন সাহাবীও  رضى الله تعالى عنه  পরিতৃপ্ত হয়ে গেলেন। যখন আমরা খাবার থেকে হাত উঠিয়ে নিলাম তখন আল্লাহর প্রিয় হাবীব, হাবিবে লবীব, রাসুলুল্লাহ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم ও আপন বরকতময় হাত উঠিয়ে নিলেন। ঐ সাতটি খেজুর আগের মত বিদ্যমান ছিল। মদীনার তাজেদার, নবীকুল সরদার, হুযুরে আনওয়ার صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم ইরশাদ করলেন: “হে বিলাল! এগুলাে হিফাযতে রেখাে এবং এগুলাে থেকে কেউ খাবে না, পরবর্তিতে কাজে আসবে।” বিলাল  رضى الله تعالى عنه  বলেন: আমরা এগুলাে খায়নি। যখন পরবর্তী দিন এলাে এবং খাওয়ার সময় হল তখন সরকারে নামদার প্রিয় রাসুল, রাসুলে মাকবুল, হুযুর পুরনূর صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم ঐ সাতটি খেজুরই আনার জন্য ইরশাদ করলেন। হুযুর صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم পুনরায় আগের মত সেগুলাের উপর হাত মােবারক রাখলেন আর বললেন: بِسمِ اللّٰه পড়ে খাও।” এবার আমরা দশজন ছিলাম। সবাই পরিতৃপ্ত হয়ে গেলাম।



রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি কিতাবে আমার উপর দরূদ শরীফ লিখে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নাম তাতে থাকবে, ফিরিশতারা তার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকবে।" (তাবারানী)



নবীকুল সুলতান, সরদারে দোজাহান, মাহবুবে রহমান صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم আপন রহমতের হাত উঠালে তখন ৭টি খেজুরই হুবহু বিদ্যমান ছিল। নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, তাজেদারে রিসালাত صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم বললেন: “হে বিলাল! যদি আমার আল্লাহ্ তাআলার প্রতি লজ্জা না হতাে তবে মদীনা ফিরে যাওয়া পর্যন্ত এ সাতটি খেজুর থেকেই খেতাম। অতঃপর সরকারে মদীনা প্রিয় মুস্তফা صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم ঐ খেজুরগুলাে একটি ছেলেকে দান করে দিলেন। সে ওগুলাে খেয়ে চলে গেল। (আল খাসায়িসুল কুবরা, ২য় খন্ড, ৪৫৫ পৃষ্ঠা)



      আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হােক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হােক। 



       প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তাে! আল্লাহ্ তা'আলা হুযুর صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَىٰ عَليهِ وَسَلَّم কে কিরূপ বিশাল ক্ষমতা দান করেছেন। সাতটি খেজুরে কি ধরণের বরকত হল যে, অনেক সাহাবায়ে কিরাম ُعَلَيهِمُ الرِّضوَان থেকে পেট ভরে খেলেন।


মালিকে কওনাইন হে গাে পাছ কুছ রাখতে নেহি,

দো জাহা কী নেয়ামতে হে উন কে খালী হাত মে।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন