ইয়া আলী মদদ বলার প্রমাণ
প্রশ্ন (১০): 'ইয়া আলী মদদ’ বলার পক্ষে প্রকাশ্য কোন দলিল পেশ করলে তাে মদীনা মদীনা।
উত্তর : পূর্বের পৃষ্ঠাগুলােতে আল্লাহ ছাড়া এমন কারাে থেকে তাদের জাহেরী জীবনে এবং ওফাতের পরেও সাহায্য চাওয়ার প্রমাণাদি পেশ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে 'ইয়া আলী মদদ’ বলার দলিলও লক্ষ্য করুন। যেমন: আমার আক্বা আলা হযরত ইমামে আহলে সুন্নত মুজাদ্দিদে দীন ও মিলাত মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحۡمَةُ اللّٰهِ تَعَالٰی عَلَيۡهِ ফতোওয়ায়ে রজভীয়ার ৯ম খন্ডের ৮২১ ও ৮২২ পৃষ্ঠায় লিখছেন: শাহ মােহাম্মদ গাউছ গাওয়ালিয়ারী رَحۡمَةُ اللّٰهِ تَعَالٰی عَلَيۡهِ এর কিতাব ‘জাওয়াহেরে খামসা' বিভিন্ন প্রসিদ্ধ আউলিয়ায়ে কেরাম যা অজিফা স্বরূপ অনুমতি দিয়েছেন, যাদের মধ্যে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সে কিতাবটিতে রয়েছে, নাদে আলী’টি সাত বার, তিন বার, কিংবা একবার পড়বে। সেটি হল:
نَادِ عَلِیًّا مَّظۡهَرَ الۡعَجَائِبِ تَجِدۡهُ عَوۡنًا لَّكَ فِی النَّوَائِبِ كُلُّ هَمٍّ وَّغَمٍّ سَيَنۡجَلِیۡ بِوِلَا يَتِكَ يَا عَلِیُّ يَاعَلِیُّ يَا عَلِىُّ٭
অনুবাদ : হযরত আলীকে আহ্বান কর, যিনি আশ্চর্য সমূহের প্রকাশস্থল। তাঁকে তুমি তােমার সকল মুসিবতে সাহায্যকারী রূপে পাবে। যে কোন দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যাবে ।
তার رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰی عَنۡهُ (বেলায়তের) ওসীলায়। হে আলী! হে আলী!! হে আলী!!! (জাওয়াহিরে খামসা অনুদিত। পৃষ্ঠা: ২৮২, ৪৫৩)
'ইয়া আলী’ বলা যদি শিরক হয় তবে...
আলা হযরত رَحۡمَةُ اللّٰهِ تَعَالٰی عَلَيۡهِ আরাে বলেন : ‘মওলা আলীকে মুশকিল কুশা বলে মানা সাহায্যকারী জানা, দু:খ-দূর্দশায়, দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনায় তাঁকে আহবান করা, ইয়া আলী ইয়া আলী বলা যদি শিরক হয়ে থাকে, তা হলে তাে (আল্লাহর পানাহ) এরা সকল আউলিয়ায়ে কেরামগণ মুশরিক ও কাফের হয়ে যাবেন। আর সব চেয়ে বড় ও কাফের ও মুশরিক হয়ে যাবেন (আল্লাহর পানাহ) শাহ ওয়ালিউল্লাহ। যিনি মুশরিকদেরকে আল্লাহর ওলী বলে মনে করতেন!
اَلۡعِيَاذُ بِاللّٰهِ رَبِّ الۧعٰلَمِيۡنَ وَلَا حَوۡلَ وَلَا قُوَّةَ ِلَّا بِاللّٰهِ الۡحَقِّ الۡمُبِيۡن
মুসলমানরা দেখুন যে ইয়া আলী, ইয়া আলী বলাকে শিরিক সাব্যস্ত করার কি শাস্তি মিলল। অন্যায় ভাবে মুসলমানদের কে মুশরিক বলতে হত না, আর সামনে পিছনের লােকদেরকে মুশরিক বানানাের বিপদ সহ্য করতে হত না। এসব থেকে এটা উত্তম যে, সঠিক পথে চলে আসুন। সত্য মুসলমানদের মুশরিক বানাবেন না, অন্যথায় নিজের ঈমানের চিন্তা করুন। (ফতােওয়ায়ে রবীয়া, ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৮২১,৮২২ সংক্ষেপিত)
সখত দুশমন হে হুসন কি তাক মে,
আল মদদ মাহবুবে ইয়াজদা আলগিয়াছু।
صَلُّوۡا عَلَى الۡحَبِيۡب
صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلٰى مُحَمَّد
_____________________
হযরত আলী كَرَّمَ اللّٰه تَعَالٰی وَجۡهَهُ الۡكَرِیۡمِ এর কারামত,
লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন