মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি


মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা জায়িয এবং ছাওয়াবের কাজ। সামর্থবান ব্যক্তি প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করবে, এরপর সম্ভব হলে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করবে। এ ব্যাপারে সহিহ হাদিস ও ফিকহের সমর্থন পাওয়া যায়। এমনকি এ বিষয়ে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) হযরত আলি (رضي الله عنه)কে ওসিয়ত-ও করেছেন। ইমাম আবু দাউদ তাঁর ‘আস-সুনান’ গ্রন্থের ‘কুরবানি’ অধ্যায়ে ‘ (মৃত বক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি)’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেন:



حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِى شَيْبَةَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِى الْحَسْنَاءِ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ حَنَشٍ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا يُضَحِّى بِكَبْشَيْنِ فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْصَانِى أَنْ أُضَحِّىَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّى عَنْهُ



-“হযরত হানাশ বলেন, আমি হযরত আলি (رضي الله عنه)কে দেখলাম দু’টি মেষ কুরবানি করছেন। অতঃপর তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানি করতে আমাকে ওসিয়ত করে গেছেন। তাই আমি তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানি করছি’।” ৫৩


৫৩ - আবু দাউদ, আস-সুনান, হাদিস নং- ২৭৯২;


     ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, হাদিস নং- ১৪৯৫।



আলোচ্য হাদিসের দু’জন বর্ণনাকারী- হযরত আবুল হাসনা এবং হযরত হানাশ সম্পর্কে কেউ কেউ ‘জরাহ-সমালোচনা’ করে হাদিসটিকে ‘দূর্বল’ বলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের এ দাবী কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা ইমাম আবু দাউদ এ হাদিসটি সংকলন করার পর কোন মন্তব্য করা হতে বিরত থেকেছেন। আর ইমাম আবু দাউদের হাদিস বর্ণনার পর মন্তব্য করা থেকে নিরব থাকার অর্থ হলো- ‘হাদিসটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য’।



আবু উমর বিন আব্দুল বার বলেন:



كُلُّ مَا سَكَتَ عَلَيْهِ فَهُوَ صَحِيْحٌ عِنْدَهُ



-“যে হাদিস উল্লেখ করে ইমাম আবু দাউদ মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন, ওই হাদিসটি তাঁর নিকট ‘সহিহ’ হিসেবে সাব্যস্ত।” ৫৪


৫৪ - ফাতহুল মুগীছ, ১/৯১।



ইমাম মুনযিরি বলেন:



كُلُّ حَدِيثٍ عَزَوْتَهُ اِلَي اَبِي دَاؤُدَ وسَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ كَمَا ذَكَرَ اَبُو دَاؤُدَ وَلَا يَنْزِلُ عَنْ دَرْجَةِ الْحَسَنِ وَقَدْ يَكُونُ عَلَي شَرْطِ الصَّحِيْحَيْنِ



-“যে সকল হাদিস ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করে মন্তব্য করা হতে নিরব থেকেছেন, ঐ সকল হাদিস তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী-ই হবে। অর্থাৎ এ সকল হাদিস ‘হাসান’-এর থেকে তো নিম্ন মানের হবেই না। বরং তা বুখারি ও মুসলিমের শর্তের উপরই সাব্যস্ত হবে।” ৫৫


৫৫ - আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ১/১১।



তবে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করার দুটি অবস্থা রয়েছে:



১.        মৃত ব্যক্তি তার পক্ষ হতে কুরবানি করার ওসিয়ত করে গেলে তার পক্ষ হতে কুরবানি করা। আর এ ক্ষেত্রে কুরবানির সম্পূর্ণ গোশত গরিবদের মাঝে বন্টন করে দিতে হবে। যেমন, ফাতাওয়ায়ে শামি ও আলমগীরিতে এসেছে:



لَوْ ضَحَّى عن مَيِّتٍ وَارِثُهُ بِأَمْرِهِ أَلْزِمْهُ بِالتَّصَدُّقِ بِهَا وَعَدَمِ الْأَكْلِ مِنْهَا



২.        আর যদি ওসিয়ত না করে যায়, তাহলে সাধারণ কুরবানির মতই এর গোশত সকলে খেতে পারবে। যেমন, ফাতাওয়ায়ে শামি ও আলমগীরিতে এসেছে:



مَنْ ضَحَّى عَنْ مَيِّتٍ جَازَ الْأَكْلَ مِنْهَا وَالْهَدِيَةَ وَالصَّدَقَةَ وَالْاَجْرَ لِلْمَيِّتِ لِلذَّابِحِ

_________________

কুরবানি (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আহকাম)

গ্রন্থনা ও সংকলন:

মুফতি মুহাম্মদ আলমগীর হোসাইন আন-নাজিরী

অধ্যক্ষ, জামি‘আ-এ-‘ইলমে মদীনা, নেত্রকোণা

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন