হুযূর পূর নূর (ﷺ) এর সুন্দর বাচনভঙ্গি ও স্পষ্ট আরবী ভাষা


প্রাঞ্জল ভাষণ দেয়ার ক্ষেত্রে মহানবী (ﷺ)-এর সর্বশ্রেষ্ঠতা সর্বজনবিদিত। তিনি ছিলেন বচনে সাবলীল, বিতর্কে দক্ষতাসম্পন্ন, অল্প কথায় ব্যাপক অর্থ জ্ঞাপনে সক্ষম, স্পষ্ট প্রকাশভঙ্গিসম্পন্ন, সহজে বোধগম্য ও উত্তম শব্দ ব্যবহারকারী এবং মেকি আচরণ থেকে মুক্ত।


রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আরবী ভাষার (সকল শব্দের) ওপর (সর্বোৎকৃষ্ট) পাণ্ডিত্য প্রদান করা হয়েছিল, যার অনন্য বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটতো তাঁরই চমৎকার সব প্রবচন দ্বারা। তিনি আরবদের বিভিন্ন আঞ্চলিক/গোত্রীয় ভাষা শিক্ষা করেছিলেন এবং তাদের প্রতিটি গোত্রের সাথেই নিজ নিজ ভাষায় ও নিজস্ব বাগরীতিতে কথা বলতেন। তিনি তাদের আপন আপন রীতি ব্যবহার করে তাদের যুক্তির উত্তর এমনভাবে দিতেন, যার ফলে তাঁর বেশ বড় সংখ্যক সাহাবা (رضي الله عنه) একাধিকবার তাঁকে তিনি (ওই গোত্রগুলোকে) কী বলেছিলেন তা বুঝিয়ে বলার জন্যে অনুরোধ করতেন। হুযূর পাক (ﷺ)-এর হাদীস (বাণী) ও জীবনী যাঁরা অধ্যয়ন করেছেন, তাঁরা এটা জানেন এবং এর সত্যতা নিশ্চিত করে থাকেন। কুরাইশ, আনসার এবং হেজায ও নজদের মানুষের সাথে তিনি যেভাবে কথা বলেছেন, তা কিন্তু যুল-মিশ’আর আল-হামদানী, তিহফা আল-হান্দী, কাতান ইবনে হারিসা আল-উলায়মী, আল-আশ’আত ইবনে কায়স, ওয়া’ইল ইবনে হুজর আল-কিন্দী এবং হাদরামাউত অঞ্চলের গোত্রপ্রধান ও ইয়েমেনের রাজন্যবর্গের সাথে ব্যবহৃত বাগরীতি নয়। [এই দৃষ্টান্তগুলোর প্রতিপাদ্য হলো, এগুলো বিভিন্ন আরবীয় বাগরীতির প্রতিনিধিত্ব করে, যা কুরাইশ বংশীয়দের মাঝে প্রচলিত আরবী ভাষা হতে বেশ আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল]


হামদান গোত্রের প্রতি মহানবী (ﷺ)-এর লিখিত পত্রের দিকে লক্ষ্য করুন: “তোমাদের অধিকারে রয়েছে উঁচু ও নিচুভূমি এবং বনভূমি-ও। তোমরা তা হতে (উৎপন্ন) ফসল খাও এবং (গবাদি পশু) চারণ করো। ফল-ফসল তোমরা যা পাও এবং গবাদি পশু যা সমর্পণ করে (ঐশী) চুক্তি ও আস্থাবলে, তা তোমাদেরই (অধিকারে)। যাকাতেরআওতাভুক্ত হচ্ছে তিন বছর বয়সী উট, বয়স্ক মাদী উট, মাই ছাড়ানো উট, বাড়িতে রাখা এবং মাই না ছাড়ানো অল্পবয়সী মদ্দা উট। আর গবাদি পশুর ক্ষেত্রে ছয় বছর বয়সী ও পাঁচ বছর বয়সীগুলোর ওপর যাকাত দিতে হবে।” [এই পত্রের ভাষা হেজায অঞ্চলে প্রচলিত আরবী ভাষা থেকে বেশ আলাদা]


❏ নজদী গোত্রের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন: “হে আল্লাহ, তাদেরকে (গবাদি পশুর) দুধ, মাখন ও দধিতে বরকত দিন। তাদের মেষপালকদেরকে ধনবান করুন এবং অভাব দূর করে দিন। সম্পত্তি ও সন্তান-সন্ততিতে তাদেরকে আশীর্বাদ দিন। যে কেউ নামায পড়লে সে মুসলমান (বলে গণ্য হবে)। যে কেউ যাকাত দিলে, সে মুহসিন (পুণ্যবান)। যে কেউ আল্লাহ ভিন্ন কোনো উপাস্য নেই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করলে সে মুখলিস (একনিষ্ঠ)।


“বনূ নজদ, তোমাদের প্রতি বহাল রয়েছে (ঐশী) অঙ্গীকার (পূরণ) ও সম্পদ জমা (দেয়া)। বেঁচে থাকতে যাকাতআটকে রেখো না, বা তা হতে বিচ্যুত-ও হয়ো না। নামাযকে বোঝা মনে করো না এবং ফলশ্রুতিতে তা পরিত্যাগ করো না।”


❏ মহানবী (ﷺ) নজদীদেরকে আরো বলেন: “তোমরা ন্যূনতম যাকাত দাও। তোমাদের রয়েছে অসুস্থ উট, সদ্য সন্তান প্রসবকারিনী উটনী, সওয়ারের জন্যে পোষ মানানো উট ও পোষ না মানানো অশ্বশাবক। তোমাদের গবাদি পশু আটক করা হবে না, খেজুর/তাল (জাতীয়) গাছের ফুল-ও কাটা হবে না। আর তোমাদের দুগ্ধবতী গাভীও কেড়ে নেয়া হবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমরা (অন্তরে) কপটতা লুকিয়ে না রাখো, কিংবা চুক্তি ভঙ্গ না করো। কেউ কোনো কিছুতে চুক্তিবদ্ধ হলে এবং যিম্মা তথা সুরক্ষা সংক্রান্ত অঙ্গীকারে আবদ্ধ থাকলে তাকে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে। কেউ তা অস্বীকার করলে এর দায়-ই কেবল বৃদ্ধি পাবে (শাস্তিস্বরূপ)” 

[এসব উদ্ধৃতিতে বিভিন্ন আরবী বাগরীতির ওপর রাসূল (ﷺ)-এর পাণ্ডিত্যেরই নিদর্শন মেলে]। [অনুবাদকের জরুরি নোট: পাঠকবৃন্দ লক্ষ্য করুন, নজদী গোত্রের প্রতি মহানবী (ﷺ) যে নির্দেশ জারি করেছিলেন, তাতে তাদের ভবিষ্যত বিচ্যুতির আভাস মেলে। পরবর্তীকালে তারা ঠিকই বিদ্রোহ করেছিল]  


❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক ওয়া’ইল ইবনে হুজরকে প্রেরিত পত্রের কিয়দংশ এরকম: “প্রতি কায়লস্, ইয়েমেনের রাজা-বাদশাহবৃন্দ, সুন্দর চেহারার অধিকারী, বয়োবৃদ্ধমণ্ডলী।” তিনি ওই পত্রে আরো লেখেন, “ন্যূনতম চল্লিশটি ভেড়ার মধ্য হতে একটি (যাকাতস্বরূপ), যা মোটা নয়, আবার শুকনো-ও নয়। দান করুন যা মধ্যম (আকৃতির)। ধনভাণ্ডারের এক-পঞ্চমাংশ (যাকাতস্বরূপ বিধিবদ্ধ)। অবিবাহিত কেউ অবৈধ যৌনাচার করলে তাকে (শাস্তিস্বরূপ) এক’শ বেত্রাঘাত দিন এবং এক বছরের জন্যে নির্বাসনে পাঠান। বিবাহিত কেউ তা করলে এক দল মানুষ দ্বারা তাকে প্রস্তর নিক্ষেপ করুন। দ্বীন (ধর্ম)-এর ব্যাপারে শিথিল হবেন না, আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন হতেও টলবেন না। সকল ধরনের মাদক নিষিদ্ধ। ওয়া’ইল ইবনে হুজরকে কায়লস্-এর ওপর নিয়োগ করা হলো।”


❏ হযরত আনাস (رضي الله عنه)-এর কাছে প্রেরিত যাকাত সংক্রান্ত বিখ্যাত পত্রের সাথে ওপরের পত্রটি তুলনা করুন! মহানবী (ﷺ) এসব নির্দিষ্ট মানুষের নিজস্ব শব্দভাণ্ডারের পাশাপাশি তাঁদেরই রূপক-শৈলী ও সাধারণ ভাষাগত প্রকাশভঙ্গি বা অভিব্যক্তি ব্যবহার করে তাঁদের প্রতি অবতীর্ণ ঐশী বিধান তাঁদের কাছে স্পষ্ট ও বোধগম্য ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।


❏ ’আতিয়া আস্ সাদী (رحمة الله)'র কাছে ব্যক্ত এক হাদীসের সাথে ওপরের হাদীসটি মেলে যায়, যা’তে তিনি ইরশাদ ফরমান: “ওপরের হাত দাতার, আর নিচের হাত গ্রহীতার।” এই হাদীসেও তিনি তাঁদের প্রচলিত ভাষা ব্যবহার করেন। [আল-হাকীম, আল-বায়হাকী সমর্থিত]


❏ আল-আমিরী প্রার্থিত কোনো একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে হুযূর পাক (ﷺ) যে হাদীসটি বলেন, তাতে বনূ আমির গোত্রের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল।


মহানবী (ﷺ) প্রাত্যহিক যে ভাষণ দিতেন, তাঁর প্রসিদ্ধ বাগ্মিতা ও বোধগম্য ভাষায় প্রদত্ত বক্তব্য ও বাণী, এসব সম্পর্কে জ্ঞান বিশারদবৃন্দ অসংখ্য বইপত্র লিখেছেন এবং তাতে এসবের বাণী ও অর্থ বিধৃত হয়েছে। তাঁর ভাষণ ছিল অসমকক্ষ বাগ্মিতা ও অতুলনীয় প্রাঞ্জলতাপূর্ণ। এর উদাহরণ নিম্নরূপ:


❏ ”মুসলমানদের রক্ত একই। তাদের সবচেয়ে কম সংখ্যক তাদের সুরক্ষা দিতে পারে। অন্যান্য জাতির বিরুদ্ধে তারা একটা-ই হাত (-স্বরূপ)।” [আবূ দাউদ ও নাসাঈ]

❏ ”মানুষ হচ্ছে চিরুনির দাঁতের মতো।” [ইবনে লাল]

❏ ”যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে, সে তার সঙ্গে থাকে।” [মুসলিম ও আল-বুখারী]

❏ ”ওই সঙ্গ কল্যাণকর নয়, যা তোমাকে প্রদর্শন করে না সেসব জিনিস, যেগুলো তুমি তাকে প্রদর্শন করো।” [ইবনে ’আদী কর্তৃক দুর্বল এসনাদে বর্ণিত]

❏ ”মানুষ হচ্ছে স্বর্ণ ও রৌপ্যের খনিসদৃশ। জাহেলীয়া যুগে তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সে ব্যক্তি, যাকে দ্বীন ইসলামে শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করা হয়, যদি তাদের উপলব্ধি থাকে।” [মুসলিম ও আল-বোখারী]

❏ ”যে ব্যক্তি নিজের মূল্য বোঝে, সে বিনাশপ্রাপ্ত হয় না।” [ইবনে আস্ সাম’আনী]

❏ ”যে ব্যক্তির কাছে উপদেশ চাওয়া হয়, তিনি আস্থাভাজন পর্যায়ভুক্ত; আর তিনি মুখ না খোলা পর্যন্ত কী বলবেন তা পছন্দ করতেও সক্ষম।” [পূর্বোক্ত চার হাদীসবেত্তা এবং আল-হাকীম ও তিরমিযী বর্ণিত]

❏ ”আল্লাহ (ﷻ) তাঁর ওই বান্দার প্রতি করুণা প্রদর্শন করেন, যিনি ভালো কথা বলেন ও অর্জন করেন, অথবা যিনি নিরবতা পালন করেন ও নিরাপদ থাকেন।” [মুসলিম ও আল-বুখারী]


❏ ”তোমরা মুসলমান হও এবং নিরাপদ থাকো। মুসলমান হও এবং আল্লাহ পাক তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কৃত করবেন।” [প্রাগুক্ত মুসলিম ও আল-বুখারী]

❏ ”তোমাদের মধ্যে আমি যাদেরকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি এবং যারা পুনরুত্থান দিবসে আমার সবচেয়ে কাছে বসবে, তারা হলো সচ্চরিত্রবান – যারা (মানুষকে) আশ্রয় দেয়, সুরক্ষা দেয় এবং একতাবদ্ধ করে তথা মিলমিশ করিয়ে দেয়।” [আত্ তিরমিযী]

❏ ”হয়তো সে ব্যক্তি এমন বিষয়ে কথা বলতো যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং যা তাকে সমৃদ্ধ করেনি সে সম্পর্কে কৃপণতা অবলম্বন করেছে।” [আল-বায়হাকী]

❏ ”দু’মুখো ব্যক্তির কোনো মূল্যই আল্লাহ (ﷻ)'র কাছে নেই।” [মুসলিম ও আল-বুখারী]

❏ মহানবী (ﷺ) নিষেধ করেন, “গল্প-গুজব করা (আজে-বাজে কথা বলা), বেশি বেশি প্রশ্ন করা, ধনসম্পদ ও সম্পত্তি অপচয় করা, উপহারসামগ্রী নিষেধ করা, মায়ের প্রতি অবাধ্যতা এবং মেয়েদেরকে জীবিত কবর দেয়া।”


❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ ফরমান, “যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহকে ভয় করো। কোনো মন্দ কাজকে উত্তম কাজ দ্বারা মুছে ফেলো। আল্লাহ (ﷻ) মানুষকে উত্তম চরিত্রে (বৈশিষ্ট্যে) সৃষ্টি করেছেন।” 

[হযরত আবূ যর (رضي الله عنه) হতে সর্ব-ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (رحمة الله), তিরমিযী (رحمة الله), আল-হাকীম (رحمة الله) এবং আল-বায়হাকী (رحمة الله)] 


❏ ”সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচ্ছে মধ্যম পন্থা।” [ইবনে আস্ সাম’আনী]


❏ ”তুমি যাকে মহব্বত করো, তার সাথে নম্র আচরণ করবে, নচেৎ একদিন সে-ই হয়তো তোমার ঘৃণাকারী হতে পারে।” [হযরত আবূ হুরায়রাহ (رضي الله عنه) হতে আত্ তিরমিযী (رحمة الله) ও আল-বায়হাকী (رحمة الله)]


❏ ”পুনরুত্থান দিবসে অন্যায় অন্ধকার হিসেবে দৃশ্যমান হবে।” [মুসলিম ও আল-বুখারী]


❏ নবী করীম (ﷺ) তাঁর এক দোয়ায় আরয করেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছ থেকে আপনারই অনুগ্রহ প্রার্থনা করি যা দ্বারা আমার অন্তর হেদায়াত পাবে, আমার এলোমেলো বিষয়গুলো সংযুক্ত হবে আর সেগুলো সহজ-সরলও হয়ে যাবে, (উপরন্তু) আমার অদৃশ্য অংশ-ও সঠিক হবে এবং আমার দৃশ্যমান অংশ-ও সমুন্নত হবে, আর আমার কর্ম পরিশুদ্ধ হবে, যা দ্বারা আমি হেদায়াত তথা সঠিক পথের দিকে উদ্বুদ্ধ বা অনুপ্রাণিত হবো, আর (আপনার সাথে) আমার ঘনিষ্ঠতা-ও ফিরিয়ে দেয়া হবে, যা দ্বারা আমি প্রতিটি মন্দ হতে সুরক্ষিত থাকবো। হে আল্লাহ, ঐশী বিধান, শহীদানের খোরাক, আশীর্বাদপ্রাপ্তের জীবন এবং আমার শত্রুদের ওপর বিজয় লাভে উত্তম ফলাফলের ব্যাপারে আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি।” 

[হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে ইমাম তিরমিযী ও অন্যান্যরা। এসব ভাষ্য কেবল অর্থের কারণেই নয়, বরং আরবী ভাষাগত সৌন্দর্যের দিক থেকেও অসামান্য ]


এগুলো ছাড়াও মহানবী (ﷺ)-এর এমন অনেক বাণী, কথপোকথন/আলাপ, ভাষণ, দোয়া, মন্তব্য ও ওয়াদা/প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বর্ণনা করেছেন। তিনি যে এসব ক্ষেত্রে অতুলনীয় এক আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন, সে বাস্তবতার ব্যাপারে কোনো রকম মতপার্থক্যই কারো ছিল না। এক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যবিচার করাও অসম্ভব একটি বিষয়।


রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনন্য বাণী যা ইতিপূর্বে কোনো মুখেই উচ্চারিত হয়নি, তা-ও সংকলিত হয়েছে। কেউই কখনো সেগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে বা ফুটিয়ে তুলতে পারবে না।


যেমনটি তিনি (ﷺ) বলেন, 

❏ ”তুমুল যুদ্ধ বেধেছে।”

❏ ”সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।”

❏ “ঈমানদার একই পাথর দ্বারা দু’বার আঘাতপ্রাপ্ত (ক্ষতিগ্রস্ত) হয় না।”

❏ ”যে ব্যক্তি কারো সতর্কবাণী গ্রহণ করে, সে-ই সুখি হয়।”


এ ধরনের আরো বাণী আছে। কেউ এগুলো যাচাই করলে এতে নিহিত বিষয়াদি দেখে তিনি সতত চমৎকৃত হতে থাকবেন এবং এতে ধারণকৃত জ্ঞান-ও সুবিবেচনায় নেবেন।


❏ মহানবী (ﷺ)-এর সাহাবা-এ-কেরাম (رضي الله عنه) তাঁকে একবার বলেন, “আমরা আপনার চেয়ে বেশি বাগ্মী বা প্রাঞ্জল-ভাষী কাউকেই তো আর খুঁজে পাচ্ছি না।” তিনি উত্তর দেন, “এর ব্যতিক্রম কীভাবে হবে? আল-কুরআন তো আমার জিহ্বাতেই প্রকাশিত হয়েছে, যা স্পষ্ট আরবী-ভাষী এক জিহ্বা!” [আল-বায়হাকী]


❏ আরেকবার তিনি ﷺ ইরশাদ ফরমান, “আরবদের মধ্যে আমি-ই সবচেয়ে প্রাঞ্জল-ভাষী, কেননা আমি কুরাইশ বংশ হতে আবির্ভূত এবং বনূ সা’আদ গোত্রে লালিত-পালিত।” 

এই ব্যাপারটি তাঁকে নগরের অভিব্যক্তির সাবলীলতা ও সৌন্দর্য ধারণের পাশাপাশি মরু অঞ্চলের শক্তি ও নির্মলতা-ও দিয়েছিল। এগুলোর সাথে সমন্বিত হয়েছিল খোদায়ী সমর্থন, যা ঐশীবাণীর সাথী হয়েছিল, আর যা কোনো (মরণশীল) মানুষের পক্ষে উপলব্ধি করা একেবারেই অসম্ভব।


❏ উম্মে মা’আবাদ (رضي الله عنه) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “(তিনি ভাষণে ছিলেন) সুমধুর, স্পষ্ট; অতি অল্প বা অতি বেশি কথা তিনি বলতেন না। আর তাঁর ভাষণ ছিল যেন সুতোয় গাঁথা মুক্তোর মালা। তাঁর কণ্ঠস্বর-ও ছিল সুউচ্চ ও সুরেলা।”

________________

কিতাবঃ আশ শিফা [অসম্পূর্ণ]

মূল: ইমাম কাজী আয়াজ (رحمة الله)

অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন


সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন