মহানবী (ﷺ) যে সমগ্র মানবজাতির মাঝে যোগ্যতম সত্তা, মর্যাদার দিক দিয়ে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং সৎ গুণাবলী ও নৈতিকতায় সবচেয়ে পূর্ণতাপ্রাপ্ত ও নিখুঁত, এ বাস্তবতা গোপন করার কোনো উপায়-ই নেই। তাঁর নিখুঁত গুণাবলীর বিস্তারিত বিবরণ আমার সাধ্যমতো প্রদান করতে আমি এক্ষণে সচেষ্ট হবো; তবে এ পর্যায়ে তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্যের দিকে (সবার) মনোযোগ আকর্ষণ করতে আমার প্রাণ ব্যাকুল হয়ে ওঠেছে।
আল্লাহ (ﷻ) যেন আমার ও আপনার অন্তরকে আলোকিত করেন এবং এই মহান রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি আমার ও আপনার মহব্বত বৃদ্ধি করে দেন (আমীন)। জেনে রাখুন, আপনি যদি ওই সমস্ত অনুপম বৈশিষ্ট্য ও গুণের সবগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন, যা অর্জন করা অসম্ভব এবং যা কারো মৌলিক সত্তার অংশবিশেষ, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন মহানবী (ﷺ) এগুলোর সবই ধারণ করেছিলেন; অর্থাৎ, সমস্ত সৎ গুণেরই তিনি অধিকারী; আর এ ব্যাপারে হাদীস বর্ণনাকারীদের কোনো মতপার্থক্যই নেই।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শারীরিক সৌন্দর্য ও নিখুঁত হাত-পায়ের সামঞ্জস্য অসংখ্য নির্ভরযোগ্য আহাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর বর্ণনাকারী হচ্ছেন সর্ব-
▪হযরত আলী (رضي الله عنه),
▪আনাস বিন মালিক (رضي الله عنه),
▪আবূ হোরায়রাহ (رضي الله عنه),
▪আল-বারা’আ ইবনে আযিব (رضي الله عنه),
▪মা আয়েশা (رضي الله عنه),
▪ইবনে আবি হালা (رضي الله عنه),
▪আবূ জুহায়ফা (رضي الله عنه),
▪জাবের ইবনে সামুরা (رضي الله عنه),
▪উম্মে মা’বাদ (رضي الله عنه),
▪ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه),
▪মু’আররিদ ইবনে মু’আয়কিব (رضي الله عنه),
▪আবূত্ তোফায়ল (رضي الله عنه),
▪আল-ঈদা’ ইবনে খালিদ (رضي الله عنه),
▪খুরায়ম ইবনে ফাতেক (رضي الله عنه),
▪হাকীম ইবনে হিযাম (رضي الله عنه) এবং অন্যান্য মোহাদ্দেসীন।
হুযূরে আকরাম (ﷺ)-এর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল বর্ণের, গভীর কালো চোখযুগল বড় বড় ও রক্তিমাভ, আর চোখের ভ্রুগুলো লম্বা লম্বা; তাঁর গাত্রবর্ণ বিশেষ করে চেহারা ছিল উজ্জ্বল, টিকলো বা খাড়া নাকবিশিষ্ট; আর সামনের সারির দাঁতগুলোর মধ্যে ছিল ফাঁক। তাঁর মুখমণ্ডল ছিল গোল, ললাট প্রশ্বস্ত, আর ঘন শ্মশ্রুমণ্ডিত, যা বুক পর্যন্ত ছিল দীর্ঘ। তাঁর বুক ও পেট একই সমান (আকৃতির) ছিল; বক্ষ ও কাঁধ ছিল প্রশ্বস্ত। তাঁর হাড় ছিল দীর্ঘ, হাতও দীর্ঘ, হাত ও পায়ের পাতা ছিল ঘন, হাতের আঙ্গুল লম্বা, ফর্সা চামড়া, আর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত লোম ছিল। তিনি দীর্ঘকায় বা খাটো কোনোটাই ছিলেন না, বরঞ্চ দু’য়ের মাঝখানে ছিলেন। এতদসত্ত্বেও তাঁর সাথে হাঁটায় রত কোনো লম্বা ব্যক্তিকেই তাঁর চেয়ে লম্বা মনে হতো না। তাঁর চুল কোঁকড়াও ছিল না, আবার সোজাও ছিল না। হাসলে তাঁর দাঁত দেখা যেতো, যাকে মনে হতো বিদ্যুতের চমকের মতো, কিংবা শিলাবৃষ্টিতে শিলার মতো সাদা। তিনি কথা বল্লে তাঁর দাঁত মোবারক থেকে যেন আলো বের হতো। তাঁর পবিত্র ঘাড় ছিল ভালোভাবে গঠিত, যা প্রশ্বস্ত বা মোটা নয়। তাঁর জিসম (শরীর) মোবারক ছিল ঘনভাবে বিন্যস্ত যা আবার মাংসল ছিল না।
❏ আল-বারা’আ (رضي الله عنه) বলেন, “আমি লাল জুব্বার ওপর এলানো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চুল মোবারকের চেয়ে সুন্দর আর কারো চুল (জীবনে) দেখিনি।”
❏ হযরত আবূ হোরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, “আমি মহানবী (ﷺ)-এর চেয়ে সুন্দর আর কাউকেই দেখিনি। তাঁর চেহারা মোবারকে যেন সূর্য কিরণ ছড়াতো। তিনি হাসলে দেয়ালে তা প্রতিফলিত হতো।”
❏ হযরত জাবের ইবনে সামুরা (رضي الله عنه)-কে জিজ্ঞেস করা হয়: “রাসূল (ﷺ)-এর চেহারা মোবারক কি তরবারির মতো ছিল দেখতে?” তিনি উত্তর দেন, “না, তা ছিল চাঁদ ও সূর্যসদৃশ; গোলাকৃতির” [আল-বোখারী ও মুসলিম এবং অন্যান্য মুহাদ্দেসীন]।
❏ হযরত উম্মে মা’বাদ (رضي الله عنه) তাঁর বর্ণনায় বলেন, “দূর থেকে দেখতে তিনি ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর, আর কাছ থেকে অনিন্দ্য সুন্দর” [আল-বায়হাকী]।
❏ ইবনে আবি হালা (رضي الله عنه) বলেন, “তাঁর মুখমণ্ডল চাঁদের মতোই কিরণ ছড়াতো।”
❏ হযরত আলী (رضي الله عنه) নিজ বর্ণনার শেষে বলেন, “কেউ তাঁকে হঠাৎ দেখলে শ্রদ্ধাপ্লুত হতেন। তাঁর সান্নিধ্য লাভকারী ব্যক্তিবৃন্দ তাঁকে মহব্বত করতেন।”
মহানবী (ﷺ)-এর বর্ণনাকারী সবাই এ কথা বলেছেন যে তাঁরা ইতিপূর্বে বা পরবর্তী সময়ে এমন কাউকেই দেখেননি।
বস্তুতঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বর্ণনাসম্বলিত অনেক প্রসিদ্ধ হাদীস বিদ্যমান। আমরা এখানে সবগুলো বিবৃত করার সময় নেবো না। তাঁর এসব বর্ণনার কয়েকটি দিক নিয়েই আমরা নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রেখেছি এবং এগুলোর একটি সংক্ষিপ্তসার পেশ করেছি, যা আমাদের উদ্দেশ্য সাধনে যথেষ্ট।
ইনশা’আল্লাহ আমরা এই পরিচ্ছেদগুলোর শেষে (অপর) একখানা হাদীস বর্ণনা করবো, যা’তে এসব বিষয়ের পুরোটুকুই সংযুক্ত থাকবে।
________________
কিতাবঃ আশ শিফা [অসম্পূর্ণ]
মূল: ইমাম কাজী আয়াজ (رحمة الله)
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন