জা’আল হক (প্রথমাংশ)


প্রথম অধ্যায়:

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

❏‘তাফসীরে খাযেনে’ আছে,


لَكِنَّ اللهَ يَصْطَفِىْ وَبَخْتَارُ مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يُّشَاءُ فَيُطْلِعُهُ عَلَى بَعْضِ عِلْمِ الْغَيْبِ


-‘‘কিন্তু আল্লাহ তা’আলা রাসূলগণের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছে করেন মনোনীত করেন, আংশিক ইলমে গায়ব সম্পর্কে তাঁদেরকেই অবহিত করেন।’’

{ইমাম খাযেনঃ তাফসীরে খাযেনঃ ১/৩০৮ পৃ.}


❏‘তাফসীরে কাবীরে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে,


فَاَمَّا مَعْرَفَةُ ذَلِكَ عَلَى سَبِيْلِ الْاِعْلاَمِ مِنَ الْغَيْبِ فَهُوَ مِنْ خَوَاصِّ الْاَنْبِيَاءِ


-‘‘খোদা প্রদত্ত অদৃশ্য জ্ঞানের ফলশ্রুতি স্বরূপ সে সমস্ত অদৃশ্য বিষয়াদি জেনে নেয়া নবীগণ (ﷺ) এরই বৈশিষ্ট্য।’’


❏জুমুলে উল্লে­খিত আছে,


اَلْمَعْنَى لَكِنَّ اللهَ يَجْتَبِىْ اَنْ يَصْطَفِىَ مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يَّشَاءُ فَيُطْلِعُهُ عَلَى الْغَيْبِ


-‘‘আয়াতের অর্থ হলো, আল্লাহ তা’আলা রাসূলগণের মধ্যে যাঁকে ইচ্ছে করেন, মনোনীত করেন। অতঃপর তাঁকে গায়ব সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন।’’ 

{ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীঃ তাফসীরে কবীরঃ ৯/১১১ পৃ.}

   

❏তাফসীরে জালালাইনে উল্লে­খিত আছে,


{وَمَا كَانَ اللَّه لِيُطْلِعكُمْ عَلَى الْغَيْب} فَتَعْرِفُوا الْمُنَافِق مِنْ غَيْره قَبْل التَّمْيِيز {وَلَكِنَّ اللَّه يَجْتَبِي} يَخْتَار {مِنْ رُسُله مَنْ يَشَاء} فَيُطْلِعهُ عَلَى غَيْبه كَمَا أَطْلَعَ النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حَال الْمُنَافِقِينَ


-‘‘আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে গায়ব সম্পর্কে অবহিত করবেন না, যা’তে মুনাফিকদেরকে আল্লাহ কতর্ৃক পৃথকীকরণের পূর্বেই তোমরা চিনতে না পার, কিন্তু আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছে করেন, তাঁকে মনোনীত করেন, তাঁর অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন যেমন নবী করীম (ﷺ)কে মুনাফিকদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন।’’

{ইমাম জালালুদ্দীন সূয়তীঃ তাফসীরে জালালাইনঃ ৯২ পৃ.}



❏তাফসীরে ‘রূহুল বয়ানে’ আছে,


فَاِنَّ غَيْبَ الْحَقَائِقِ وَالْاَحْوَالِ لاَ يَنْكَشِفُ بِلاَ وَاسِطَةِ الرَّسُوْلِ


-‘‘কেননা, রাসূল (ﷺ) এররহস্যাবৃত অবস্থাও মৌলতত্ত্ব প্রকাশ করা হয় না।

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ২/১৬২ পৃ.}


এ আয়াত ও ব্যাখ্যাসমূহ থেকে বোঝা গেল যে, খোদার খাস ইলমে গায়ব রাসূলের নিকট প্রকাশিত হয়। কোন কোন তাফসীরকারক, যে ইলমে গায়বের কিয়দংশের কথা বলেছেন, এ ‘কিয়দংশ’ কথাটি দ্বারা আল্লাহর অসীম জ্ঞানের তুলনায় নবীর অদৃশ্য জ্ঞানকে ‘কিঞ্চিত পরিমাণ’ বলা হয়েছে। কেননা সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকে যা কিছু ঘটছে ও যা ঘটবে, এর সম্পূর্ণ জ্ঞানও আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় আংশিক বা যৎসামান্যই বটে।




(৭) وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا


-‘‘এবং আপনাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, যা’ আপনি জানতেন না। আপনার উপর আল্লাহর এটি একটি বড় মেহেরবাণী।’’

{সূরাঃ নিসা, আয়াতঃ ১১৩}

   

❏তাফসীরে জালালাইনে এ আয়াতের তাফসীরে লিখা হয়েছে,


اَىْ مِنَ اْلاَحْكَامِ وَالْغَيْبِ


-‘‘যা’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানতেন না, তা হচ্ছে ধর্মের অনুশাসন ও অদৃশ্য বিষয়াদি।’’

{ইমাম জালালুদ্দীন সূয়তীঃ তাফসীরে জালালাইনঃ ৯৭পৃ.}



❏‘তাফসীরে খাযেনে’ আছে,


اَنْزَلَ اللهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَاَطْلَعَكَ عَلَى اَسْرَارِ هِمَا وَوَافَقَكَ عَلَى حَقَائِقِهِمَا


-‘‘আল্লাহ তা’আলা আপনার উপর কুরআন ও হিকমত (জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শন) অবতীর্ণ করেছেন, উহাদের গুপ্ত ভেদসমূহ উদ্ভাসিত করেছেন এবং উহাদের হাকীকত সমূহ সম্পর্কেও আপনাকে অবহিত করেছেন।’’

{ইমাম খাযেন, তাফসীরে খাযেন}

 

❏‘তাফসীরে মাদারেকে’ উল্লে­খিত আছে,


يَعْنِىْ مِنْ اَحْكَامِ الشَّرْعِ وَاُمَوْرِ الدِّيْنَ وَقِيْلَ عَلَّمَكَ مِنْ عِلْمِ الْغَيْبِ مَالَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَقِيْلَ مَعْنَاهُ عَلَّمَكَ مِنْ خَفِيَّاتِ الْاُمُوْرِ وَاَطْلَعَكَ عَلَى ضَمَائِرِ الْقُلُوْبِ وَعَلَّمَكَ مِنْ اَحْوَالِ الْمُنَافِقِيْنَ وَكَيْدِهِمْ


-‘‘শরীয়তের আহকাম ও ধর্মীয় বিষয়াদি আপনাকে শিখিয়েছেন। বলা হয়েছে যে, আপনাকে ইলমে গায়বের আওতাভুক্ত সে সমস্ত বিষয়াদিও শিখিয়েছেন, যা’ আপনি জানতেন না। আরও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো আপনাকে রহস্যাবৃত, গোপণীয় বিষয়সমূহ শিখিয়েছেন, অন্তরের লুকায়িত বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেছেন, মুনাফিকদের ধোকাবাজি ও বাওতাবাজি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

{ইমাম নাসাফীঃ তাফসীরে মাদারিকঃ ১/২৮২ পৃ.}



❏‘তাফসীরে মাদারেকে’ আরও আছে,


مِنْ اُمَوْرِ الدِّيْنِ وَالشَّرَ ائِعِ اَوْمِنْ خَفِيَّاتِ الْاُمُوْرِ وَضَمَاِئرِ القُلُوْبِ


-‘‘দ্বীন ও শরীয়তের বিষয়সমূহ শিখিয়েছেন আপনাকে এবং গোপনীয় বিষয়াদি ও মানুষের অন্তরের গোপণীয় ভেদ ইত্যাদিও শিখিয়ে দিয়েছেন।’’

 { ইমাম নাসাফীঃ তাফসীরে মাদারিকঃ ১/২৮২ পৃ.}


❏তাফসীরে হুসাইনী এ আয়াতের ব্যাখ্যা বাহরুল হাকায়েক’ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে,


اں علم ماكان ومايكون هست كه حق سبحانه درشب اسرا بداں حضرت عطافرمود، چنانچه درحديث معراج هست كه من درزير عرش بودم قطره درخلق من ريختند فَعَلِمْتُ مَا كَانَ وَمَا يَكُوْنَ


এটা হচ্ছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যাবতীয় বিষয়ের জ্ঞান, যা’ আল্লাহ তা’আলা হুজুর (ﷺ)কে পবিত্র মি’রাজের রজনীতে দান করেছিলেন। এ মর্মে মেরাজের হাদীছে উল্লে­খিত আছে, আমি আরশের নিচে ছিলাম, তখন একটি ফোটা আমার কণ্ঠনালীতে ঢেলে দেওয়া হল, এরপর আমি অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত ঘটনাবলীর জ্ঞান লাভ করলাম।

{আল্লামা মঈনুদ্দীন কাশেফীঃ তাফসীরে হুসাইনীঃ ১/১৯২ পৃ.}

   

❏‘জামেউল বয়ান’ তাফসীর গ্রন্থে আছে-


قَبْلَ نُزُوْلِ ذَلِكَ مِنْ خَفِّيَاتِ الْاُمُوْرِ


-‘‘আপনাকে সে সমস্ত বিষয় আল্লাহ বলে দিয়েছেন, যা’ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার আগে আপনার জানা ছিল না।’’

{ইমাম ত্ববারীঃ জামিউল বয়ানঃ ৫/২৭০ পৃ.}

   

এ আয়াত ও বর্ণিত ব্যাখ্যা সমূহ থেকে বোঝা গেল যে, হুজুর (ﷺ)কে অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। আরবী ভাষায় مَا শব্দটি ব্যাপকতা প্রকাশের নিমিত্তে ব্যবহৃত হয়। তাই উক্ত আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, শরীয়তের বিধি বিধান, দুনিয়ার সমস্ত ঘটনাবলীর, মানুষের ঈমানী অবস্থা ইত্যাদি, যা’ কিছু তাঁর জানা ছিল না, তাঁকে সম্যকরূপে অবগত করান হয়। “কেবলমাত্র ‘ধর্মীয় বিধানাবলীর’ জ্ঞান দান করা হয়েছিল” আয়াতের এরূপ সীমিত অর্থ গ্রহণ করা মনগড়া ভাবার্থ গ্রহণ করার নামান্তর, যা’ কুরআন, হাদীছ ও উম্মতের আকীদার পরিপন্থী। এ সম্বন্ধে সামনে আলোচনা হবে।




(৮) مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ


আমি এ কিতাবে (কুরআনে) কিছু বাদ দিইনি।

{সূরাঃ আনআম, আয়াতঃ ৩৮}

   

❏ইমাম খাযেন এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন-


اِنَّ الْقُرْاَنَ مُشْتَمِلٌُ عَلَى جَمِنْعِ الْاَحْوَالِ


কুরআন করীমে সমস্ত অবস্থার বিবরণ রয়েছে।

{ইমাম খাযেনঃ তাফসীরে খাযেনঃ ২/১১১ পৃ.}

   

❏‘তাফসীরে আনওয়ারুত তানযীলে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে,


يَعْنِى اللَّوْحَ الْمَحْفُوْظَ فَاِنَّهُ مَشْتَمِلُّ عَلَى مَايَجْزِىْ فِىْ الْعَالَمِ مِنْ جَلِيْلٍ وَّدَقِيْقٍ لَمْ يُهْمَلْ فِيْهِ اَمْرُ حَيْوَانٍ وَلاَ جَمَادٍ


-‘‘কিতাব’ শব্দ দ্বারা লওহে মাহফুজকেই নির্দেশ করা হয়েছে। কেননা, এ লওহে মাহফুজে জগতের সমস্ত কিছুই উল্লে­খিত, প্রত্যেক প্রকাশ্য, সূক্ষ্ম বিষয় বা বস্তু, এমনকি, কোন জীব জন্ত বা জড় পদার্থের কথাও বাদ দেয়া হয়নি।’’

{ইমাম খাযেনঃ তাফসীরে খাযেনঃ ২/১১১ পৃ.}


❏‘তাফসীরে আরায়েসুল বয়ানে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,


اَىْ مَافَرَّطْنَا فِى الْكِتَابِ ذِكْرَ اَحَدٍ مِنَ الْخَلْقِ لَكِنْ لاَ يَبْصُرُ ذِكْرَهُ فِى الْكِتَابِ اِلاَ الْمُؤْيَّدُوْنَ بِاَنْوَارٍ الْمَعْرِفَةِ


অর্থাৎ- এ ‘কিতাবে’ সৃষ্টিকূলের কোন কিছুরই কথা বাদ রাখা হয়নি, কিন্তু মারেফতের আলোকে মদদপুষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া তা’ কারো দৃষ্টি গোচর হয় না।


❏প্রখ্যাত সূফী ইমাম শা’রানী (রহমতুল্লাহে আলাইহে) ‘তবকাতে কুবরার’ মধ্যে লিখেছেন (ইদখালুস সেনান’ গ্রন্তের ৫৫ পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত।)


وَلَوْ فَتَحَ اللهُ عَنْ قُلُوْبِكُمْ اَقْفَالَ السُّدَدِ لاَطُّلَعْتُمْ عَلَى مَافِى الْقُرْاَنِ مِنَ الْعُلُوْمِ وَاسْتَغْنَيَمْ عَنِ النَّظْرِ فِىْ سِوَاهُ فَاِنَّ فِيْ جَمِيْعِ مَارُقِمَ فِىْ صَفْحَاتِ الْوُجُوْدِ قَالَ اللهُ تَعَالَى مَافَرَّطْنَافِى الْكِتَابِ مِنْ شَئٍّ


-‘‘যদি আল্লাহ তা’আলা তোমাদের হৃদয়ের তালাবদ্ধ প্রকোষ্টের তালা খুলে দেন, তাহলে তোমরা কুরআনের জ্ঞান-ভান্ডারের সন্ধান পাবে এবং কুরআন ভিন্ন অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হতে হবে না। কেননা কুরআনের মধ্যে অস্তিত্ববান সব কিছুই বিধৃত আছে। আল্লাহ তা’আলা ফরমান, এমন কিছু নেই, যা আমি কুরআনে বর্ণনা করিনি।’’


এ আয়াত ও এর বর্ণিত তাফসীর সমূহ থেকে বোঝা গেল যে, ‘কিতাবের’ মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত অবস্থার কথা বিদ্যমান আছে। ‘কিতাব’ বলতে কুরআন বা লওহে মাহফুজকে বোঝানো হয়েছে। কুরআন হোক বা লওহে মাহফুজ হোক, উভয়ের জ্ঞান হুজুর (ﷺ) এর  আছে। এ সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ফলস্বরূপ, দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় বিষয় হুজুর (ﷺ) এর  জানা আছে। কেননা কুরআন ও লওহে মাহফুজ সমস্ত জ্ঞানের আধার, উভয়টি সম্পর্কে হুযুর পুর-নুর (ﷺ) ওয়াকিবহলা।



(৯) وَلاَرَطَبٍ وَّلاَ يَابِسٍ اِلاَّفِىْ كِتَابٍ مُّبِيْنٍ.


-‘‘এবং শুষ্ক ও আর্দ্র এমন কিছুই নেই, যা উজ্জ্বল ‘কিতাবে’ লিপিবদ্ধ হয়নি।’’

{সূরাঃ আনআম, আয়াতঃ ৫৯, পারাঃ ৭}

   

❏‘তাফসীরে ‘রূহুল বয়ানে’ উক্ত আয়াতের তাফসীর এভাবে করা হয়েছে,


هُوَ اللَّوْحُ الْمَحْفُوْظُ فَقَدْ ضَبَطَ اللهُ فِيْهِ جَمِيْعَ الْمَقْدُوْرَاتِ الْكَوْنِيَّةِ لِفَوَائِدِ تَرْجِعُ اِلَى الْعِبَادِ يَعْرِ فُهَا الْعُلَمَاءُ بِاللهِ


-‘‘উজ্জ্বল কিতাব’ দ্বারা লওহে মাহফুজের কথাই বলা হয়েছে। এতে আল্লাহ তা’আলা বান্দার কল্যাণার্থে সম্ভাব্য সকল বিষয় একত্রিত করেছেন। উলামায়ে রব্বানীই এসব বিষয়ে অবগত।’’

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বয়ানঃ ৩/৫৭ পৃ.}

   

❏‘তাফসীরে কাবীরে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে,


وَفَائِدَةُ هَذَا الْكِتَابِ أُمُورٌ: أَحَدُهَا: أَنَّهُ تَعَالَى إِنَّمَا كَتَبَ هَذِهِ الْأَحْوَالَ فِي اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ لِتَقِفَ الْمَلَائِكَةُ عَلَى نَفَاذِ عِلْمِ اللَّه تَعَالَى فِي الْمَعْلُومَاتِ وأنه لا يغيب عنه مما في السموات وَالْأَرْضِ شَيْءٌ. فَيَكُونُ فِي ذَلِكَ عِبْرَةٌ تَامَّةٌ كَامِلَةٌ لِلْمَلَائِكَةِ الْمُوَكَّلِينَ بِاللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ لِأَنَّهُمْ يُقَابِلُونَ بِهِ مَا يَحْدُثُ فِي صَحِيفَةِ هَذَا الْعَالَمِ فَيَجِدُونَهُ مُوَافِقًا لَهُ


-‘‘(লওহে মাহফুজে) এ ধরনের লিখার পিছনে কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমতঃ আল্লাহ তা’আলা ওই সমস্ত বিষয়াদি লওহে মাহফুজে এ জন্য লিখেছেন, যা’তে ফিরিশতাগণ সর্বাবস্থায় খোদার ইলম জারী হওয়া সম্পর্কে অবগত হন। সুতরাং এটা লওহে মাহফুজের দায়িত্বে নিয়োজতি ফিরিশতাগণের জন্য পুরোপুরি শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে পরিণত হয়। কেননা তাঁরা জগতে নিয়ত ঘটমান নতুন নতুন বিষয়কে ওই লিখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেনও লওহে মাহফুজের লিখার অনুরূপ সবকিছু সংঘটিত হতে দেখতে পান।’’

{ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীঃ তাফসীরে কবীরঃ ৫/১২ পৃ.}

   

❏তাফসীরে খাযেনে এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিখা হয়েছে,


وَالثَّاِنِى اَنَّ الْمُرَادَ بِالْكِتَابِ الْمُبِيْنَ هُوَ اللَّوْحُ الْمَحْفُوْظُ لِاَنَّ اللهُ كَتَبَ فِيْهِ عِلْمَ مَايَكُوْنَ وَمَاقَدْ كَانَ قَبْلَ اَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَتِ وَالْاَرْضَ وَفَائِدَةُ اِحْصَاءِ الْاَشْيَآءِ كُلِّهَا فِىْ هَذَا الْكِتَابِ لِتَقِفَ الْمَلَئِكَةُ عَلَى اِنْفَاذِ عِلْمِهِ


-‘‘দ্বিতীয় অর্থে كِتَبٌُ مُبِيْنَ বলতে লওহে মাহফুজকে বোঝানো হয়েছে। কেননা যা কিছু হবে এবং আসমান যমীন সৃষ্টির পূর্বে যা কিছু হয়েছে, আল্লাহ তা’আলা সব কিছুর বিবরণ এতে লিখে দিয়েছেন। এসব কিছু লিখার উপকারিতা হলো ফিরিশতাগণ তাঁর (আল্লাহর) জ্ঞান জারী করার বিষয়ে অবগতি লাভ করতে সক্ষম হন।

{ইমাম খাযেনঃ তাফসীরে খাযেনঃ ২/১১৯ পৃ.}


❏‘তাফসীরে মাদারেকে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লে­খ করা হয়েছে وَهُوَ عِلْمُ اللهِ اَوِالْلَوْحِ অর্থাৎ- আয়াতে উল্লে­খিত ‘উজ্জ্বল কিতাব’ দ্বারা খোদার জ্ঞান বা লওহে মাহফুজকে নির্দেশ করা হয়েছে। 

{ইমাম নাসাফীঃ তাফসীরে মাদারিকঃ ১/৩৬৩ পৃ.}



❏‘তাফসীরে তানভীরুল মিক্কাস ফি তাফসীরে ইবনে আব্বাসে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লে­খিত আছে,


كُلُّ ذَلِكَ فِى اللَّوْحِ الْمُحْفُوْظِ مُبِيْنٌُ مِقْدَارُهَا وَوَقْتُهَا


-‘‘এসব বিষয় লওহে মাহফুজে উল্লে­খিত আছে। অর্থাৎ সে সব কিছুর পরিমাণ ও সময় উল্লে­খিত আছে।’’

{ইবনে আব্বাস, তাফসীরে ইবনে আব্বাসঃ ১/১৪২ পৃষ্ঠা.}

   

উল্লে­খিত আয়াত ও এর তাফসীর সমূহ থেকে প্রতীয়মান হলো যে, লওহে মাহফুজে কঠিন, তরল, উৎকৃষ্ট, নিকৃষ্ট প্রত্যেক কিছুর উল্লে­খিত আছে। এ লওহে মাহফুজ সম্পর্কে ফিরিশতা ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ সম্যকরূপে অবগত। যেহেতু এসব হুজুর (ﷺ) এর  জ্ঞানের অন্তভুর্ক্ত, সেহেতু, এ সমস্ত জ্ঞান হুজুর (ﷺ) এর  জ্ঞান সমুদ্রের কয়েক ফোঁটা মাত্র।



(১০) نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًالِكُلِّ شَئٍى


-‘‘হে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যা প্রত্যেক কিছুর সুস্পষ্ট বিবরণ সম্বলিত।’’

{সূরাঃ নাহল, আয়াতঃ ৮৯, পারাঃ ১৪}

   

❏‘তাফসীরে হুসাইনী’তে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লে­খিত আছে,


نزلنا فر ستاديم، عليك الكتاب برتوقر ان بتبيانالكل شئ بيان روشن برائے همه چيز ازامورين ودنيا تفصيل واجمال


-‘‘আমি আপনার কাছে দ্বীন-দুনিয়ার প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় ভরপুর কুরআন অবতীর্ণ করেছি।

{আল্লামা মঈনুদ্দীন কাশেফীঃ তাফসীরে হুসাইনীঃ সূরা নাহলঃ ৮৯}

   

❏তাফসীরে ‘রূহুল বয়ানে’ এ আয়াতের তাফসীরে উল্লে­খিত আছে-


يَتَعَلَّقُ بِاْمُوْرِ الدِّيْنِ مِنْ ذَلِكَ اَحْوَالُ الْاُمَمِ وَاَنْبِيَاءِهِمْ


-‘‘ধর্মীয় বিষয় সমূহের সহিত সম্পৃক্ত বিবরণের জন্য (কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে)। এতে উম্মত ও তাদের নবীগণের অবস্থাও অন্তভুর্ক্ত।’’

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ৫/৮৫ পৃ.}

   

❏তাফসীরে ‘ইতকানে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লে­খিত আছে,


قَالَ الْمُجَاهِدُ يَوْمًا مَامِنْ شَيْئٍ فِى الْعَالَمٍ اِلَّاهُوَفِىْ كِتَابِ اللهِ فَقِيْلَ لَهُ فَاَيْنَ ذِكْرُ الْخَانَاتِ فَقَالَ فِىْ قَوْلِهِ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌُ اَنْ تَدْخُلُوْا بُيُوْتًا غَيْرَ مَسْكُوْنَةٍ فِيْهَا مَتَاعٌُ لَّكُمْ


-‘‘একদিন হযরত মুজাহিদ (রহমতুল্লাহে আলাইহে) বলেছিলেন, জগতে এমন কোন জিনিস নেই, যার উল্লে­খ কুরআনে নেই। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ সরাইখানা সমূহের উল্লে­খ কোথায় আছে?


তখন তিনি বললেন,


 لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنُاحً اَنْ تَدْخُلُوْ بُيُوْتًا غَيْرَ مَسْكُوْنَةٍ


এ আয়াতেই উহাদের উল্লে­খ আছে। আয়াতটির অর্থ হলোঃ যেসব ঘরে কেউ থাকে না, অথচ যেখানে তোমাদের আসবাবপত্র, সাজসরঞ্জাম রাখা হয়, সে সমস্ত ঘরে প্রবেশ করলে তোমাদের কোন গুনাহ হবে না।’

{আল্লামা ইমাম জালালুদ্ধীন সূয়তীঃ আল-ইতকানঃ ২/১৬০ পৃ.}

   

এ আয়াত ও এর ব্যাখ্যা সমূহ থেকে এ কথাই বোঝা গেল যে, কুরআনের মধ্যে উৎকৃষ্ট-নিকৃষ্ট প্রত্যেক কিছুর উল্লে­খ আছে। আল্লাহ তা’আলা তাঁর মাহবুব (ﷺ)কে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।


সুতরাং সমস্ত কিছুই হযরত মুস্তাফা (ﷺ)র জ্ঞানের আওতাধীন।



(১১) وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ


-‘‘এবং লওহে মাহফুজে যা কিছু লিখা আছে, কুরআনে তার বিস্তৃতি বিবরণ রয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই।’’

{সূরাঃ ইউনূস, আয়াতঃ ৩৭, পারাঃ ১১}


❏তাফসীরে ‘জালালাইনে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে,


تَفْصِيْلَ الْكِتَابِ يُبُيَّنُ مَاكَتَبَ اللهُ تَعَالَى ِمَن اْلَاْحَكاِم َوَغْيِرهَا


-‘‘ইহা বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ। এতে আল্লাহ তা’আলার লিখিত বিধানাবলী ও অপরাপর বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।’’ 

{আল্লামা জালালুদ্ধীন সূয়তীঃ তাফসীরে জালালাইনঃ ২৭২ পৃ.}


❏‘জুমুলে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আছে,


اَىْ فِى اللَّوْحِ الْمَحْفُوْظِ.


-‘‘লওহে মাহফুজে সবকিছুই বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে।


❏তাফসীরে ‘রূহুল বয়ানে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে,


اَىْ وَتَفْصِيْلَ مَا حُقِّقَ وَاُثْبِتَ مِنَ الْحَقَائِقِ وَالشَّرَائِعِ وَفِى التَّاوِيْلاَتِ النَّجْمِيَّةِ اَىْ تَقْصِيْلَ الْجُمْلَةِ الَّتِىْ هِىَ الْمُقَدَّرُ الْمَكْتُوْبُ فِى الْكِتَبِ الَّذِىء لاَ يَتَطَرَّقُ اِلَيْهِ الْمَحْوُ وَاْلاَثْبَاتُ لاِنَّهُ اَزَلِىُّ وَاَبَدِىٌُّ


-‘‘এ কুরআন হচ্ছে শরীয়ত ও হাকীকতের প্রমাণিত বিষয়সমূহের বিশে­ষণ। ‘তাবীলাতে নজ্মিয়া’তে উল্লে­খিত আছে যে, কুরআনে সে সমস্ত বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যা’ অদৃষ্টে আছে, এবং যা’ সেই কিতাবে (লওহে মাহফুজ) লিপিবদ্ধ রয়েছে, যেখানে কোনরূপ রদবদলের অবকাশ নেই। কেননা এটা অনাদি ও অনন্ত।’’

{আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ৪/৬৪ পৃ.}   


উপরোক্ত আয়াত ও ব্যাখ্যাসমূহ থেকে প্রমাণিত হলো যে, কুরআন শরীফে শরীয়তের অনুশাসন সমূহ ও সমস্ত জ্ঞান মওজুদ আছে। এ আয়াত থেকে আরও বোঝা গেল যে, কুরআন শরীফে পুরা লওহে মাহফুজের বিস্তারিত বিবরণ আছে। আর লওহে মাহফুজ হচ্ছে সমস্ত জ্ঞানের আকর।


❏কুরআনেই উল্লে­খিত আছে,


وَلاَ رَطَبٍ وَّلاَ يَابِسٍ اِلاَّفِىْ كِتَابٍ مُّبِيْنِ


❏এবং কুরআনে আরও এরশাদ করা হয়েছে,


اَلَرً حْمَنُ عَلَّمَ الْقُرْاَنَ


সুতরাং, লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ সমস্ত কিছুর জ্ঞান হুযুর পুর-নুর (ﷺ)এর রয়েছে। কেননা, কুরআন হচ্ছে লওহে মাহফুজেরই বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ।



(১২) مَا كانَ حَدِيثاً يُفْتَرى وَلكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ


-‘‘এ কোন বানোওয়াট কথা নয়, এতে রয়েছে আল্লাহর আগের উক্তি সমূহের সত্যায়ন ও প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা।’’

{সূরাঃ ইউসূফ, আয়াতঃ ১১১, পারাঃ ১৩}     


❏তাফসীরে ‘খাযেনে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে,


يَعْنِىْ فِىْ هَذَا الْقُرْآَنِ الْمُنَزَّلِ عَلَيْكَ يَامُحَمَّدُ تَفْصِيْلُ كُلِّ شَيْئٍى تَحْتَاجُ اِلَيْهِ مِنَ الْحَلاَلِ وَالْحَرَامِ وَالْحُدُوْدِ وَالْاَحَكَامِ وَالْقَصَصِ وَالْمَوَا عِظِ وَآلاَمَثَالِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يَحْتَاجُ اِلَيْهِ الْعِبَادُ فِىْ اَمْرِ دِيْنِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ


-‘‘(হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার নিকট অবতীর্ণ এ কুরআনে রয়েছে সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হালাল-হারাম, শাস্তি বিধান, আহকাম, কাহিনী সমূহ, উপাদেশাবলী ও উদাহরণসমূহ, মোট কথা, যা’ কিছু আপনার প্রয়োজন হয় আর এগুলো ছাড়াও ধর্মীয় ও পার্থিব কর্মকান্ডে বান্দাদের যে সমস্ত বিষয়াদি প্রয়োজন হয়, সবকিছুর বিবরণ ওই কুরআনেই পাওয়া যাবে।’’

{ইমাম খাযেনঃ লুবাবুত তাভীলঃ ২/৫৬২ পৃ.

   

❏তাফসীরে ‘হুসাইনী’ তে আছে,


وَتَقْصِيْلُ كُلِّ شَيْئٍ، وبيان همه چيزهاكه محتاج بلشد دردين ودنيا


-‘‘দ্বীন-দুনিয়ার প্রয়োজনীয় সবকিছুর বর্ণনা এ কুরআনের মধ্যে আছে।’’ 

{ইমাম বগভীঃ মা’আলেমুত তানযীলঃ ৪/২৬৭ পৃ.}


❏ইবনে সুরাকা প্রণীত ‘কিতাবুল ই’জাযে আছে,


مَامِنْ شَيْئٍ فِى الْعَالَمِ اِلَّاهُوَ فِىْ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى


-‘‘জগতে এমন কোন কিছু নেই, যা’ কুরআনের মধ্যে নেই।’’




(১৩)اَلرَّحْمَنُ. عَلَّمَ الْقُرْاَنَ. خَلَقَ الْاِنْسَانَ. عَلَّمَهُ الْبَيَانَ


-‘‘দয়াবান আল্লাহ তা’আলা স্বীয় মাহবুবকে কুরআন শিখিয়েছেন, মানবতার প্রাণতুল্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সৃষ্টির পূর্বাপর সব কিছুর তাৎপর্য বাতলে দিয়েছেন।

{সূরা  রাহমান, আয়াতঃ ১-৪}

   

❏তাফসীরে ‘মাআলেমুত-তানযীল’ ও ‘হুসাইনী’তে এ আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে নিম্নরূপ,


خَلَقَ الْاِنْسَانَ اَىْ مُحَمَّدً عَلَيْهِ السَّلاَمُ عَلَمَّهُ الْبَيَانَ. يَعْنِىْ بَيَانَ مَاكَانَ وَمَا يَكُوْنَ


-‘‘আল্লাহ তা’আলা মানবজাতি তথা মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত বিষয়ের বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন।’’

{মোল্লা মুঈন কাশেফীঃ তাফসীরে হুসাইনীঃ সূরাঃ ইউসূফ, আয়াতঃ ১১১}

   

❏‘তাফসীরে খাযেনে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে,


قِيْلَ اَرَادَ بِالْاِنْسَانِ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ يَعْنِىْ بَيَانَ مَاكَانَ وَمَايَكُوْنَ لِانَّهُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ نَبِّى عَنَ خَبْرِ الْاُوَّلِيَنَ وَالْاَخِرِيْنَ وَعَنْ يَوْمِ الدِّيْنِ


-‘‘বলা হয়েছে যে, (উক্ত আয়াতে) ‘ইনসান’ বলতে হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে বোঝানো হয়েছে। তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব বিষয়ের বিবরণ শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কেননা, তঁাকে পূর্ববতী ও পরবর্তীদের ও কিয়ামতের দিন সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।’’

{ইমাম খাযিনঃ তাফসীরে খাযিনঃ ৪/২০৮ পৃ.}

   

❏তাফসীরে ‘রূহুল বয়ানে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,


وَعَلَّمَ نَبِيَّنَا عَلَيْهِ السَّلاَم الْقُرْاَنَ وَاَسْرَارَ الْاُلُوْهِيَةِ كَمَا قَالَ وَعَلَّمْكَ مَالَمْ تَكُنَ تَعْلَمُ


-‘‘আল্লাহ তা’আলা আমাদের নবী (ﷺ)কে কুরআন ও স্বীয় প্রভুত্বের রহস্যাবলীর জ্ঞান দান করেছেন, যেমন স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা ফরমায়েছেন, وَعَلَّمَكَ مَاَلَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ সে সব বিষয় আপনাকে শিখিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না।’’

{আল্লামা ঈসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রুহুল বায়ানঃ ৯/২৮৯পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন}।

+++++++++
জা’আল হক (প্রথমাংশ)

মূলঃ হযরাতুল আল্লামা আলহাজ্ব মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহমতুল্লাহে আলাইহে

অনুবাদকঃ (শাহজাদা) মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আলম ও মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

তথ্য সংযােজনঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন