কদম রসূলের ইতিহাস

পৃ:- ১৯
----------
এটি একটি প্রসিদ্ধ দরগাহ এবং এতে রছুলুল্লাহ (সঃ)-এর পদচিহ্ন রক্ষিত আছে। দিওয়ান মনওয়ার খান সর্ব প্রথম এই দরগাহ বাড়ী নির্মাণ করেন। তিনি দীওয়ান ঈশাখাঁ'র পৌত্র । দীওয়ান মনওয়ার খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলের শুরুতে জীবিত ছিলেন। প্রাচীন লােকদের বর্ণনা অনুসারে দীওয়ান মনওয়ার খানকে বাংলার সুবেদারী দীওয়ান বাকী সরকারী রাজস্ব আদায় করার জন্য ঢাকায় ডেকে পাঠান । আদেশ পালন করার জন্য তিনি ময়মনসিংহ জেলার হযরত নগরস্থ তাঁর বাড়ী থেকে ঢাকার দিকে রওয়ানা হন। বর্তমানে সেখানে কদমরছুল দরগাহ শরীফে
পৌছলে তার নৌকায় আগুনের অভাব দেখা দেয়। তিনি মাঝিদেরকে নির্দেশ দেন, তারা যেন মাস্তুলের ওপর উঠে দেখে নেয় কোথাও বস্তি দেখা যায় কিনা এবং দেখা গেলে ওখান থেকে যেন আগুন নিয়ে আসে।
তখন লক্ষ্যানদীর দুদিকে গভীর জঙ্গল ছিল। কোথাও বস্তির নাম নিশানাও ছিল না ।
আবার কোন নৌকাও দেখা যাচ্ছিল না। একজন মাঝি নৌকার মাস্তুলের ওপর ওঠে দেখতে পায় যে, নদীর পূর্ব পাড়ের কাছে জঙ্গল থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে । সে মাস্তুল
থেকে নেমে তা বর্ণনা করে এবং দেওয়ানের কিছু লােককে সাথে নিয়ে যেখানে ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল ওখানে গিয়ে হাজির হয় । ওখানে পৌঁছে সে দেখতে পায় যে, এক বৃদ্ধ ও তার স্ত্রী অত্যন্ত আদবের সাথে একটি পাথরের তক্তার নিকট বসে লােবান পােড়াচ্ছে। তারা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাে তােমরা কে এবং কি করছাে?
বৃদ্ধ লােকটি উত্তর দিলেন “আমরা রসূল করিম (সাঃ)-এর কদম মােবারকের নকশায় স্থাপিত এ পাথর আরব দেশ থেকে এনে নিজেদের ঘরে রেখেছিলাম। গতরাত স্বপ্নে নির্দেশ দেওয়া হয়, এ পাথরকে যেন এ জঙ্গলে এনে রেখে দেই। আমরা এজন্য এখানে এসেছি এবং কি হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি । দীওয়ানের ভৃত্য এসব শােনার পর আগুন নিয়ে ওখান থেকে নৌকায় চলে যায় এবং এ পর্যন্ত যা দেখেছে ও  শুনেছে তা দীওয়ানের নিকট বর্ণনা করে। তিনি শুনে অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে নিজেই ওখানে গিয়ে পৌঁছেন এবং বৃদ্ধ লােক ও তার স্ত্রীকে দেখতে পান। বৃদ্ধ লােকের বর্ণনা শুনে তিনি জানতে চাইলেন যে, এটি যে রছুলুল্লাহর আমলে কদমের চিহ্ন তার কি প্রমাণ? বৃদ্ধ লােকটি উত্তরে জানালেন “আপনি কোন একটি মানত করে দেখুন। যদি পূরণ হয় তাহলে আসল মনে করবেন দীওয়ান মানত করলেন, যদি সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকায় আমার সাথে কোন রকমের দুর্ব্যবহার অথবা আমাকে অপমান করা না হয়, খাজনা আদায়ের সময় দেওয়া হয় এবং এখান আমার কানের  উপর রাখা যে শুকনাে ডাল আমি বাক্সে বন্ধ করে দিয়াছি, এখানে আসার পর যদি সেটি  একেবারে তাজা ও সবুজ হয়ে উঠে এবং তার পাতা বের হয় তাহলে আমি এটাকে আসল মনে করবাে এবং এখানে একটি ঘর নির্মাণ করে তাতে রসূল (সাঃ)- এর পায়ের চিহ্ন রেখে দেবাে । এ মানত করে দেওয়ান নৌকায় ফিরে আসেন এবং
পরের দিন ঢাকায় রওয়ানা হন। ঢাকায় পৌঁছে তিনি আশ্চর্য হয়ে যান যে, সরকারের পক্ষ থেকে তার সাথে কোন রকমের দুর্ব্যবহার করা হয়নি এবং তার
মৰ্য্যাদানুসারে তার আতিথেয়তা করা হয় এবং খাজনা আদায়ের জন্য সময় দেওয়া হয়।

                                                          (চলবে)

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন