হুযূর নামাযরত অবস্থায় সবার কথা শুনেন ও সবাইকে দেখেন;


এটা বিনয় ও একাগ্রতার পরিপন্থী নয়ঃ


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮১৮)]



○ অধ্যায়ঃ [রুকূ']


[ﻭﻋﻦ ﺭﻓﺎﻋﺔ ﺑﻦ ﺭﺍﻓﻊ ﻗﺎﻝ ﻛﻨﺎ ﻧﺼﻠﻰ ﻭﺭﺁﺀ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﷺ ﻓﻠﻤﺎ ﺭﻓﻊ ﺭﺃﺳﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﻛﻌﺔ ﻗﺎﻝ ﺳﻤﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻤﻦ ﺣﻤﺪﻩ ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺟﻞ ﻭﺭﺁﺀﻩ ﺭﺑﻨﺎ ﻭﻟﻚ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﺣﻤﺪﺍ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻃﻴﺒﺎ ﻣﺒﺎﺭﻛﺎ ﻓﻴﻪ ﻓﻠﻤﺎ ﺍﻧﺼﺮﻑ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺘﻜﻠﻢ ﺍﻧﻔﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﺎ ﻗﺎﻝ ﺭﺍﻳﺖ ﺑﻀﻌﺔ ﻭﺛﻠﺜﻴﻦ ﻣﻠﻜﺎ ﻳﺒﺘﺪﺭﻭﻧﻬﺎ ﺍﻳﻬﻢ ﻳﻜﺘﺐ ﺍﻭﻝ . ‏] - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ )


হযরত রিফা'আহ ইবনে রাফি' [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] (টীকাঃ ১) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম [ﷺ]'র পেছনে নামায পড়ছিলাম। (টীকাঃ ২) যখন তিনি আপন শির মুবারক রুকূ' হতে উঠালেন। তখন বললেন, 'সামি'আল্লা-হু লিমান হামিদাহ্' (আল্লাহ আপন প্রশংসাকারীদের প্রশংসা শুনেন), তখন তাঁর পেছনে এক ব্যক্তি বললেন, "রাব্বানা-ওয়া লাকাল হামদু হামদান কাসী-রান তায়্যিবাম্ মুবা-রাকান ফী-হি)। অর্থাৎ হে আমাদের রব! তোমারই জন্য প্রশংসা- অনেক পূত-পবিত্র বরকতময় প্রশংসা। অতঃপর যখন (হুযূর) নামায সমাপ্ত করলেন, তখন এরশাদ করলেন, "এখন এ শব্দগুলো কে বলেছে?" (টীকাঃ ৩) লোকটি আরয করলেন, 'আমি বলেছি।' হুযূর এরশাদ করলেন, "আমি ত্রিশ অপেক্ষা বেশী ফিরিশতাদেরকে দেখছি, তারা ত্বরা করছিলো কে এ (কলেমা)গুলো প্রথমে লিখবে।" (টীকাঃ ৪)


[বোখারী]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___________________________________


◇ টীকাঃ ১.


তিনি আনসারী, বদরী সাহাবী। তাঁর পিতা আনসারীদের 'নক্বীব' (দলের) প্রধান ছিলেন। তিনি ৪১ হিজরীতে ওফাত পান।


◇ টীকাঃ ২.


খুব সম্ভব পাঞ্জেগানা নামাযগুলো থেকে কোন নামায ছিলো। কেননা, জামাতের গুরুত্ব এসব নামাযে দেওয়া হতো। তাহাজ্জুদ নামাযের যদিও কখনো জমা'আত হয়েছে, কিন্তু তাও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় হতো না।


◇ টীকাঃ ৩.


প্রতীয়মান হলো যে, নবী করীম [ﷺ] নামাযরত অবস্থায়ও যেমনিভাবে সাহাবা-ই কেরাম ও ফিরিশতাদের অবস্থাদি দেখতেন, তেমনিভাবে তাঁদের পঠিত বাক্যগুলোও শুনতেন। আর তাঁর এ শুনা ও দেখা নামাযের 'খুশূ' ও 'খূদ্বূ' (বিনয় ও একাগ্রতা) -এর মধ্যে বাধা সৃষ্টি হতো না। কেননা, ওই হৃদয় মুবারককে মহান স্রষ্টা এমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন যে, একই সময়ে স্রষ্টার কথাও শুনেন, সৃষ্টির কথাও। স্রষ্টা হতে নিচ্ছিলেন এবং সৃষ্টিকে দিচ্ছিলেন। একটির প্রতি মনোনিবেশ করা অপরটির দিক থেকে অমনোযোগী করে দেয় না। তাঁর অবস্থা তো এটা ছিলো যে,


[মূল কিতাবে এ স্থানে উর্দূ দ্রব্যষ্ট]


(অর্থাৎ এদিকে আল্লাহ্'র সাথে মিলিত, ওদিকে মাখ্লুক্বদের নিয়ে ব্যস্ত। মহান স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যবর্তী ঘনিষ্ট সম্পর্কের রহস্যের প্রতি ইঙ্গিত দেয় ﻣﺤﻤﺪ শব্দের তাশদীদ বিশিষ্ট ﻡ বর্ণটি।) এও হতে পারে যে, লোকটি শেষ কাতারে ছিলো, কিন্তু হুযূর [ﷺ] তার নিন্ম স্বরটিও শুনতে পান। হযরত সুলায়মান [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] তিন(০৩) মাইল দূরত্ব থেকে পিপীলিকার শব্দও শুনেছিলেন।


◇ টীকাঃ ৪.


অর্থাৎ প্রত্যেক ফিরিশতা এটা চাচ্ছিলেন যে, প্রথমে তিনি লিখে তা মহান রবের দরকারে পেশ করবেন, যাতে তিনি আল্লাহ্'র নৈকট্য বেশী লাভ করেন। স্মর্তব্য যে, এ সব ফিরিশতা আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফিরিশতাগণ ব্যতীত অন্য ফিরিশতা ছিলেন। কেননা, আমল লিখক মাত্র দু'জন ফিরিশতা একজন পুণ্য লিপিবদ্ধকারী আর অন্যজন পাপ লিপিবদ্ধকারী। তাঁদের এ তাড়াহুড়া ওইসব বাক্যের মহত্ব প্রকাশের জন্যই। অন্যথায় ফিরিশতাগণ সবকিছু লিখতে এক সেকেন্ড সময়ও লাগে না।


এ হাদীস শরীফ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ফিরিশতাদের কতেক আমল নিয়ে যাওয়ার ফলে বিশেষ পুরষ্কার লাভ হয়। এটাও জানা গেলো যে, ফরয নামাযগুলোর 'কাওমা'য় (রুকূ' থেকে দাঁড়িয়ে) এ কলেমাগুলো বলা বৈধ। স্মর্তব্য যে, হুযূর [ﷺ], সেটা কে বলেছেন তা জিজ্ঞেস করা, তিনি নিজে জানার জন্য নয়; বরং তা লোকদের সামনে প্রকাশ করার জন্য ছিলো।


□ হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. ৭৭, হাদীস নং-৮১৮ এর টীকাঃ (১৬-১৯) দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন