৫৫
রুকূ' ও সাজদা ধীরস্থিরতার সাথে সম্পন্ন করা
শাফে'ঈদের মতে 'ফরয' আর হানাফীদের মতে- ওয়াজিবঃ
ﻭَﻋَﻦ ﺷَﻘِﻴﻖ ﻗَﺎﻝَ ﺍِﻥْ ﺣُﺬَﻳْﻔَﺔَ ﺭَﺃﻯ ﺭَﺟﻼً ﻻ ﻳُﺘﻢ ﺭُﻛُﻮﻋَﻪ ﻭَﻻ ﺳَﺠﻮﺩَﻩ
হযরত শাক্বীক্ব [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
❝হযরত হােযায়ফাহ্ এক ব্যক্তিকে দেখলেন, যে আপন রুকূ' ও সাজদা পুরােপুরিভাবে সম্পন্ন করছে না।
ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻗَﻀﻰ ﺻﻠﻮﺗﻪ ﺩَﻋَﺎﻩُ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪ ﺣُﺬَﻳْﻔَﺔ ﻣَﺎ ﺻَﻠَّﻴْﺖَ
যখন সে আপন নামায শেষ করলাে, তখন তাকে ডাকলেন, আর তাকে হযরত হােযায়ফাহ্ বললেন, তুমি তাে নামায পড়াে নি।
ﻗَﺎﻝَ ﻭَﺃَﺣﺴَﺒﻪ ﻗَﺎﻝَ ﻭَﻟﻮﻣﺖ ﻣﺖَ ﻋَﻠﻰ ﻏﻴْﺮ ﺍﻟﻔﻄﺮَﺓِ ﺍﻟﺘﻲ ﻓَﻄَﺮَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﷺ .
তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, আমার মনে আছে যে, তিনি (হযরত হােযায়ফাহ্) এটাও বলেছেন, যদি তুমি মরে যাও, তবে তুমি ওই তরীকার বিরােধিতায় মরবে, যার উপর আল্লাহ তা'আলা হুযুর [ﷺ]'কে সৃষ্টি করেছেন।❞
: ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒُﺨﺎﺭﺉ
[বােখারী]
উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় 'মির'আত শরহে মিশকাত'-এ উল্লেখ হয়েছেঃ
________________________________________________________
১. 【হযরত শাক্বীক্ব [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]】
টীকা- ১. তাঁর নাম শাক্বীক্ব ইবনে আবূ সালমাহ্। উপনাম আবু ওয়া-ইল। তিনি বনূ আসাদ গােত্রের লােক। তিনি হুযুরের যুগ পেয়েছেন; কিন্তু হুযূরের সাক্ষাত পান নি। তাই তিনি মহা সম্মানিত তাবে'ঈ। খােলাফা-ই রাশেদীন হতে হাদীস সংগ্রহ করেন। হিজরী ৯৯ সালে ওফাত পান। (তাহযীব ও ইকমাল)
২. 【হযরত হােযায়ফাহ্ এক ব্যক্তিকে দেখলেন, যে আপন রুকূ' ও সাজদা পুরােপুরিভাবে সম্পন্ন করছে না।】
টীকা- ২. অর্থাৎ সেগুলাে ধীরস্থিরতার সাথে সম্পন্ন করছিলো না। ধীরস্থিরতা শাফে'ঈ মাযহাবের অনুসারীদের মতে 'ফরয' আর হানাফীদের মতে 'ওয়াজিব'।
৩. 【যখন সে আপন নামায শেষ করলাে, তখন তাকে ডাকলেন, আর তাকে হযরত হােযায়ফাহ্ বললেন, তুমি তাে নামায পড়াে নি।】
টীকা- ৩. অর্থাৎ ‘পরিপূর্ণভাবে পড়ােনি'। (হানাফী)
'শুদ্ধভাবে পড়ােনি'। (শাফেঈ) )
৪. 【তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, আমার মনে আছে যে, তিনি (হযরত হােযায়ফাহ্) এটাও বলেছেন, যদি তুমি মরে যাও, তবে তুমি ওই তরীকার বিরােধিতায় মরবে, যার উপর আল্লাহ তা'আলা হুযুর [ﷺ]'কে সৃষ্টি করেছেন।】
টীকা- ৪. অর্থাৎ যদি তুমি অসম্পূর্ণ ( ﻧﺎﻗﺺ ) নামায পড়ায় অভ্যস্থ হও, তবে তুমি নবীগণের সুন্নাতের বিরােধী হয়ে মরবে। অথবা যদি তুমি এ দোষকে ভালাে জেনে থাকো, তবে তােমার মৃত্যু (শেষ পরিণতি) কুফরের উপর হবে।
‘ফিতরাত' ( ﻓﻄﺮﺕ ) দ্বীন-ই ইসলামকেও বলা হয় । আর হুযূর সাল্লাল্লাহু তা ' আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ' র জন্মগত পবিত্র স্বভাবকে এবং নবীগণের সুন্নাতকেও ‘ফিতরাত' ( ﻓﻄﺮﺕ ) বলে।
সম্মানিত সূফীগণ বলেন, যে ব্যক্তি সুন্নাত বর্জন করায় অভ্যস্থ হয়, তার শেষ পরিণাম মন্দ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর যে ব্যক্তি কোন সুন্নাতকে তুচ্ছ মনে করে, সে কাফির। এটার পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ক্বোরআনের বহু আয়াতও রয়েছে এবং এ ধরণের অনেক হাদীসও রয়েছে।
[মির'আত; ২/৮২পৃ. হাদীসঃ ৮২৫, টীকা-(৩৬-৩৯)]
প্রাসঙ্গিক কিছু ফিক্হী মাস্আলাঃ
____________________________
মাসআলাঃ ❝রুকূ'তে কমপক্ষে একবার 'সুবহানআল্লাহ্' বলার সময় পরিমাণ অবস্থান করা 'ওয়াজিব'।❞
[বাহারে শরীয়ত]
মাসআলাঃ ❝রুকূ' শেষ করে সাজদায় যাওয়ার পূর্বে কমপক্ষে একবার 'সুবহানআল্লাহ্' বলার সমপরিমাণ সময় দাঁড়ানো অথবা কাওমায় দাঁড়িয়ে থাকা 'ওয়াজিব'।❞
[বাহারে শরীয়ত]
মাসআলাঃ ❝সাজদার মধ্যে কমপক্ষে একবার 'সুবহানআল্লাহ্' বলা পরিমাণ সময় অবস্থান করা 'ওয়াজিব'।❞
[বাহারে শরীয়ত]
মাসআলাঃ ❝দু'সাজদার মাঝখানে জলসা করা অর্থাৎ সোজা হয়ে বসা 'ওয়াজিব'।❞
[বাহারে শরীয়ত]
মাসআলাঃ ❝জলসায় (দু'সাজদার মাঝখানে) কমপক্ষে একবার 'সুবহানআল্লাহ্' বলা সমপরিমাণ স্থির থাকা 'ওয়াজিব'।❞
[বাহারে শরীয়ত[
মাসআলাঃ ❝কোন ওয়াজিব বাদ দেয়া। যেমন- সাজদা ও রুকূ'তে পিঠ সোজা না করা, কওমা ও জলসায় সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা বসার আগে সাজদাতে চলে যাওয়া ইত্যাদি 'মাকরুহে তাহরীমী'।❞
[আলমগীরী, গুনিয়া, বাহারে শরীয়ত, খন্ড-০৩, পৃ. ১৭০]
মাসআলাঃ ❝যে নামায 'মাকরুহে তাহরীমী' হয়, ওই নামায পুনরায় পড়া 'ওয়াজিব'।❞
[মু'মিন কী নামায]
মাস্আলাঃ ❝যে কাজগুলো ইচ্ছাকৃত করার দরুন নামায 'মাকরুহে তাহরীমী' হয়, সাজদায়ে সাহূ' দিলেও ওই নামায শুদ্ধ হয় না বরং ওই নামায পুনরায় পড়তে হয়। বরং তা পুনরায় পড়া 'ওয়াজিব'।❞
[মু'মিন কী নামায]
❏ ইমামের ক্বিরআতই মুক্বতাদীর ক্বিরআতঃ
❏ নামাযে 'আলহামদু' (সূরা ফাতিহা) পড়া ওয়াজিব, ফরয নয়ঃ
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন