কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। তা হলো-
১. মুসলিম হওয়া; সুতরাং অমুসলিমদের উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।
২. মুকিম হওয়া; কাজেই মুসাফিরদের উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।
৩. বালিগ হওয়া; সুতরাং নাবালিগ-এর উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, তবে করলে ভাল। যদি কেউ বালেগ ছেলে অথবা স্ত্রীর পক্ষ হতে কুরবানি করতে চায় তবে তাদের থেকে অনুমতি নেয়া শর্ত। অনুমতি ব্যতীত ওয়াজিব আদায় হবে না।
উল্লেখ্য যে, নিজের পক্ষ থেকেই কুরবানি করা ওয়াজিব। সন্তানের পক্ষ হতে পিতার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব নয়। তবে পিতা নাবালেগ সন্তানের পক্ষ হতে চাইলে তা নফল হিসেবে করতে পারবে।
৪. ধনী হওয়া অর্থাৎ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। এখানে নিসাব-এর অর্থ হলো, যার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। এটা উদ্দেশ্য নয় যে, যার উপর যাকাত ফরয হয় (অর্থাৎ মাল এক বছর মালিকানায় থাকা শর্ত নয়, বরং ঈদের দিন যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকে তবেই তার উপর কুরবানি ওয়াজিব)। যে ব্যক্তি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের মালিক, কিংবা মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া যে ব্যক্তি এ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের সমান, তবে তার উপর কুরবানি ওয়াজিব।
৫. কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া শর্ত নয়। সম্পদশালী মহিলাদের উপরও কুরবানি ওয়াজিব হয়, যেমনটি পুরুষের উপর হয়।
৬. সময় পাওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ দশ যুলহজ্জ সুবহে সাদিকের পর হতে বার যুলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনদিন দু’রাত- এ দিনসমূহকে কুরবানির দিন বা আইয়ামুন নাহর বলা হয়।
* জ্ঞাতব্য যে, কুরবানি ওয়াজিব নয় এমন গরীব ব্যক্তি কুরবানির নিয়্যত করলে বা কুরবানির নিয়্যতে পশু ক্রয় করলে, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে। ৪৮
৪৮ - ফাতাওয়ায়ে শামী ও বাহারে শরীয়ত অবলম্বনে।
_________________
কুরবানি (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আহকাম)
গ্রন্থনা ও সংকলন:
মুফতি মুহাম্মদ আলমগীর হোসাইন আন-নাজিরী
অধ্যক্ষ, জামি‘আ-এ-‘ইলমে মদীনা, নেত্রকোণা
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন