চীনে নারীর সামাজিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট। চীনারা তাদের নারীদের অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখতো। এক চীনা মহিলা বলেন- “আমাদের স্থান হচ্ছে মানবতার সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান এবং এজন্যেই আমাদের অংশে এসেছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কর্ম”। তারই এক নীতিকথা এখানে উল্লেখযোগ্য- ‘নারী কতো হতভাগিনী’। পৃথিবীতে তার মতো মূল্যহীন দ্রব্য আর কিছু নেই। ছেলেরা তার সামনে এসে এমনভাবে দাঁড়ায় যেন তারা আকাশ থেকে আগত কোন দেবতা। অধিকন্তু মেয়েদের জন্মমুহুর্তেও আনন্দের সানাই বাজে না। যখন তারা বড় হয়ে উঠে তখন তাদেরকে বদ্ধ ঘরে লুকিয়ে রাখা হয় যেন কোনো মানুষ তাকে দেখতে না পায়। যখন সে নিজ গৃহ থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় তখন তার জন্যে দু’ফোটা অশ্রুজল ফেলার মতো কেউ থাকেনা। ৭
৭.‘কিসসাতুল হামারার চীন সভ্যতা’ শীর্ষক অধ্যায় থেকে গৃহীত, পৃ. ২৮৩, সূত্র. , ইসলামে নারী, পৃ. ১৬-১৭)।
প্রাচীন হিন্দু ধর্মে নারী
প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে মনু স্মৃতির অধ্যয়নে জানা যায় যে, মনু যখন নারী সৃষ্টি করেছিল তখন সে নারীকে পুরুষের প্রতি প্রেম, রূপ চর্চা, যৌন ব্যবিচারে লিপ্ত থাকা এবং ক্রেধের প্রবণতা দানকারিণী রূপে সৃষ্টি করে এবং মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করে নারীকে নিকৃষ্টতম ব্যবহারের উপযুক্ত বলে ঘোষণা করে। সুতরাং হিন্দু সমাজে এই ধারণা প্রসিদ্ধ লাভ করে যে, নারী হচ্ছে নোংরামীর মূল এবং তার অস্তিত্ব হচ্ছে পুরোপূরি নরক। ৮
৮.বিশ্ব ইতিহাস, পৃ. ৩৯৪, সূত্র. আলবাহী আল খাওলী, ইসলামে নারী, পৃ.১৭
প্রাচীন হিন্দু সমাজে রীতি ছিল যে, স্বামী মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীকে জীবন্ত আগুনে মৃত স্বামীর সাথে জ্বলে পুড়ে মরতে হতো। এটাকে সতীদাহ প্রথা বলা হতো। পরবর্তীতে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তা রহিত হয়েছে।
গ্রিস সভ্যতায় নারী
প্রাচীন গ্রিস সমাজের ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে নারীর কোন ভূমিকা ছিলনা এবং নারী ছিল সম্পর্ণরূপে সমাজ বিচ্ছিন্ন। নারীকে একান্ত অর্থহীন দ্রব্যের মতো ঘরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্ধ করে রাখা হতো। এমনকি বড় বড় গ্রিক দার্শনিক ও চিন্তাবিদরাও মনে করতেন যে, নারীর অস্তিত্বের মতো নারী নামটাকেও যেন বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ করে রাখা হয়। ৯
৯.গ্রিক ইতিহাস, পৃ. ১১৪-১১৭, সূত্র. প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮
প্রখ্যাত গ্রিক চিন্তাবিদ ডেমোস্তিন বলেন- “আমরা যৌন তৃপ্তি অর্জনের জন্য বেশ্যালয়ে যাই এবং আমাদের দৈনন্দিন কর্মসূচী তৈরী করে থাকে বালিকা বন্ধুরাই আর আমরা কেবল আইনগতভাবে সন্তান উৎপাদনের জন্যেই স্ত্রী গ্রহণ করি।
রোমান সভ্যতায় নারী
রোমান সভ্যতাকে পাশ্চাত্য পদ্ধতির গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। সেখানে পরিবারের প্রবীন পুরুষই ছিল ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরু। নারীর কোন গুরুত্ব, অধিকার বা মর্যাদা স্বীকৃত ছিলনা। কোন রকমের আইনগত অধিকার থেকেও নারী ছিল বঞ্চিত। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও পাগলের ন্যায় নারীকেও মনে করা হতো অযোগ্য ও অক্ষম। নারী হয়ে জন্ম নেওয়াই ছিল তার অযোগ্যতার সর্বাপেক্ষা বড় প্রমাণ। এমনকি পিতার কাছ থেকে বিয়ের সময় যৌতুক হিসাবে কিংবা ওয়ারীশ হিসাবে পাওয়া সম্পত্তিতেও নারীর কোন অধিকার ছিল না। স্বামীর ঘর করার সাথে সাথে স্ত্রীর সব ব্যক্তিগত সম্পদও স্বামীর মালিকানায় চলে যেতো। রোমান নারী আদালতে বিচার প্রার্থনার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিল, এমনকি তার সাক্ষ্য দেওয়ার অধিকার ছিলনা।
রোমান সমাজে ‘সর্দারী বিয়ে’ নামে এক ধরণের বিয়ের প্রথা ছিল। কোন নারীর উপর সর্দারের নজর পড়লে সে তার স্ত্রী হয়ে যেতো এবং সাবেক পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যেতে হতো। সেই স্ত্রী কোন অভিযোগে অভিযুক্ত হলে সর্দার তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অধিকারও রাখতো। কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী ছেলেদের উত্তরাধিকারে পরিণত হতো। যদি পুত্র সন্তান না থাকতো তাহলে বিধবা মহিলাটি স্বামীর ছোট ভাই বা চাচার অধিকারে চলে যেতো।
________________
কিতাব: নন্দিত নারী
লেখক: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি
আরবি প্রভাষক, জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন