আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?


❏ বিষয় নং-৩: নবী পাক (ﷺ) নূরের তৈরী


উম্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকাহ➥40  (رضي الله عنه)’র আক্বীদা

হযরত তৈয়্যিবাহ তাহেরা আবেদা ফাবেদাহ আরেফা আয়েশা সিদ্দিকাহ (رضي الله عنه) যিনি ছিলেন কোনো জটিল বিষয়কে সমাধান কল্পে শীর্ষস্থানীয়, তিনি বলেন-

وَأخرج ابْن عَسَاكِر عَن عَائِشَة قَالَت كنت أخيط فِي السحر فَسَقَطت مني الابرة فطلبتها فَلم أقدر عَلَيْهَا فَدخل رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فتبينت الإبرة بشعاع نور وَجهه

-‘‘একদা আমি সেহরীর সময় সেলাই করছিলাম, হঠাৎ আমার সুঁই পড়ে গেলে অনেক খোঁজাখুজির পর তা পেলাম না। ইত্যবস্যরে রাসূল (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করলে তাঁর চেহরার নূর মোবারকে সুঁইটি পরিষ্কার দেখা গেল।’’ ➥41

৪০. ওয়াহাবীদের অহংকার মওলবী ইব্রাহীম শিয়ালকুটী হযরত আয়েশা সিদ্দিকাহ (رضي الله عنه)’র জ্ঞানের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন ইলমী সমস্যার সমাধান করেন সাহাবীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন।
৪১. সুয়ূতি, খাসায়েসুল কোবরা, প্রথম খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা, শায়খ ইউসুফ নাবহানী, হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন, ৬৮৮ পৃষ্ঠা, সাখাভী, আল কাওলুল বদী, ১৪৭ পৃষ্ঠা, ইইয়াদুশ শোহাদা, ১০২ পৃষ্ঠা, কাসাসুল আম্বিয়া, ফার্সী ২৬৬ পৃষ্ঠা, এ হাদিসকে বিভিন্ন বাতিল পন্থীগণ জাল বলে থাকেন তাদের জবাব জানতে আমার লিখিত “প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন” ১ম খণ্ডের ১৭৬-১৭৯ পৃষ্ঠায় দেখুন।


আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এবং আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি (رحمة الله) উম্মাহাতুল মু‘মিনীন আয়েশা (رضي الله عنه)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেন-

كنت أدخل الخيط في الإبرة حال الظلمة لبياض رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم

-‘‘আমি অন্ধকার রাতে হুযূর পুরনুর (ﷺ)-এর নূরানী জ্যোতিতে সুঁইয়ের মধ্যে সুতা প্রবেশ করাতাম।’’ ➥42

৪২. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী, শরহে শিফা, ১/১৫৯ পৃ., কাসাসুল আম্বিয়া (ফার্সী), ২৬৬ পৃ.

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! মুফাসসির কুল শিরমনি, রাসূলে (ﷺ)’র চাচাতো ভাই, হুযূরে পূরনূর (ﷺ)’র ঘরে যিনি আসা-যাওয়া করতেন, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)’র নূর।

ইমামুল আম্বিয়া (ﷺ)’র প্রিয় চাচা হযরত আব্বাস (رضي الله عنه) অবগত যে, রাসূল (ﷺ)’র নূর। ওই সমস্ত ধাত্রীগণ, যারা রাসূল (ﷺ) কে দুধ পান করিয়েছেন, যাঁরা রাসূল (ﷺ) কে পানাহার করতে দেখেছেন এবং যাদের ঘরে স্বয়ং মাহবুবে খোদা (ﷺ) রয়েছেন, যাঁরা রাসূল (ﷺ)’র পানাহার এবং বসবাস করণ সবকিছু দেখেছেন তাঁদের আক্বিদাহও হল হুযুর (ﷺ) নূর।

রহমতে দো আলম (ﷺ)’র প্রিয় ফুফুগণ, যাঁরা আযওয়াজে মুতাহহারাত, আওলাদে পাকদেরকে দেখেছেন, বসবাস করণ পানাহার সব কিছুই তাঁদের দৃষ্টিগোচর ছিল, কিন্তু তারা তাদের আক্বিদা ছিল হুযুর (ﷺ)’র নূরই ছিলেন।

রাসূলে করিম (ﷺ)’র সম্মানিত বিবিগণ  (رضي الله عنه), যাঁরা রাসূল (ﷺ)’র হেরম শরীফের মর্যাদা লাভ করেছেন, যাদেরকে আল্লাহ তা‘য়ালা সমস্ত ঈমানদারের মাতা বানিয়েছেন তাঁরাও বলেন যে, হুযুর পূর নূর (ﷺ) নূর। কেবল হেদায়তের নূর নয়, বরং নূরে হিচ্ছি তথা অনুধাবনীয় জ্যোতি।

হুযুর (ﷺ)’র পানাহার, আযওয়াজে মুতাহ্হাআত এবং আওলাদে পাক সম্পর্কে এসব মহাত্মাগণের অবগত ছিলেন তথাপি এঁদের আক্বিদা ছিল হুযুর (ﷺ) নূরই ছিলেন।

যে হযরত সায়্যিদাহ আয়েশা (رضي الله عنه) থেকে সাহাবায়ে কেরাম  (رضي الله عنه) গণ জটিল কঠিন মাসআলার সমাধান নিতেন, সে আয়েশা (رضي الله عنه) হুযুর (ﷺ)’র সম্মানিত বিবি হওয়া সত্ত্বেও বলেন যে, হুযুর (ﷺ) নূর।

কিন্তু দেওবন্দীদের আকলের উপর মূর্খতার এমন আবরণ পড়েছে যে, তারা বলে যে, হুযূর (ﷺ) পানাহার করেন, তাঁর বিবি এবং আওলাদ রয়েছে সে জন্য তিনি (মাটির) মানুষ।

++++++++++++
আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?

মূল: আল্লামা আবুল হামেদ মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।

ভাষান্তর
মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
বিএ অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্পাদনায়, তাখরীজ, প্রকাশক:
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন