মদীনা মুনাওয়ারার আজওয়া খেজুরের ফযিলত
২৩. عَنْ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَصَبَّحَ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعَ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً، لَمْ يَضُرَّهُ فِي ذَلِكَ اليَوْمِ سُمٌّ وَلاَ سِحْرٌ
২৩. অনুবাদ : হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (رضي الله عنه)থেকে বর্ণিত, নবী করিম (ﷺ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মদীনা মুনাওয়ারার সাতটি আজওয়া খেজুর সকাল বেলা খাবে সারাদিন কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
➥[৫৪] ইমাম আহমদ, বুখারী ও মুসলিম, সূত্র, আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ. ৬৭
ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদিসে ‘আজওয়া’ খেজুর দ্বারা মদীনা শরীফের আজওয়া উদ্দেশ্য। ইমাম মুসলিম (رحمة الله)
بَابُ فَضْلِ ثَمْرِ الْمَدِيْنَةِ
নামক অধ্যায়ে হাদিসখানা বর্ণনা করেছেন।
মুসলিম শরীফের হাদিসে বর্ণিত আছে,
مَنْ اَكَلَ سَبَعَ تَمَرَاتٍ مِمَّا بَيْنِ لَا بَيْتِهَا اَىْ اَلْمَدِيْنَةَ لَمْ يَضُرُّهُ ذَالِكَ الْيَوْمِ سُمٌّ
যে ব্যক্তি মদীনা শরীফের সাতটি খেজুর খাবে সারাদিন তাকে বিষে প্রতিক্রিয়া করতে পারবেনা।
আজওয়া খেজুর সম্পর্কে ইবনুল আসীর (رحمة الله) বলেন,
وَالْعَجْوَةُ ضَرْبٌ اَكْبَرُ مِنَ الصِّيْحَانِى يَقْرُبُ اِلٰى السَوَادِ وَهُوَ مِمَّا غَرَسَةٌ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِيْنَةِ بِيَدِهِ
অর্থাৎ আজওয়া খেজুর হল সীহানীর চেয়ে বড় আকারের কাল রঙের খেজুর যা রাসূল (ﷺ) নিজ হাতে মদীনা শরীফে বপন করেছিলেন।
➥[৫৫] আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ.৬৮
হযরত আয়েশা (رضي الله عنه)এই খেজুরকে মাথা ঘুরানো রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করার আদেশ দিতেন।
➥[৫৬] জযবুল কুলূব ইলা দিয়ারিল মাহবুব, পৃ.২৮
ইমাম নববী (رحمة الله) বলেন, উক্ত হাদিসে মদীনা মুনাওয়ারার খেজুরের কথা বলা হয়েছে। বিশেষত আজওয়া খেজুরের ফযিলত সম্পর্কে। সাত সংখ্যাকে খাস করার কারণ একমাত্র আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)’ই অধিক জানেন। এর হেকমত কী? তার জ্ঞান আমাদের নেই। তবে এর উপর ঈমান রাখা ওয়াজিব এবং এই ফযিলতের উপর বিশ্বাস রাখা আবশ্যক। যেভাবে নামাযের রাকাত ও যাকাতের পরিমাণের রহস্য সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ কিন্ত এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব।
➥[৫৭] আল্লামা ইমাম নববী (رحمة الله) (৬৭৬ হি.), শরহে মুসলিম, খন্ড-২, পৃ.১৮১
আজওয়া খেজুরে বিষ ও যাদুর প্রতিরোধক বিদ্যমান আছে কিনা এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকলেও নবী করিম (ﷺ)’র বাণীর অনুসরণার্থে ভক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে আমল করলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর বাণীর ইজ্জতের খাতিরে শেফা দান করবেন ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া তিনি নিশ্চয় ওহী বা ইলহাম মারফত জ্ঞাত হয়ে একথা বলেছেন। এ দু’টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। তাই আমাদের আমল করে যাওয়াই উচিত।
কেউ কেউ বলেন, বিষ মানুষের শরীরের রক্তকে শীতল করে জমাট করে দেয়। তারপর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে মানুষ মারা যায়। পক্ষান্তরে খেজুর মানুষের রক্তে তাপ সৃষ্টি করে রক্তকে গরম ও সচল রাখে। তাই খেজুর খেলে বিষ প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এটাই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)’র বাণীর উদ্দেশ্য।
আর সাত সংখ্যা বলা কারণ হল- এর মধ্যে অনেক রহস্য নিহিত আছে। পবিত্র কুরআনে সূরা ইউসুফের ৪৩নং আয়াতে আছে -سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ উক্ত সূরার উক্ত আয়াতে আছে -سَبْعٌ عِجَافٌ ও وَسَبْعَ سُنْبُلَاتٍ خُضْرٍ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)’র হাদিসের মধ্যে আছে
- صَبُّوا عَلَّى مِنْ سَبْعِ قِرْبٍ ও غَسْلُ الاٰنَاءِ مِنْ وُلِغَ الْكَلْبِ سَبْعًا
ইত্যাদি।
আরবরা সংখ্যাটি আধিক্যের জন্য ব্যবহার করে। কোন নির্দ্দিষ্ট সংখ্যা বা সীমাবদ্ধের জন্য নয়।
কেউ কেউ বলেন, সাত সংখ্যাকে খাস করার কারণ হল- কেননা এ সংখ্যায় যে বৈশিষ্ট্য আছে অন্য কোন সংখ্যায় তা নেই। আসমান সাতটি, জমিন সাতস্থর, দিন সাতটি, তাওয়াফ ও সাঈ সাতবার, শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ সাতটি, তাকবীরে তাহরীমা সহ ঈদের তাকবীর সাতটি, মানুষের দাঁত সাত প্রকার এবং তারকা সাতটি।
➥[৫৮] আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ, ৬৯-৭০)।
+++++++++++
গ্রন্থ: চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত
রচনায়: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি।
আরবী প্রভাষক,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা,ষোলশহর, চট্টগ্রাম।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন