মদীনাবাসীকে কষ্ট দেওয়ার পরিণাম
২২. عَنْ عَبْدُ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اَذَى اَهْلَ الْمَدِيْنَةِ اَذَاهُ اللهُ وَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ لَا يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلَاعَدْلًا-
২২. অনুবাদ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (رضي الله عنه)থেকে বর্ণিত, নবী করিম (ﷺ) এরশাদ করেন, যে কেউ মদীনাবাসীকে কষ্ট দেবে আল্লাহ তায়ালা তাকে কষ্ট দেবেন আর তার উপর আল্লাহ, ফেরেস্তা ও সকল মানুষের অভিশাপ। তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন না।
➥[৫১] তাবরানী সূত্র, আরাবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ. ৫৯-৬০
ব্যাখ্যা: নবী করিম (ﷺ) যেহেতু মদীনাবাসীকে ভালবাসেন সেহেতু স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাও তাদেরকে ভালবাসেন। তাই মদীনাবাসীকে কেউ কষ্ট দিলে তার শাস্তি স্বরূপ আল্লাহ তায়ালা তাকে কষ্ট দেন।
উপরোক্ত হাদিস শরীফখানা মদীনাবাসীকে কষ্ট দানকারীর জন্য বড় শাস্তি ও ভীতি প্রদর্শন করে। ইমাম তাবরানী (رحمة الله) বর্ণনা করেছেন,
-قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِيْنَةُ مَهَاجِرِىْ وَمَضْجَعِى فِى الْاَرْضِ حَقٌ عَلَى اُمَّتِىْ اَنْ يَكُوْنَ جِيْرَانِى مَا اِجْتَنِبُوْا الْكَبَائِرَ فَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ سَقَاهُ اللهِ مِنْ طِيْنَةِ الْخَبَالِ عُصَارَةِ اَهْلِ النَّارِ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরশাদ করেন, মদীনা আমার হিজরতের স্থান, মদীনা আমার শয়নের স্থান, মদীনা থেকেই আমি কিয়ামত দিবসে উঠব। আমার উম্মতের উপর আবশ্যক আমার প্রতিবেশীদেরকে সম্মান করা যতক্ষণ না তারা কবীরাগুনাহ করবে। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে না তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা “তিনতে খাবাল” পান করাবেন। আর এটি হল জাহান্নামের একটি গর্ত যাতে জাহান্নামীদের রক্ত ও পুঁজ একত্রিত হয়।
➥[৫২] আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ. ৬০ ও জযবুল কুলূব ইলা দিয়ারিল মাহবুব, পৃ.৩০-৩১
সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে,
لَا يُرِيدُ أَحَدٌ أَهْلَ الْمَدِينَةِ بِسُوءٍ إِلَّا أَذَابَهُ اللهُ فِي النَّارِ ذُوْبَ الرَّصَاصِ، أَوْ ذُوْبَ الْمِلْحِ فِي الْمَاءِ
কেউ যদি মদীনাবাসীর সাথে অসদাচরণ করবে, তাদেরকে কষ্ট দেবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে গলে ফেলবেন যেভাবে আগুনে শীসা এবং পানিতে লবণ গলে।
হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব (رحمة الله) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূল (ﷺ) মদীনা মুনাওয়ারায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি দু’হাত তুলে দোয়া করলেন-
اللهم مَنْ اَرَادَنِى وَاَهْلَ بِلَدِىْ بِسُوْءٍ فَعَجَّلَ هَلَاكَهُ
হে আল্লাহ! যে কেউ আমার এবং আমার শহরবাসীর সাথে খারাপ ইচ্ছা পোষণ করবে তুমি তাকে দ্রুত ধ্বংস করে দাও।
নাসাঈ শরীফে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (ﷺ) এরশাদ করেন,
مَنْ اَخَافَ اَهْلَ الْمَدِيْنَةِ ظَالِمًا اَخَافَهُ اللهُ وَكَانَتْ عَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ
যে ব্যক্তি মদীনাবাসীকে অন্যায়ভাবে ভীতি প্রদর্শন করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ভীতি প্রদর্শন করবেন। আর তার উপর আল্লাহ, ফেরেস্তা ও সকল মানবজাতির লা’নত।
➥[৫৩] জযবুল কুলূব ইলা দিয়ারিল মাহবুব, পৃ. ৩২-৩৩)।
+++++++++++
গ্রন্থ: চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত
রচনায়: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি।
আরবী প্রভাষক,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা,ষোলশহর, চট্টগ্রাম।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন