মদীনা শরীফের জনগণ কর্তৃক ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ) ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে শ্লোগান দেয়া:
ইমামুল মুহাদ্দেসীন ইমাম মুসলিম (رحمة الله) সহীহ মুসলিম শরীফের “বাবুল হিজরত”র মধ্যে হযরত বারা (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন যে, হুযুর পূর নূর (ﷺ) যখন হিজরত করে মদীনা শরীফে তাশরীফ আনেন-
فَصَعِدَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ فَوْقَ الْبُيُوتِ، وَتَفَرَّقَ الْغِلْمَانُ وَالْخَدَمُ فِي الطُّرُقِ، يُنَادُونَ: يَا مُحَمَّدُ يَا رَسُولَ اللهِ يَا مُحَمَّدُ يَا رَسُولَ اللهِ
-‘‘তখন নর-নারী সকলেই ছাদের উপর আরোহণ করেন এবং শিশু এবং খাদেমগণ রাস্তার অলি গলিতে ছড়িয়ে বলতে লাগলেন। ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)।’’ ১০৩
১০৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, চতুর্থ খণ্ড, ২৩১০ পৃষ্ঠা, হা/২০০৯
মুহাদ্দিস সাখাবী (رحمة الله) ➡১০৪-এর বর্ণনা:
মুহাদ্দিস সাখাবী (رحمة الله) তাঁর অনাবদ্য গ্রন্থ ‘আল-কাউলুল বাদী’তে ➡১০৫ একটি ঘটনা বর্ণনা করেন এভাবে যে, হযরত আবু বকর মুহাম্মদ উমর (رحمة الله) বলেন, একদা আমি হযরত আবু বকর বিন মুজাহিদ (رحمة الله)’র নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় হযরত শিবলী (رحمة الله) তাঁর কাছে আসলে তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে কুলাকুলি করেন এবং কপালে চুমু দেন।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আমার সর্দার! আপনি হযরত শিবলী (رحمة الله)’র সাথে এ আচরণ কেনো করলেন? অথচ আপনি এবং বাগদাদের সকলেই জানেন যে উনি একজন মজবুব।
উত্তরে তিনি (আবু বকর বিন মুজাহিদ) বললেন, রাসূলে কারিম (ﷺ)’র তাঁর সাথে যেরূপ করতে দেখেছি আমিও তাই করেছি। একদা আমি স্বপ্নে দেখলাম হযরত শিবলী (رحمة الله) আসলেন এবং রাসূল (ﷺ) দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে কুলাকুলি করে তাঁর কপালে চুমু খেলেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে রাসূল (ﷺ)! আপনি শিবলী (رحمة الله)’র সাথে এমনটি কেনো করলেন? রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন, তিনি প্রতি নামাযের পর নিন্মোক্ত আয়াত-
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ
এবং আমার উপর দরুদ শরীফ পাঠ করেন। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর উপরোক্ত আয়াত পাঠ করেন এবং তিন বার নিম্নোক্ত দোয়া-
صَلَّى اَللهُ عَلَيْكَ يَا مُحَمَّد ﷺ
পড়েন। হযরত আবু বকর বিন মুহাম্মদ (رحمة الله) বলেন, এরপর হযরত শিবলী (رحمة الله) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে অনুরূপ উত্তর দেন। (ইমাম সাখাভী, আল কাউলুল বাদী, ১৭৩ পৃষ্ঠা)
টিকা━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
১০৪. মুহাদ্দিস আল্লামা সাখাবী (رحمة الله) ইমামুল মুহাদ্দিসীন আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله)’র প্রিয় ছাত্র এবং আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি (رحمة الله)’র উস্তাদ ছিলেন। আহলে হাদিসদের ইমাম শাওকানী ইমাম সাখাবী (رحمة الله) বড় ইমাম হিসেবে মান্য করেন। জামেউল আজহারের শিক্ষক আবদুল ওহ্হাব আবদুল লতিফ ইমাম সাখাবী (رحمة الله)’র বড় বড় লকব লেখেন। (ওয়ারেছে উলূমুল আম্বিয়া, আল ফারদুল ফরিদ, মুকাদ্দামায়ে আল-মাকাসিদুল হাসানা লিস সাখাভী)
টিকা━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
১০৫. ‘আল-কাউলুল বদী’ ইমাম সাখাবী (رحمة الله)’র এমন কিতাব যার অধিকাংশ রেফারেন্স টেনেছে দেওবন্দী মৌলবী যাকারিয়া সাহানপুরী তার ‘ফাযায়েলে দরুদ’ শরীফ গ্রন্থে। (ফকীর মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী)
━━━━━━━━━━━o━━━━━━━━━
আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?
মূল: আল্লামা আবুল হামেদ মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।
ভাষান্তর
মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
বিএ অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্পাদনায়, তাখরীজ, প্রকাশক:
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন