ইবনুল কাইয়্যুম ও কাযি সুলাইমান মানসুরপুরী এর বর্ণনা: (➡১০৬ & ১০৭)
দেওবন্দী এবং ওহাবীদের উলেখযোগ্য দুজন ব্যক্তিত্ব ইবনে কাইয়্যুম এবং কাজী সুলাইমান মানসুরপুরী তাদের স্ব স্ব কিতাবে ‘জালালুল আফহাম’ এর ২৫৮ পৃষ্ঠায় এবং ‘আসসালাতু ওয়াস সালাম’ (উর্দু) গ্রন্থের ২৫৮-২৫৯ পৃষ্ঠায় এই ঘটনা বর্ণনা করেন।
প্রিয় পাঠক! রাসূলে কারিম (ﷺ) কে যদি (يَا) শব্দ দ্বারা ডাকা শিরক হতো তবে হুযুর পূর নূর (ﷺ)’র কখনো তাঁর সাহাবীদেরকে এমন দোয়া শিক্ষা দিতেন না যার মধ্যে (يا محمد এবং يَا رَسُولَ اللهِ ) রয়েছে।
ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) যদি শিরক হতো তবে সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه), সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এবং সায়্যিদুনা উসমান বিন হানিফ (رضي الله عنه) এর মত সাহাবা (রা:) গণ কখনো যুদ্ধের ময়দানে এবং যুদ্ধের সময় ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ) এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বলতেনও না, কাউকে বলার জন্য শিক্ষাও দিতেন না।
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) যখন ‘ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ) এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ(ﷺ) বলে ডাকতেন, তা যাঁরা শুনতেন তাঁরাও ছিলেন সাহাবায়ে কিরাম (রা:)।
টিকা━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
১০৬. গায়রে মুকাল্লিদ ওহাবীদের অন্যতম মৌলবী মুহাম্মদ সাহেব দেহলভী ইবনে কাইয়ুমকে মুজাদ্দেদে ওয়াকত বলেন। (আখবারে মুহাম্মদী, ১৫ পৃষ্ঠা, ৫ মে, ১৯৪২ ইংরেজী)
টিকা━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
১০৭.
❏ ওহাবীদের অন্যতম মুফাস্সির মুহাম্মদ দেহলভী কাজী সুলাইমান মানসুরপুরীর ব্যাপারে লেখেন যে, তার লেখা মনপুত, হৃদয়গ্রাহী এবং দলির হিসেবে পরিগণিত হত। (আখবারে মুহাম্মদী, ১৫ পৃষ্ঠা, ১৫ জুলাই, ১৯৪২ ইংরেজী)
❏ মৌলবী ছানাউল্লাহ আমৃতসরী কাজী সুলাইমান মানসুরপুরীকে লেখকের উপযোগী বলে মন্তব্য করেন। (আহলে হাদীস, অমৃতসরী, দ্বিতীয় পৃষ্ঠা, নভেম্বর ১৯৪৩ ইংরেজী)
মৌলবী দাউদ গাজী বলেন, কাজী সুলাইমান মনসুর পুরীর জ্ঞান গরিমার সমপর্যায়ের কেউ নেই। (আল ইতিসাম, লাহোর, তৃতীয় পৃষ্ঠা, জুলাই, ১৯৫০ ইংরেজী)
━━━━━━━━━━━o━━━━━━━━━
হাদিস শরীফগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয়, সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) গণ রাসূল (ﷺ) জীবদ্দশায় এবং পর্দা করার পরেও এরূপ ডেকেছেন। কিন্তু একজন সাহাবাও তা হতে নিষেধ করেন নি। গোটা পৃথিবীর কোন দেওবন্দীই এমন একটিও হাদিস দেখাতে পারবে না যে, কোনো সাহাবায়ে কিরাম (রা:) ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ) এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বলা থেকে নিষেধ করেছেন।
সুতরাং উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দেসীনদের অতুলনীয় কিতাব থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইমামুল আম্বিয়া, সায়্যিদুল মুরসালিন (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরাম (রা:) গণের আকিদা ছিল ‘ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ) এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বলে ডাকা জায়েয।
সুতরাং যেসব দেওবন্দী এরূপ ডাকাকে শিরক বলে তারা আহলে সুন্নাত নয়, বরং তারাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত যারা ‘ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ) এবং ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) বলে এবং এরূপ বলাকে বৈধ মনে করে।
++++++++++
আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?
মূল: আল্লামা আবুল হামেদ মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।
ভাষান্তর
মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
বিএ অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্পাদনায়, তাখরীজ, প্রকাশক:
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন