আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?


আবু উবাইদাহ বিন র্জারাহ (رضي الله عنه)’র মুজাহিদ দল ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ) বলে ডাকা:


তারিখে ফুতুহে শাম এ এসেছে যে, কনসিরে যুদ্ধ করার জন্য সায়্যিদুনা হযরত আবু উবাইদাহ বিন তারকাহ (رضي الله عنه), হযরত কাব বিন হামযা (رضي الله عنه) কে ১০০০ সৈন্য দিয়ে প্রেরণ করার ইচ্ছা করেন। হযরত কাব বিন হামযাহ (رضي الله عنه)’র যুদ্ধ হয়েছে ইউকানার সাথে। ইউকানার সৈন্য সংখ্যা ছিল ৫০০০। যুদ্ধ শুরু হলে ইউকানার ৫০০০ সৈন্য হযরত কাব বিন হামযার (رضي الله عنه) সৈন্যের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তখন হযরত কাব বিন হামযাহ (رضي الله عنه),

يَا مُحَمَّدُ يَا مُحَمَّدُ يَا نَصْرَ اللهِ اَنْزِلْ

ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া নাসারাল্লাহ (ﷺ) বলে আহবান করেন।’’ (ওয়াকেদী, ফুতহুশ শাম, ২৯৮ পৃষ্ঠা)

ইমাম সুয়ূতি ➡১০০ ও ইবনে জাওযী ➡১০১ (رحمة الله) বর্ণনা:


টিকা━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

১০০.
আল্লামা আবদুল ওহ্হাব শা‘রানী (رحمة الله) বলেন, আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ূতি (رحمة الله) স্বপ্নাবস্থায় হুযুর (ﷺ) কে ৭৫ বার দিদার পেয়েছেন। (মিযানুল কুবরা, ৪৪ পৃষ্ঠা, মিশর হতে প্রকাশিত) দেওবন্দীদের মৌলবী আশরাফ আলী থানবী আল্লামা ইমাম সূয়ুতী (رحمة الله) কে বড় বড় আলেমদের কাতারে স্থান দেন। (তরীকায়ে মৌলুদ, ১১ পৃষ্ঠা)


টিকা━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

১০১.
❏ দেওবন্দী এবং গায়রে মুকালি­দদের শায়খুল ইসলাম এবং মুজাদ্দেদ ইবনে তাইমিয়া আল্লামা ইবনে জাওজী (رحمة الله) সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ইমাম ইবনে জাওযী (رحمة الله) উঁচু স্তরের ফহীহ এবং অনেক বড় গ্রন্থাকার ছিলেন। অনেক বিষয়ে তাঁর রচনা বিদ্যমান। আমার গণনানুসারে এগুলোর সংখ্যা অনেক। বিশেষত হাদীস শাস্ত্রেই তাঁর রচনা দেখে অনুমান করা যায় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা কত? তাঁর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রচনা হল যাতে তিনি পূর্ববর্তীদের জীবনী লেখেছেন।

তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন, লেখনিতে তিনি ছিলেন সিদ্ধ হস্ত। প্রতিটি বিষয়ের লেখদের থেকেই তাঁর রচনা ছিল গ্রহণযোগ্য। (আল ইতিসাম, লাহোর, ৬ষ্ট পৃষ্ঠা, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২ ইংরেজী)


❏ হাফেজ ইবনে যাহাবী (رحمة الله) তাঁর ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অনেক রচনা ছিল। যেমন, তাফসীর, ফিকহ, হাদীস, ওয়াজ, দাকায়েক, তারীখ ইত্যাদি। ইলমে হাদীসের জ্ঞান এবং ছহিহ ও দুবল হাদীসের পন্ডিতদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশেষ। তিনি অনেক হাদীস বর্ণনা করেন। প্রায় ৪০ বছর তিনি জ্ঞানার্জন করেন। (তবকাতে ইবনে বজর)


❏ আল্লামা শেখ সাদী (رحمة الله) ছিলেন তাঁর শাগরীদ। (বুস্তার হাশিয়া, ১৮০ পৃষ্ঠা) আল্লামা যাহাবী (رحمة الله) তাযকিরাতুল হুফ্ফায” চতুর্থ খণ্ডে বলেন, “তিনি (ইবনে জাওযী (رحمة الله) ছিলে দৃষ্টিবানদের অন্তর্ভূক্ত। হাদিস শাস্ত্রে তিনি হুজ্জাতের স্তরে ছিলেন। আমার জানা মতে তার চাইতে কেউ এত অধিক গ্রন্থ রচনা করেননি।” (ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফ্ফায, ৪/৯২ পৃ. ক্রমিক. ১০৯৮)


উলূমুল কুরআন এবং তাফসীরে শাস্ত্রে তিনি ছিলেনন অনেক উঁচু পর্যায়ের, হাদিস শাস্ত্রে ছিলেন বড় মর্যাদাবান, ফিকহের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তাঁর রচনার পরিধি এতই ব্যাপক ছিল যে, তাঁর চেয়ে এতো বেশি গ্রন্থ কেউ রচনা করেছেন তা আমার জানা নেই।


━━━━━━━━━━━o━━━━━━━━━

মুহাদ্দিস আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি (رحمة الله) এবং ইবনে জাওযী (رحمة الله) তিনজন মুজাহিদের একটি ঘটনা নিজেদের কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন।

মুহাদ্দীস আল্লামা ইবনে জারীর (رحمة الله) তার “উয়ুনুল হেকায়ত” গ্রন্থে আবু আলী সারীর (رحمة الله) থেকে বর্ণনা করেন, শাম দেশে তিন ভাই ছিলেন সে যুগের বড় বীর বাহাদুর। সর্বদা কাফেরদের সাথে তারা যুদ্ধ করতেন। এক পর্যায়ে রোমের বাদশা তাদের গ্রেফতার করে প্রস্তাব দেয় তোমরা যদি খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ কর তবে তোমাদেরকে এই রাজ্য দান করব এবং আমাদের কন্যাদের সাথে বিবাহ দেব।

فَأَبَوا وَقَالُوا يَا محمداه

তারা এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বললেন, ইয়া মুহাম্মদাহ (ﷺ)।’’ ➡১০২

১০২. ইমাম সুয়ূতি, শরহে সুদুর, ২১২ পৃষ্ঠা।

+++++++++
আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?

মূল: আল্লামা আবুল হামেদ মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।

ভাষান্তর
মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
বিএ অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্পাদনায়, তাখরীজ, প্রকাশক:
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন