চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত


মদীনা শরীফের ধূলিকণা শেফা

১৯. عَنْ ثَابِتْ بِنْ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ، عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وَسلَّم: غُبَارُ الْمَدِيْنَةِ شِفَاءٌ مِنْ الجُذَامِ

১৯. অনুবাদ: হযরত সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে সাম্মাস (رضي الله عنه)থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, মদীনা শরীফের ধূলিকণা কুষ্ঠব্যাধির জন্য শেফা।

➥[৪৫] আবু নুয়াইম, আততিব্বি, সূত্র: আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়েলিল মদীনাতুল মুনাওয়ারা পৃ. ৪১


ব্যাখ্যা: হাদিসখানা ইমাম সূয়ুতী (رحمة الله) জামেউল কবীর ও জামেউস সগীর গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেন। জুযাম তথা কুষ্ঠরোগ বড় মারাত্মক একটি রোগ। আল মু’জামুল ওয়াসীত অভিধানে এর অর্থ বলা হয়েছে, الجُذَامُ عِلّةٌ تَتَأكُلُ مِنْهَا الْأَعْضَاءَ وَتَتَسَاقُطُ অর্থাৎ কুষ্ঠরোগ হচ্ছে শরীরের অঙ্গসমূহ খেয়ে ফেলা এবং শরীরের অঙ্গসমূহ ঝড়ে পড়া। এর দ্বারা শরীরের অঙ্গ বিকৃত হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে এ রোগ সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে যায়। নবী করিম (ﷺ) উম্মতের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে মদীনা শরীফের ধূলিকণাকে এ রোগের শেফা বলেছেন। যদিও বা এর পক্ষে বৈজ্ঞানিক কোন সমর্থন না থাকে তবুও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষণার বরকতে এবং ভক্তি বিশ্বাস নিয়ে মদীনা শরীফের মাটি দ্বারা চিকিৎসা করলে নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাকে শেফা দান করবেন।

আল্লামা কাস্তালানী (رحمة الله) মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যা গ্রন্থে লিখেন, মদীনার ধূলিকণা কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগের জন্য বিশেষভাবে উপাকারী। আল্লামা যুরকানী (رحمة الله) এমন অনেক লোকদের কথা লিখেছেন যাদের শ্বেত রোগ ছিল। মদীনা পাকের মাটি লাগানোতে শেফা লাভ করেছিল।

আল্লামা যুরকানী (رحمة الله) লিখেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)বনু হারেস গোত্রে গেলেন। তারা ছিল অসুস্থ। তিনি তাদের অবস্থা জিজ্ঞাসা করলে, তারা বলল, আমরা জ্বর রোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, তোমাদের নিকট তো ‘সাঈব’ বিদ্যমান। এটি মদীনা পাকের একটি বিশেষ স্থানের নাম যা ‘ওয়াদীয়ে বুহতান’ এ অবস্থিত। তারা বলল, সাঈব দিয়ে কী করব? তিনি বললেন, ঐ জায়গার মাটি পানিতে মিশিয়ে এই দোয়া পাঠ করে পান কর। দোয়াটি হল- بِسْمِ اللهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، شِفَاءٌ لِمَريْضِنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا তারা এরূপ করলে আল্লাহর মেহেরবাণীতে জ্বর সেরে গেল।

এই ঘটনা বর্ণনাকারী একজনে বলেন, লোকেরা ঐ জায়গার মাটি নিতে নিতে গর্ত হয়ে গিয়েছিল। আল্লামা সামহুদী (رحمة الله) বলেন ঐ স্থানটি আদৌ বিদ্যমান। লোকেরা ঐ স্থানের মাটি রোগের শেফার জন্য নিয়ে যায়।

ওয়াফাউল ওয়াফা গ্রন্থে আল্লামা সামহুদী (رحمة الله) বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, ঐ সত্ত্বার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, মদীনা শরীফের মাটির মধ্যে প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে। আল্লামা শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) বলেন, অধিকাংশ ওলামাগণ এই চিকিৎসাকে পরিক্ষিত সত্য বলেছেন।

শায়খ মজিদ উদ্দিন ফিরোজাবাদী বলেন, আমি নিজেই পরীক্ষা করেছি। আমার এক গোলাম লাগাতার এক বছর জ্বরে আক্রান্ত ছিল। আমি ‘সাঈব’ নামক স্থানের মাটি নিয়ে পানিতে মিশিয়ে তাকে পান করালে সে সুস্থ হয়ে যায়।

আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) বলেন, আমি নিজেও উপকৃত হয়েছি। যে সময় মদীনা শরীফে অবস্থান করার আমার সুযোগ হল তখন আমার পায়ে এমন ভীষণ ফোলা আসল যে, ডাক্তারগণ সর্বসম্মতিক্রমে বলেছেন, এটা আর ভাল হবে না এবং এটা অঙ্গহানীর বা মৃত্যুর আলামত। আমি ঐ পবিত্র মাটি দ্বারা চিকিৎসা করলাম। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম।

➥[৪৬] জযবুল কুলূব ইলা দিয়ারিল মাহবুব পৃ. ২৭-২৮)।

+++++++++++

গ্রন্থ: চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত
রচনায়: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি।
আরবী প্রভাষক,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা,ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন