শিয়া পরিচিতি

একাদশ পর্ব
=======
শেষ কথা:
====
”শিয়া পরিচিতি”  পুস্তিকাটি   ক্ষুদ্র   হলেও নির্ভরযোগ্য। শাহ   আবদুল  আজিজ  মুহাদ্দিস  দেহলভী  রহমাতুল্লাহি  আলাইহি    লিখিত   ”তোহফা   ইসনা  আশারিয়া”  ফার্সি গ্রন্থের আরবী অনুবাদ ”আল মিনহাতুল ইলাহিয়া” গ্রন্থ হতে সংক্ষিপ্তকারে   এই  ”শিয়া পরিচিতি”  পুস্তিকাখানি সংকলিত হয়েছে।

মুঘল যুগে, বিশেষ করে সম্রাট আকবরের যুগে ভারতে শিয়াদের   উৎপাত   সরকারী    আনুকুল্য   পেয়ে    অনেক বেড়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ৫০ বৎসরের শাসনকালে সম্রাট আকবরের আমির উমারাগণ  শিয়া   মতবাদ   ও  আচার আচরণকে সমাজে প্রচলন করে গেছেন। মুঘল উমারাহ আগা সাদেক,  আগা বাকের বর্তমান বাংলাদেশে শিয়া আচার     -      আচরণ     ব্যাপকভাবে      প্রচার      করেছেন। শিয়াদের     উক্ত      বিদআতী     কার্যকলাপ      ও     আক্বীদা বিশ্বাসের  ভ্রান্তি   থেকে  সমাজকে  উদ্ধার     করার   জন্য  হযরত  মুজাদ্দিদ আলফে সানী  রহমাতুল্লাহি  আলাইহি, হযরত         শেখ       আবদুল        হক        মুহাদ্দিছ        দেহলভী রহমাতুল্লাহি  আলাইহি,  ইতিহাসবেত্তা  আবদুল  কাদির  বদায়ুনী  রহমাতুল্লাহি   আলাইহি,    মোল্লা  দো  পেয়াজা, সম্রাট  আলমগীর,   শাহ  আবদুল  আজিজ  রহমাতুল্লাহি  আলাইহিম     প্রমূখ     মনিষীগণ      কলমী     জিহাদ     করে   গেছেন। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি মকতুবাত শরীফ,  মাদারিজুন নুবুয়ত,  ফতোয়ায়ে  আলমগীরী   ও তোহফায়ে  ইসনা  আশারিয়া   -এর  মত   বিশ্বখ্যাত  গ্রন্থ সমূহ।

শাহ আবদুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহির পর শিয়া ফির্কার  প্রভাব    সমাজ  থেকে  অনেকটা   দূরীভূত  হয়।  শিয়া সুন্নীর দ্বন্দ ও বিতর্ক থাকলেও শিয়ারা ছিল পৃথক সম্প্রদায়     হিসেবে     চিহ্নিত।     অধুনা     শিয়া     বিপ্লবের  মাধ্যমে ১৯৭৯ ইং সালে ইরানে শিয়া হুকুমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   এরা   এর     নাম     দিয়েছে    ”ইসলামী    ইরানী প্রজাতন্ত্র”।   সেখানে  সুন্নী   মুসলমানদেরকে  সংখ্যালঘু  সম্প্রদায় বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শিয়াদের মসজিদ, মাদ্রাসা,      কবরস্থান      ভিন্ন।      অপর      দিকে      সুন্নীদের  মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা ও কবরস্থান ভিন্ন।

ইরানী শিয়ারা  বিপ্লবকে অন্যান্য  মুসলিম  রাষ্ট্রে চালান দেয়ার    জন্য  ইরানী  সরকার   দেশে  দেশে  সাংস্কৃতিক কনসুলেট     খুলেছে।    বাংলাদেশেও     শিয়া     তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তাদের প্রচারের  প্রথম শিকার হয়েছে    -    ওহাবীপন্থী    উলামাগণ      ও       জামায়াতপন্থী ইসলামী   চিন্তাবিদগণ।   ক্বারী   ওবায়দুল্লাহ   -   ইরানের  বিপুল  অর্থানুকুল্যে   সর্বপ্রথম   ঢাকার  ইঞ্জিনিয়ার্স   হলে থানা     ভিত্তিক    প্রতিনিধি    নিয়ে    সম্মেলন    করে     মক্কা শরীফের  হজ্ব  প্রথাকে ”আধুনিক মেলা”  বলে  ঘোষণা  দিয়েছিল এবং  প্রতিনিধি   নিয়ে  ইরান সফর করেছিল। তার পূর্বে ১৯৮২ সালে হাফেজ্জী, মাও: আজিজুল হক, আত্তার   ফারুক,    মাও:    ফজলুল     হক   আমিনী    সহ   - ওহাবী  উলামাদের  একটি  প্রতিনিধি   দল  ইরান   সফর করেন     এবং    আয়াতুল্লাহ     খোমেনীর    পিছনে    নামায আদায়  করে  আসেন।  পরবর্তীতে    বাংলাদেশে  ইরানী ষ্টাইলে  বিপ্লব  ঘটানোর   লক্ষ্যে    -  জামাতে   ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা  মা: দেলোয়ার হোসেন  সাঈদি  ইরানের সাথে    আঁতাত     করেন।    ইরানের    অর্থানুকুল্যে     তিনি প্রায়ই  ইরান  সফর  করে   থাকেন  এবং  সেখান    থেকে প্রেরণা  লাভ করে আসেন।  এভাবে  তাদের দেখাদেখি কিছু   কিছু     উলামা    ও   চিন্তাবিদ    প্রলুব্ধ    হচ্ছেন    এবং শিয়াদের সাথে ঐক্য গড়ে তুলছেন।

হালে বাংলাদেশে শিয়া মতবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।   অভাবী   দেশের    মানুষ   সামান্য   কিছু   ভাতা  পেলেই  বিক্রি  হয়ে  যায়।  সামান্য  কিছু  টাকা  পয়সার  বিনিময়ে  তাই   আলিমগণ   তাদের  ঈমান,   আক্বীদাকে  বিক্রি    করে     দিচ্ছে।    এ    কারণেই    এদেশে      ওহাবী, মওদুদী,     তাবলীগী,     বাহায়ী     শিয়া     প্রভৃতি       বাতিল মতবাদ শিকড় গাড়তে শুরু করেছে। জনগণ কিন্তু সুন্নী মুসলমান।      সুন্নীদের    থেকে     বাগিয়ে    নিয়েই      এসব উপদল গঠিত হচ্ছে। কেউ জ্ঞাতে, কেউ অজ্ঞাতে, কেউ অর্থ লোভে; আবার  কেউ ধর্মীয় উন্মাদনায়  এসব দলে শরীক    হচ্ছে।    শিয়া    ফিৎনার    প্রেক্ষাপটেই    অধমের  বর্তমান   এই   ক্ষুদ্র    প্রয়াস।  ৮ই  জামাদিউল    আউয়াল ১৪১৬   হিজরী  রোজ  বুধবার   অত্র   পান্ডুলিপি   লিখার  কাজ  সমাপ্ত   করা   হয়েছে।  অবশ্য  এর     পূর্বেও   শিয়া বিপ্লবের  উপর  বাংলা  ভাষায়  কিছু  বই  বাজারে  ছাড়া  হয়েছে। আশা করি সূধী পাঠক এগুলোর দ্বারা উপকৃত হবেন। কিন্তু দু:খের বিষয় - বায়তুল মুকাররমের খতীব মাও: ওবায়দুল  হক ১৯৮১ ইং সনে শিয়াদের বিরুদ্ধে  বই     লিখেও   বর্তমানে   তিনি     তাদের   গুনগানে    মত্ত। জানিনা  - এর পিছনে  রহস্য কি? আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নী    নীতিতে  অটল   রাখুন।   নুতন   নূতন   ফির্কা   হতে আমাদের দূরে রাখুন। আমীন

বি:   দ্র:   পান্ডুলিপি  অবস্থায়  শিয়া  পরিচিতি    দীর্ঘ   ১০  বৎসর পড়ে ছিল। ১৪২৬ হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মোতাবেক     ২০০৫    সালের    জুন     মাসে    ইংল্যান্ডের কার্ডিফ অঙ্গজ্যের প্রবাসী এবং মৌলভী বাজারের উত্তর মোলাইম নিবাসী জনাব সূরুক মিয়া তাঁর মরহুম  পিতা ও  মরহুমা মেয়ের রুহের  মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে   অত্র ”শিয়া         পরিচিতি”        বইখানা        প্রকাশনার         দায়িত্ব নিয়েছেন।   আল্লাহ   তাঁকে   উত্তম   বিনিময়   দান   করুন  এবং  তাঁর    পিতা  ও  আদরের  কন্যাকে   জান্নাতে   উচ্চ মর্যাদা নসীব করুন! আমিন!!

- অধম লেখক


উস্তাজুল উলামা আল্লামা আবদুল জলীল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর 'শিয়া পরিচিতি' থেকে প্রকাশিত হয়েছে।


                              সমাপ্ত

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন