মুক্তির পথ বেছে নিন

 

মুক্তির পথ বেছে নিন


দয়াল নবী (ﷺ)-এর বানী - এই উম্মত ৭৩ ফিরকায় (দলে) বিভক্ত হবে, তন্মধ্যে একটি হবে জান্নাতী আর বাকীরা জাহান্নামী। আর আল্লাহর ঘোষনা- প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ লইয়া উৎফুল্ল থাকিবে (সূরা-২৩ (মু’মিনুন); আয়াত: ৫৩ এবং সূরা-৩০ (রূম); আয়াত: ৩২)।



আল্লাহ্ আরো বলেন- প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের কার্যকলাপ সুশোভন করিয়াছেন। তাছাড়া আল্লাহ তা’য়ালা হাশরের মাঠে প্রত্যেককে তাদের নেতাদের (ইমামদের) সাথে ডাকবেন। এই যদি হয় অবস্থা- তা’ হলে দুনিয়ার সব চাইতে মূল্যবান সম্পদ ‘ঈমান-আক্বীদা’, ইহার সঠিক নির্বাচন ও অনুসরন কি আমাদের জন্য অপরিহার্য্য নয়? এই বিষয়ে প্রত্যেকের একবার ভেবে দেখা উচিত-যদি তার গৃহিত/অনুসৃত পথ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর পছন্দনীয় পথ না হয় তবে তার পরিনতি কি হবে? তাই আসুন দ্বীনের সঠিক পথটি নিজের জন্য নির্বাচন করি। কাজটি কিন্তু অত সহজ নয়। তবে আল্লাহ্ যার প্রতি সহায় হন তার জন্য ইহা কঠিনও নয়। নাবিক পথ চলে বাতিঘরের আলো বা জিপিএস-এর অনুসরনে। আর দ্বীনের পথ চলার জন্য সাহাবায়ে কেরাম, চার তরিকার চার ইমাম, চার মাযহাবের চার ইমাম, আল্লামা জালালউদ্দিন রুমী (رحمة الله), ইমাম গাজ্জালী (رحمة الله), হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (رحمة الله), হযরত শাহজালাল (رحمة الله), হযরত জোনায়েদ বাগদাদী (رحمة الله), হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া (رحمة الله), হযরত শেখ ফরিদ (رحمة الله), হযরত জুন্নুন মিসরী (رحمة الله), হযরত জালাল উদ্দিন সূয়তী (رحمة الله), ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী (رحمة الله), হযরত আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী (رحمة الله)-এরা কি হতে পারেন না আমাদের পথের দিশারী-ঈমানের বাতিঘর? উল্লেখ্য, এরা সবাই ছিলেন কোন না কোন মাযহাবের এবং কোন না কোন তরিকতের অনুসারী। এরাই হলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী এবং এদের দলই হলো জান্নাতী দল।



হাদীসে আছে, ‘আমার উম্মত (কখনো) ভ্রষ্ঠতার উপর ঐক্যমত হবে না।’ তাই পূর্বকার ইমামদের ইজতেহাদী রায় এবং স্বর্বজন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুসরণকৃত আমল সমূহ ইজমায়ে উম্মত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। আর এ সকল প্রতিষ্ঠিত আমল পরিহার বা অস্বীকার করা গোমরাহী ও বদনসিবী। অন্য হাদীসে আছে, ‘আমার উম্মত যে কাজকে উত্তম বিবেচনা করে, আল্লাহ্ তা’য়ালাও তা উত্তম বলে বিবেচনা করেন’ (মুসনাদে আবি দাউদ ত্বয়ালসী)।



অর্থাৎ মুসলমানগন যে কাজকে পছন্দ করে, আল্লাহর নিকটও তা পছন্দনীয়। তাই আল্লাহ্ এই উম্মতের পূর্ববর্তী জামানার যেই সকল আমলকে পছন্দ করেছেন, পরবর্তী জামানায় এসে তা অপছন্দ করবেন- এমনটা হতে পারে না। হাদীস হতে আরো জানা যায়, ‘সর্বোত্তম যুগ ছিল হুজুর (ﷺ)-এর যুগ। তারপর সাহাবাদের যুগ, তারপর তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের যুগ।’ ইহাকে বলা হয় উত্তম জামানা (খায়রুল কুরুন)। এই হাদীসের আলোকে পূর্ববর্তী যুগ বর্তমান যুগের চাইতে অধিক আলোকময়। তাই উত্তম যুগের (খায়রুল কুরুনের) প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত আমল ও আক্বীদা কিছুতেই এই যুগে এসে পরিহার বা বাতিল হতে পারে না। তা’ছাড়া উত্তম যুগের ওলামাগন এই যুগের ওলামাদের চাইতে উত্তম ও অধিকতর আলোকিত ছিলেন। এ কথাগুলো আমাদের স্মরণ রাখা উচিত।



মুসলিম উম্মাহর বাতিল পন্থীদের মধ্যে আক্বিদাগত বিভক্তির তিনটি কুফল কম বেশী বিদ্যমান।



প্রথমতঃ তাদের নিজেদের জন্য ইহা ঈমান বিনষ্টকারী।


দ্বিতীয়তঃ অনেক ক্ষেত্রে ইহা রাষ্ট্রদ্রোহী রূপ ধারন করে।


তৃতীয়তঃ অধিকাংশ বাতিল পন্থীরা উম্মাহর অন্যদেরে মুসলমানই মনে করে না এবং অনেকে আবার অন্য মুসলমানদের জান-মালকে নিজেদের জন্য হালাল মনে করে। প্রথম কুফলের কারনে তারা নিজেরাই ধ্বংসের পথে এগুচ্ছে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কুফলের কারনে তারা দেশকে ফেৎনা, আরজকতা ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যার পরিনিতিতে আজ আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ম এবং দেশের মানুষের ঈমান-আমল, দু’টি বিষয়ই মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। ইহাই অত্যন্ত ভয়াবহ ভীতিকর।



নতুন-পুরাতন বাতিল ফিরকার প্রবর্তক ও অনুসারীগণ, যাদের ঈমান-আক্বীদা বিতর্কীত, নবী বিদ্বেষী, নবীর শানকে খর্ব করার জন্য সদা সচেষ্ট, বিধর্মীদের মদদপুষ্ট, নতুন নতুন ফেৎনা সৃষ্টিকারী, জনজীবনে সন্ত্রাস ও তান্ডব সৃষ্টিকারী, কোরআন-হাদীস-ইজমা-কেয়াস সমর্থিত অনেক প্রচলিত আমল আক্বীদাকে বেদআত,শিরক,কুফর আখ্যা প্রদানকারী, নতুন নতুন বেদআতী মতাদর্শের প্রচারকারী- এদের মত ও পথ থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। গুপ্তহত্যা, গলাকাটা, রগকাটা, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও, বোমাবাজী ইত্যাদি আর যাই হউক ইসলামী কর্মকান্ড নয় এবং এ’গুলি ইসলামের রীতিনীতি বহির্ভূত কাজ।



দেশকে ভালবাসা, দেশকে রক্ষা করা, দেশের মানুষের জানমালের হেফাজত করা, দেশের শত্রুকে প্রতিহত করা ইত্যাদি হলো ঈমানী দ্বায়িত্ব। তাই যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, দেশের মানুষকে ঢালাওভাবে নাস্তিকতার অপবাদ দেয়, কাফের বেদআতী ফতোয়া দেয়, দেশে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে, নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে, ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ও ভিন্ন মতের মুসলমানদিগকে নির্বিচারে হত্যা করে, তাদের এবং তাদের অনুসারীদের সকলে মিলে প্রতিহত করতে হবে। কারন এ’দের দ্বারা আজ আমাদের দেশ ও ধর্ম দু’টাই মারাত্বক হুমকির সম্মুখিন। তাই সকলের প্রতি বিনীত আহবান, আসুন আমরা সঠিক ও হক্কানী ঈমানী পথ, নাজাতের পথ, মুক্তির পথ, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ, রাসুল (ﷺ)-এর গোলামীর পথ বেছে নেই এবং সকলে মিলে গোমরাহ, ধর্মান্ধ, দেশদ্রোহীদের প্রতিহত করি এবং এদের হাত থেকে দেশ ও ধর্মকে রক্ষা করি। আল্লাহ্ আমাদের সহায় হউন। আমীন।


 সমাপ্ত 

_________________

কিতাব : হক্ব-বাতিলের পরিচয় ও ঈমান রক্ষা

গ্রন্থনা ও সংকলনে:

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশীদ আলম (অবঃ)

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন