সহিহ হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন হাদিস ৩১/৪০

 

সহিহ হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন

হাদিস ৩১/৪০


عن داؤد بن أبي صالح قال أقبل مروان يوما فوجد رجلا واضعا وجهه على القبر فقال أتدري ما تصنع فأقبل عليه فإذا هو أبو ایوب فقال نعم جءت رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم آت الحجر سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا تبكوا على  الدين إذا وليه أهله ولكن ابكوا عليه إذا وليه غير أهله.


رواه أحمد والطبراني . وقال الحاكم : هذا حديث صحيح الإسناد .


হযরত দাউদ ইবনু আবি সালেহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন যে, এক দিন (সমকালীন খলিফা) মরওয়ান আসলেন এবং তিনি দেখলেন যে, এক ব্যক্তি হুযু নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র আলােকিত কবরে নিজ চেহারা রেখে দাঁড়িয়েছে। তখন তিনি সে ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি জান? তুমি কি করছ? যখন সে ব্যক্তি মরওয়ানের দিকে চেহারা ফিরালেন, তখন তিনি (রাসূলের সাহবী) হযরত আবু আইউয়ুব আনছারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন। (উত্তরে) তিনি বললেন, হ্যাঁ (আমি জানি যে) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র পবিত্র দরবারে হাজির হয়েছি, কোন পাথরের নিকট আসিনি। 


এক বর্ণনার শব্দ আমি কোন অনুভূতিহীন ও নিপ্রাণ বস্তুর নিকট আসিনি। আমি রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহা বলতে শুনেছি দ্বীনের বিষয়ে কেঁদো না, যখন উহার অভিভাবক উহার যােগ্য হয়। দ্বীনের বিষয়ে সে সময় কেদো যখন উহার অভিভাবক অযােগ্য হয়।


এ হাদিসকে ইমাম আহমদ এবং ত্বাবরানী বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম বলেন, এই হাদিস সনদের বিবেচনায় সহীহ।


________________________

ক, আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ, ৫/৪২২, হাদিস : ২৩২৩২;


খ. হাকেম : আল মুসতাদরাক, ৪/৫৬০, হাদিস : ৮৫৭১;

গ. তাবরানী : মু'জামূল কবীর, ৪/১৫৮, হাদিস : ৩৯৯৯; মু'জামূল আওসাত, ১/৯৪, হাদিস :২৮৪; এবং ৯/১৪৪, হাদিস : ৯৩২২;

ঘ. ইবনে আসাকীর: তারিখু মাদিনায়ে দামেস্ক, ৫৭/২৪৯, ২৫০;

ঙ. সুবকী : শিফাউস সিকাম /১১৩;

চ. হায়ছুমী : মাজমাউযূ যাওয়ায়েদ, ৫/২৪৫; 

ছ. হিন্দী : কানযুল উম্মাল, ২/৮৮, হাদিস : ১৪৯২৭;


হাদিস ৩২/৪০


عن عمرو بن ميمون الأودي، قال: رأيت عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: یا عبد الله بن عمر، اذهب إلى أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها، فقل: يقرأ عمر بن الخطاب عليك السلام، ثم سلها، أن أذفن مع صاحبي، قالت: كنت أريده لنفسي قلاوثرنه اليوم على نفسي، فلما أقبل، قال: له ما لديك؟ قال: أذنت لك يا أمير المؤمنين، قال: " ما كان شيء أهم إلى من ذلك المضجع، فإذا قبضت فاحملوني، ثم سلموا، ثم قل: يستأذن عمر بن الخطاب، فإن أذنت لي، فادفنوني، وإلا فردوني إلى مقابر المسلمين.............. الحديث


رواه البخاري وابن أبي شيبة.



হযরত আমর ইবনু মায়মুন আউদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বয়ান করলেন, আমি দেখলাম যে হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (ওফাতের। সময় নিজ পুত্রকে) বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু ওমর উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহার নিকট যাও এবং আরজ কর যে, ওমর ইবনু খাত্তাব আপনাকে সালাম বলছেন এবং আরজ করেন যে, আমাকে আমার দুই সাথীর সাথে (রাসূল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজায়) দাফন হওয়ার অনুমতি দান করবেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা যখন উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার খেদমতে হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এই আবেদন পেশ করলেন তখন হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন, সে জায়গাটি আমি নিজের জন্য রাখতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু আজ আমি তাঁকে (অর্থাৎ হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে) নিজের উপর প্রাধান্য দিচ্ছি। যখন হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ফিরে গেলেন তখন হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট জানলেন কি খবর নিয়ে এসেছ? তিনি আরজ করলেন, হে আমীরুল মুমেনীন! উম্মুল মুমেনীন আপনার জন্য অনুমতি দান করেছেন। তখন হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, (এই বরকতপূর্ণ ও পবিত্র) জায়গার চেয়ে বেশী আমার জন্য (শেষ আরামের স্থল হিসাবে) কোন জায়গা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। অতএব যখন আমার ওফাত হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠায়ে সেখানে নিয়ে যাবে এবং সালাম পেশ করবে। তারপর আরজ করবে (মনিব!) ওমর ইবনু খাত্তাব অনুমতি চাচ্ছেন। যদি আমার জন্য অনুমতি মিলে তখন সেখানে দাফন করবে, অন্যথায় আমাকে সাধারণ মুসলমানদের কবরস্থানে নিয়ে দাফন করে দেবে।


এ হাদিসকে ইমাম বুখারী এবং ইবনু আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন।


_______________________

.ক, বুখারী : আস্ সহীহ, কিতাবুল জানাযেয়, ১/৪৬৯, হাদিস : ১৩২৮; কিতাবুল মানাকিব, ৩/১৩৫৩-১৩৫৫, হাদিস : ৩৪৯৭;

খ. ইবনে আবূ শায়বা : আল মুসান্নাফ, ৩/৩৪, হাদিস : ১১৮৫৮; ৭/৪৩৫-৪৩৬, হাদিস : ৩৭০৫৯, ৩৭০৭৪;


হাদিস ৩৩/৪০


عن عائشة قالت گنت أدخل بيتي الذي دفن فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وابي فاضع ثوبي، وأقول انما هو زوجي وأبي ، فلما دفن عمر معهم فوالله ما دخلته إلا وأنا مشدودة علي ثيابي ، حياء من عمر.


رواه أحمد والحالكم . وقال الحاكم : هذا حديث صحيح على شرط الشيخين . وقال الهيثمي : رجاله رجال الصحيح . وقال الزگشي صحيح على شرط الشيځين .



হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বয়ান করেন যে, যখন আমি এই মুবারক কক্ষে প্রবেশ করতাম যেখানে হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং আমার পিতা (হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) দাফনকৃত, তখন আমি আমার পর্দার কাপড় নামিয়ে রাখতাম এবং বলতাম নিশ্চয় এখানে আমার স্বামী এবং আমার পিতা আছেন (যাদের নিকট পর্দা আবশ্যক নয়)। যখন সেখানে তাঁদের সাথে হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও দাফনকৃত হলেন তখন আমি সেখানে হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে লজ্জাবােধ করত: পূর্ণ হেজাবে প্রবেশ করতাম।


এ হাদিসকে ইমাম আহমদ এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম বললেন এ হাদিস বুখারী ও মুসলিম এর শর্তানুযায়ী সহীহ। এবং ইমাম হায়ছমীও বললেন ইহার বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারী হন। এবং ইমাম জরকশীও বললেন, এ হাদিস বুখারী ও মুসলিম এর শর্তানুযায়ী সহীহ।


_______________________

ক. আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ, ৬/২০২, হাদিস : ২৫৭০১;

খ. হাকেম : আল মুসতাদরাক, ৩/৬৩, হাদিস : ৪৪০৬; ৪/৮, হাদিস : ৬৭২১;

গ. যুরকাশী : আল ইজাবাহ্ , /৬৮, হাদিস : ৬৮;

ঘ. হাইছুমী : মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৮/২৬; এবং ৯/৩৭;


হাদিস ৩৪/৪০


  عن علي بن أبي طالب قال لما حضرت أبا بكر الوفاة أقعدني عند رأسه وقال لي يا على اذا انا مت فغسلنى بالكف الذي غسلت به رسؤل الله صلى الله عليه وسلم وحنطوني واذهبوا بي إلى البيت الذي فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذنوا فإن رأيتم الباب قد فتح (يفتح) فادخلوا بي وإلا فردوني إلى مقابر المسلمين حتى يحكم الله بين عباده؛ قال فغسل وكفن وكنت أول من بادر إلى الباب فقلت یا رسول الله هذا أبو بكر يستأذن 

فرأيت الباب قد فتح (تعتح) فسمعت قاءلا يقول ادخلوا الحبيب إلى حبيبه فان الحبيب

  إلى الحبيب مشتاق ، 


رواه ابن عساكر والسيوطي .



হযরত আলী ইবনু আবি তালেব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, যখন হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ওফাতের সময় ঘনিয়ে আসল, তখন তিনি আমাকে নিজ মাথার পাশে বসালেন এবং বললেন, হে আলী! যখন আমি মৃত্যুবরণ করব তখন আপনি আমাকে নিজের ঐ হাত দিয়ে গােসল করাবেন, যে হাত দিয়ে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে গােসল দিয়ে ছিলেন এবং আমাকে (ও সেই) খুশবু লাগাবেন এবং (আমার মৃত দেহ) হুযূর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর পাশে নিয়ে যাবেন, যদি আপনারা দেখেন যে, (আপনা আপনি) দরজা খুলে দেয়া হল, তখন আমাকে সেখানে দাফন করবেন অন্যথায় ফিরে এনে সাধারণ মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করবেন সে সময় পর্যন্ত যখন আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা না করেন, (অর্থাৎ কেয়ামত না আসে)।


তারপর তাঁর ইচ্ছা মােতাবেকই তাঁকে গােসল এবং (বরকতপূর্ণ খুশবু ওয়ালা) কাফন দেয়া গেল এবং (হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলছেন যে) সবার আগে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র দরজার উপর পৌছে অনুমতি তলব করলাম এবং আরজ করলাম এয়া রাসূলাল্লাহ! ইনি আবু বকর যিনি ভেতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তারপর আমি দেখলাম যে, রওজায়ে পাকের দরজা (আপনা আপনি) খুলে গেল এবং আমি শুনলাম যে, কোন প্রবক্তা বলতেছেন, বন্ধুকে বন্ধুর নিকট দাখিল করে দাও। নিশ্চয় বন্ধু ও বন্ধুর সাক্ষাতের আকাংখী হন।


ইহাকে ইমাম ইবনু আছাকির এবং সুয়ূতী বর্ণনা করেছেন।


________________________

ক. ইবনে আসাকীর : তারিখু মদিনাতি দামেস্ক, ৩০/৩৬;

খ. সুয়ূতী : খাসায়িসুল কুবরা, ২/৪৯২; 


হাদিস ৩৫/৪০


عن أبي إسحاق القرشي يقول : كان عندنا رجل بالمدينة إذا رأى منكرا لا يمكنه أن يغيره أتى القبر فقال : أيا قبر النبي وصاحبيه ألا يا غوثنا لو تعلمونا .


رواه البيهقي


হযরত আবু ইসহাক কুরাশী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বয়ান করছেন যে, এখানে আলােকিত মদীনায় আমাদের পাশে একজন মানুষ ছিল। যখন তিনি এমন কোন খারাবী দেখতাে, যাকে সে নিজ হাতে দমনের শক্তি রাখতাে না তখন সে নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং আলােকিত কবরের পাশে আসতাে এবং (হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে ইহাই) আরজ করতেন, “হে (দু' জগতের সর্দার) কবরবাসী! (এবং নিজ কবরে আরাম করুন) আপনার দুই সাথী এবং হে আমাদের সাহায্যকারী (এবং আমাদের মনিব ও মওলা) আপনি আমাদের (ক্রন্দনের অবস্থার উপর) বদান্য দৃষ্টি দান করুন।”


এ হাদিসকে ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন।


_______________________

বায়হাকী : শু'আবুল ঈমান, ৩/৪৯৫, হাদিস : ৪১৭৭;


হাদিস ৩৬/৪০


عن الحسن قال قال رسؤل الله صلى الله علي وسلم - افرشوا لي قطيفتي في لحدي فإن الأرض لم تسلط على أجساد الأنبياء .


رواه ابن سعد والهندي،


হযরত হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বয়ান করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার জন্য আমার কবরে আমার মখমল চাদর বিছিয়ে দেবে, নিঃসন্দেহে জমিকে আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালাম এর শরীরের উপর শক্তি প্রয়ােগের সুযােগ দেয়া হয়নি।


ইহাকে ইমাম ইবনু সা’দ এবং হিন্দী বর্ণনা করেছেন।


_______________________

ক. ইবনে সা'দ : আত্ তাবাতুল কুবরা, ২/২৯৯;

খ. হিন্দী : কানযুল উম্মাল, ১৫/৫৭৭, হাদিস : ৪২২৪৫;

গ. সুয়ূতী : শরহু আল সুনানুন নাসায়ী, ৪/৮৪; খাসায়েসুল কুবরা, ২/২৭৮;


হাদিস ৩৭/৪০


عن الحسن رضي الله تعالى عنه يقول : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تاكل الأرض جسد من گلمه روح القدس .


رواه الجهضمي وابن القيم ، وقال ابن كثير : مرسل حسن.


وفي رواية عنه : قال : قال رسؤل الله صلى الله عليه وسلم : من كلمه روح القدس - لم يؤذن للارض أن تأكل من لحمه .


رواه المقريزي والسيوطي .



হযরত হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলছেন, যার সাথে রুহুল কুদুছ জিব্রাঈল কথা বলেছেন, জমিন তার দেহ খাবে না। 


ইহকে ইমাম জাহজমী এবং ইবনুল কাইয়ুম বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনু কাছির বলেছেন, এ হাদিস মুরসাল হাসান। 


হযরত হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার সাথে রুহুল কুদুছ কথা বলেছেন জমিকে তাঁর গােশত খাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। 


ইহাকে ইমাম মাকুরীজি এবং সুয়ূতী বর্ণনা করেছেন।



قال العلامة الشرنبلالي في الإيضاح في فصل زيارة النبي صلى الله عليه وسلم : ومما هو مقرر عند المحققين انه صلي الله عليه وسلم حي يرزق ممتع بجميع الملاذ والعبادات غير انه حجب عن ابصار القاصرين عن شريف المقامات.


আল্লামা শরম্বালালী নিজ কিতাব 'নুরুল ঈজাহ’ এ হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জেয়ারত এর অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন, সেখানে তিনি বলেন, মহাককেকীনদের নিকট ইহা মিমাংসিত বিষয় যে, হুযুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম জীবিত। হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে (হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর শানের যােগ্য) রিজিক দেয়া হয় এবং তিনি যাবতীয় স্বাদ ও এবাদতসমূহ দ্বারা উপকৃত হন। পার্থক্য শুধু এতটুকু এসব লােকদের দৃষ্টি থেকে হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আড়ালে রয়েছেন, যে দৃষ্টি মক্বামাতে আলিয়া থেকে খাটো।


______________________

ক. যাহদামী : ফদ্বলুস সালাতু আলান্ নবী, /৩৮, হাদিস : ২৩; 

খ. ইবনে কাইয়ুম : জালাউল আফহাম, ৪১, হাদিস : ৫৯;

গ. ইবনে কাসীর : তাফসীরু কুরআনিল আযীম, ৩/৫১৫;

ঘ. সাখাভী  : আল কাউলুল বদী, /১৬৯;

ভ. মাকরীষী : ইমতাউল আসমা, ১০/৩০৬;

চ. সুয়ূতী : খাসায়েসুর কুবরা, ২/২৮০; দুরুল মনসুর, ১/৮৭


ক. শারনাবলালী : নুরুল ইযাহ/ ৩৯১;


হাদিস ৩৮/৪০


عن سعيد بن عبد العزيز رضي الله تعالى عنه قال : لما كان أيام الحرة لم يوذن في مسجد النبي صلي الله عليه وسلم ثلاثا ولم يقم ولم يبرح سعيد بن المسيب رضي الله تعالي عنه من المسجد ، وكان يعرف وقت الصلاة إلا بهمهمة يسمعها من قبر النبي صلى الله  عليه وسلم فذكر معناه .



হযরত সাঈদ ইবনু আবদুল আজিজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন আইয়্যামে হাররাহ (যে দিনগুলােতে ইয়াজিদ মদীনা মুনাওয়ারার উপর হামলা করায়ে ছিল) এর ঘটনা ঘটেছিল তখন হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে তিন দিন যাবৎ আযান ও একামত বলা হয়েছিল না এবং হযরত সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (যিনি বড় মর্যাদাবান তাবেয়ী ছিলেন তিনি মসজিদে নববী (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম)-তে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তিনি (তিন দিন পর্যন্ত) মসজিদ ছাড়া ছিলেন না। এবং তিনি নামাজের সময় জানতেন না কিন্তু একটি নীচু স্বরের মাধ্যমে, যা হুযুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র আলােকিত কবর থেকে শুনতেছিলেন। তারপর তিনি উহার অর্থও বয়ান করলেন। 


এ হাদিসকে ইমাম দারেমী এবং খতীব। তাবরিজী বর্ণনা করেছেন।


______________________

ক. দারেমী : আস্ সুনান, ১/৫৬, হাদিস : ৯৩;

খ. খতীবে তিরমিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ, ২/৪০০, হাদিস : ৫৯৫১;

গ. সুয়ূতী : শরহু সুনানি ইবনে মাজাহ, ১/২৯১, হাদিস : ৪০২৯; 


হাদিস ৩৯/৪০


وفي رواية عنه (سعيد بن عبد العزيز) ، وما يأتي وقت صلاة إلا سمعت الأذان من القبر . 


رواه أبو نعيم والسيوطي .



এবং তাঁর (হযরত সাঈদ ইবনু আব্দুল আজিজ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় আছে, হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন নামাযের সময় এমন আসেনি যে, আমি হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র আলােকিত কবর থেকে আযানের শব্দ শুনিনি।


ইহাকে ইমাম আবু নাঈম এবং সায়ুতী বর্ণনা করেছেন। (৪৬)



وفي رواية عنه قال : فكنت إذا حانت الصلاة أسمع أذانا يخرج من قبل القبر الشريف .


رواه ابن سعد .


وفي رواية عنه قال : لم ازل اسمع الأذان والإقامة من قبر رسول الله صلي الله عليه وسلم ایام الحرة حتي عاد الناس .


رواه التميز والشؤط .


এবং তাঁরই রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বললেন, যখন নামাযের সময় আসতাে তখন আমি হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলােকিত কবরের দিক থেকে আযানের শব্দ শুনতাম।


ইহাকে ইমাম ইবনু সা'দ বর্ণনা করেছেন।


তারই নিকট থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেন, আমি আইয়্যামে হাররার কালে অবিরত হুযুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর আলােকিত কবর থেকে আযান এবং একামতের শব্দ শুনতে ছিলাম, এই পর্যন্ত যে, লােকদের (অবস্থা) স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসল (অর্থাৎ মসজিদে নববীতে নিয়মিত আযান ও একামত শুরু হয়ে গেল)


ইহাকে ইমাম মাকারিজী এবং সুয়ূতী বর্ণনা করেছেন। (৪৭)


_____________________

৪৬*

ক. আবু নাঈম : দালায়েলুন নবুয়ত, /৪৯৬;

খ. সুয়ূতী : খাসায়েসুল কুবরা, ২/২৮০; আল হাবী লিল ফাতওয়া, ২/২৬৬; 

গ. মাকরীযী : ইমতাউল আসমা, ১৪/৬১৫; 

ঘ. যুরকানী ; শরহু মাওয়াহিবুল লাদুন্নী, ৭/৩৬৫;

ঙ. আবদুল হক মুহাদ্দীস দেহলভী : জযবুল কুলুব ইলা দিয়ারিল মাহবুব, /৪৪; 


৪৭*

ক. ইবনে সা'দ : আত্ ত্বাবকাতুল কুবরা, ৫/১৩২;

খ. সুয়ূতী : আর রাসয়িলুত তিস'আ, /২৩৮-২৩৯; আল হাভী লিল ফাতওয়া, ২/৬২২; আল খাসায়েসুল কুবরা, ২/২৮১;

গ. মাকরেযী : ইমতাউল আসমা, ১৪/৬১৬; 

ঘ, যুরকানী ; শরহুল মাওয়াহিবুল লাদুন্নী, ৭/৩৬৫;


হাদিস ৪০/৪০


عن عروة، عن أبيه، لما سقط عليهم الحائط في زمان الوليد بن عبد الملك، أخذوا في بناءه فبدت لهم قدم، فزعوا وظوا أنها قدم النبي صلى الله عليه وسلم، فما وجدوا أحدا يعلم ذالك حتى قال لهم عروة: «لا والله ما هي قدم النبي صلى الله عليه وسلم، ما هي إلا قدم عمر رضي الله عنه»


رواه البخاري وابن سعد.


হযরত ওরওয়াহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, যখন অলিদ ইবনু আবদুল মালিক এর আমলে (হুজরা মােবারক এর) দেয়াল ঐ (লােকদের) উপর পড়ে গেল তখন একটি পা প্রকাশ পেল। লােকজন ভয় পেল এবং বুঝল যে, সম্ভবত ইহা হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর পা মােবারক। ইহার কোন পরিচয়কারী পাওয়া গেল না, শেষ পর্যন্ত হযরত ওরওয়াহ (চিনে নিলেন এবং) বললেন, খােদার কসম, ইহা হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম'র পা মােবারক নয় বরং হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ক্বদম।


ইহাকে ইমাম বুখারী এবং ইবনু সা'দ বর্ণনা করেছেন।


______________________

ক. বুখারী : আস্ সহীহ, কিতাবুল জানায়েয, ১/৪৬৮; হাদিস : ১৩২৬;

খ. ইবনে সা'দ : আত্ তাবকাতুল কুবরা, ৩/৩৬৮





সংক্ষেপে ইমামদের রায়

ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ)


وقال الملا علي القاري في الوسائل : أنه لم يقل أحد أن قبورهم خاليه عن أجسادهم ، وأرواحهم غير المتعلقة بأجسامهم ؛ لءلا يسمعوا سلام من يسلم عليهم ، وكذا ورد أن الأنبياء يلبون ويحجون ، فنبينا - صلى الله عليه وسلم - أولى بهذه الكرامات،



মােল্লা আলী কৃারী নিজ কিতাব ‘জমউল মাসায়েল ফি শরহিশ শামায়েল’ এ বললেন, নিঃসন্দেহে কেউ একথা বলেনি যে, তাঁর কবর তার দেহ থেকে খালি এবং তাঁর রূহের সাথে তার দেহের কোন সম্পর্ক নেই এবং যে কেউ তার উপর সালাম পেশ করে উহা তিনি শুনেন না। তখন এরূপে আম্বিয়াদের প্রসঙ্গে এসেছে যে, নিঃসন্দেহে আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালাম তালবিয়া বলেন এবং হজ্ব করেন। এবং আমাদের হুজুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জন্য এই কারামতসমূহ উত্তম পন্থায় প্রমাণিত আছে।


______________________

মোল্লা আলী কারী : জমউল ওসায়েল, ২/৩০০


ইমাম কাসত্বালানী (রহঃ)


وقال القسطلاني في المواهب : وقد ثبت أن الأنبياء يحجون ويلبون. فإن قلت: كيف يصلون ويحجون ويلبون وهم أموات في الدار الآخرة وليست دار عمل؟


فالجواب: أنهم كالشهداء، بل أفضل منهم، والشهداء أحياء عند ربهم يرزقون. فلا يبعد آن يحجوا ويصلوا .



এবং ইমাম কাসত্বালান আল মাওয়াহেব এ বলেন, নিঃসন্দেহে ইহা প্রমাণিত হয়েছে যে, আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালাম হজ্ব করেন এবং তালবিয়া বলেন। যদি ইহা বলা যায় যে, তারা ওফাত পেয়েছেন এবং আখেরাতের ঘরে আছেন, দারুল আমলে নেই। তখন একথার উত্তর এই যে, তাদের অবস্থা শহীদদের ন্যায় বরং তাঁদের চেয়েও উত্তম। যখন শহীদগণ আপন রবের নিকট জীবিত এবং তাদেরকে (তাঁদের মানযোগ্য) খাবার দেয়া হয়, তখন যদি আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস্ সালাম হজ্ব করেন এবং নামাজ পড়েন তখন ইহাতে দুর কিসের?


______________________

ক. কসতালানী : আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নী, ২/৬৯৫; 

খ. যুরকানী : শরহু মাওয়াহিবুল লাদুন্নী, ৭/৩৬৫-৩৬৬;


আল্লামা মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশমিরী (রহঃ)


وقال العلامة محمد انور شاه الكاشميري : واعلم أنه قد تگلمنا مرة في معنى حياة الشهداء والأنبياء عليهم السلام؛ وحاصله: أن الحياة بمعنى أفعال الحياة، وإلا فالأرواح كلها أحيا، ولو كانت أرواح الكفار؛



আল্লামা মুহাম্মদ আনওয়ার শাহ কাশমিরী বললেন, জেনে রাখুন, আমরা প্রথমে নবীদের জীবন এবং শহীদদের জীবন সম্পর্কে আলােচনা করেছি, যার সারমর্ম এই যে, তাদের জীবিত হওয়ার মতলব এই যে, তারা জীবিতদের ন্যায় কার্যাবলী আদায় করেন। অগত্যা রূহ তাে সবগুলাে জীবিত (বরযখে), যদিও কাফিরদের রূহ হােক না কেন?


_______________________

আনোয়ার শাহ কাশমিরী : ফয়যুল বারী, ৩/৪২৫;


আল্লামা শরম্বালালী (রহঃ)


قال العلامة الشرنبلالي في الإيضاح في فصل زيارة النبي صلى الله عليه وسلم : ومما هو مقرر عند المحققين انه صلي الله عليه وسلم حي يرزق ممتع بجميع الملاذ والعبادات غير انه حجب عن ابصار القاصرين عن شريف المقامات.


আল্লামা শরম্বালালী নিজ কিতাব 'নুরুল ঈজাহ’ এ হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জেয়ারত এর অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন, সেখানে তিনি বলেন, মহাককেকীনদের নিকট ইহা মিমাংসিত বিষয় যে, হুযুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম জীবিত। হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে (হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর শানের যােগ্য) রিজিক দেয়া হয় এবং তিনি যাবতীয় স্বাদ ও এবাদতসমূহ দ্বারা উপকৃত হন। পার্থক্য শুধু এতটুকু এসব লােকদের দৃষ্টি থেকে হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আড়ালে রয়েছেন, যে দৃষ্টি মক্বামাতে আলিয়া থেকে খাটো।


______________________

শারনাবলালী : নুরুল ইযাহ/ ৩৯১;

__________________

হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন

মূলঃ শায়খুল ইসলাম ড. মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদঃ মাওলানা মুহাম্মদ মুজাফ্ফর আহমদ

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন