সহিহ হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন হাদিস ১১/৪০

 

সহিহ হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন 

হাদিস ১১/৪০


عن عبد الله بن مسعوډ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كأني أنظر إلى موسی بن عمران في هذا الوادي محرما بين قطوانيتين» 


رواه الطبراني وأبو يعلي وقال المنذري والهيثمى : إسناده حسن



হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি (সে সময়ও) যেমন হযরত মূসা ইবনু ইমরানকে সে উপত্যকায় দু'খানা ক্বিতওয়ানী চাদরের মধ্যখানে এহরাম অবস্থায় দেখতে ছিলাম।


এ হাদিসকে ইমাম ত্বাবরানী, আবু ইয়া’লা এবং আবু নাঈম বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুনযেরী এবং হায়ছমী বলেন, ইহার ইসনাদ হল হাসান।


______________________

ক. তাবরানী : আল মু'জামূল কবীর, ১০/১৪২, হাদিস : ১০২৫৫; মু'জামুল আওসাত, ৬/৩০১, হাদিস : ৬৪৮৭;

খ. আবু ইয়ালা : আল মুসনাদ, ৭/২৭, হাদিস : ৫০৯৩;

গ. মূনযির : আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব, ২/১১৮, হাদিস : ১৭৪০;

ঘ. হায়ছূমী : মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৩/২২১ এবং ৮/২০৪;


হাদিস ১২/৪০

 

عن عبد الله بن عباس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتي على وادي الأزرق فقال: «ما هذا؟» قالوا: وادي الأزرق فقال: «كاني أنظر إلى موسی بن عمران مهبطا له خوار إلى الله بالتكبير، ثم أتى على ثنية، فقال: «ما هذه الثنية؟ قالوا: ثنيه كذا وكذا؟ فقال: «كاني أنظر إلى يونس بن متى على ناقة حمراء جعدة خطامها ليف وهو يلبي، وعليه جبة صوف -  


رواه الحاكم وابن حبان وأبو نعيم وأبو عوانة والطبراني . وقال الحاكم : هذا حديث صحيح على شرط مسلم،



হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বয়ান করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ওয়াদিয়ে আজরকের দিকে আসলেন এবং জানতে চাইলেন ইহা কি? সাহাবাহ কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আরজ করলেন (এয়া রাসূলাল্লাহ!) ইহা ওয়াদিয়ে আজরক। তখন হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যেমন মূসা ইবনু এমরানকে দেখতে ছিলাম যে, তিনি এ উপত্যকায় আল্লাহ তা'আলার মহত্ব বয়ান করতঃ অবতীর্ণ হচ্ছেন। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এক পাহাড়ী পথের দিকে গমন করলেন, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন, ইহা কোন পাহাড়ী পথ? সাহাবাহ কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আরজ রলেন, ইহা অমুক অমুক পাহাড়ী পথ। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যেমন হযরত ইউনুছ ইবনু মাত্তা আলায়হিস সালামকে লাল রঙের এলােমেলাে কেশওয়ালা উষ্ট্রীর উপর বসা অবস্থায় দেখতে ছিলাম। সে উষ্ট্রীর লাগাম খেজুরের ছালের ছিল। এবং তিনি তলবিয়াহ বলতে ছিলেন এমতাবস্থায় তার পরনে পশমের জুব্বা ছিল।


এ হদিসকে ইমাম হাকেম ইবনু হিব্বান, আবু নাঈম, আবু উ’য়ানা এবং তাবরানী বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম বলেন, এ হাদিস ইমাম মুসলিম এর শর্তাবলীর ভিত্তিতে সহীহ।

______________________

ক. হাকেম : আল মুসতাদরাক, ২/৩৭৩, ৬৩৮, হাদিস : ৩৩১৩;

খ. ইবনে হিব্বান : আস সহীহ, ১৪/১০৩, হাদিস : ৬২১৯;

গ. তাবরানী : আল মু'জামুল কবীর, ১২/১৫৯, হাদিস : ১২৭৫৬;

ঘ. আবুনাঈম : হিলইয়াতুল আওলিয়া, ২/২২৩, ৩/৯৬;

ঙ. আবু আওনা : আল মুসনাদ, ২/৪২১, হাদিস : ৩৬৮২;


হাদিস ১৩/৪০


عن ابن عباس رضي الله عنهما ، أنه قال : لقد سلك فج الروحاء سبعون نبيا حجاجا عليهم ثياب الصوف ، ولقد صلى في مسجد الخيف ثبعون نبيا. 


رواه الحالكم و الطبراني والبيهقي . وقال الهيثمي : رجاله ثقات.



হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বয়ান করেন যে, ৭০ (সত্তর) জন আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালাম হজ্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে রাওহাহ এর পথে রওয়ানা দিলেন, যাদের পরনে পশমের কাপড় ছিল এবং ৭০ (সত্তর) জন অম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালাম মসজিদে খাইফে নামায আদায় করেন।


এ হাদিসকে ইমাম হাকেম, ত্ববরানী এবং বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন। ইমাম হায়ছূমী বলেন, এ হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযােগ্য।


_________________________

ক. হাকেম : আল মুসতাদরাক, ২/৬৫৩, হাদিস : ৪১৬৯;

খ. ইবনে হিব্বান : আস্ সহীহ, ১৪/১০৩, হাদিস : ৬২১৯;

গ. তাবরানী : আল মু'জামূল কবীর, ১২/৪৭৪, হাদিস : ১৩৫২৫;

ঘ. বায়হাকী : আস্ সুনানুল কুবরা, ৫/১৭৭, হাদিস : ৯৬১৮;

ঙ. ফাকেহী : আখবারু মক্কা, ৪/২৬৬, হাদিস : ২৫৯৪;

চ. হায়ছূমী : মাজমাউয যাওয়াদে, ৩/২৯৭; 


হাদিস ১৪/৪০


عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «صلى في مسجد الخيف سبعون نبیا منهم موسی كأني أنظر إليه وعليه عباءتان  قطوانيتان وهو محرم على بعير من إبل شنوءة مخطوم بخطام ليف له ضفران» 


رواه الطبراني أبو نعيم والفاكهى . وقال الهيثمي : رجاله ثقات .



হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুযূর নবী আকরম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, মসজিদে খাইফে ৭০ (সত্তর) জন আম্বিয়ায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম নামায আদায় করেছেন। যাদের মধ্যে হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (সে সময়ও) আমি যেমন তাঁকে দেখতে ছিলাম এবং তাঁর পরণে দু'খানা ক্বিতওয়ানী চাদর ছিল। এবং তিনি এহরাম পরা অবস্থায় শানুয়াহ গােত্রের উষ্ট্ৰীসমূহের একটি উষ্ট্রীর উপর আরােহী ছিলেন। যার লাগাম খেজুরের ছালের ছিল। যাতে দুইটি রশি ছিল।


এ হাদিসকে ইমাম ত্ববরানী আবু নঈম এবং ফাকেহী বর্ণনা করেছেন, ইমাম হায়ছুমী বলেন, ইহার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযােগ্য।


_____________________

ক. তাবরানী : আল মু'জামূল কবীর, ১১/৪৫২, হাদিস : ১২২৮৩;

খ. আবু নাঈম : হিলইয়াতুল আওলিয়া, ২/১০;

গ. ইবনে আদী : আল কামেল, ৬/৫৮;

ঘ. ফাকেহী : আখবারু মক্কা, ৪/৬২২, হাদিস : ২৫৯৩; 

ঙ. দায়লামী: আল মুসনাদুল ফিরদাউস, ২/৩৯২, হাদিস : ৩৭৪০;

চ. হায়ছুমী : মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ, ৩/২২১, ২৯৭;


হাদিস ১৫/৪০


عن عمار بن یاسر ، يقول : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله وكل بقبري ملكا أعطاه أسماع الخلائق ، فلا يصلي على أحد إلى يوم القيامة إلا ابلغني باسمه واسم ابيه، هذا فلان ابن فلان قد صلى عليك - 


رواه البزار والبخاري في الكبير ، وقال الهيثمي : فيه ان الجميري لا أعرفه وبقية رجاله رجال الصحيح


وروى أبو الشيخ ابن حبان ولفظه : قال رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم : إن الله تبارك وتعالي ملگا أعطاه أسماع الخلائق كلهم ، فهو قائم على قبري ، إذا مت الى يوم القيامة ، فليس أحد من صلى على صلاة إلا سماه باسمه واسم آبیه ، فقال : يا محمد ، صلي عليك فلان، فيصلي الرب تبارك وتعالى علي ذالك الرجل بكل واحد عشرا.



হযরত আম্মার ইবনু ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমার কবরের উপর একজন ফেরেশতা নিয়ােগ করেছেন, যাকে আল্লাহ তা'আলা সমস্ত সৃষ্টিকুলের শব্দ শ্রবণের (এবং বুঝার) শক্তি দান করেছেন, তখন কেয়ামত দিবস পর্যন্ত যে-কেউ আমার উপর দরূদ পাঠ করবে সে ফেরেশতা ঐ দরূদ পাঠকের নাম এবং তার পিতার নাম আমার নিকট পৌছাবেন এবং আবেদন করবেন, এয়া রাসূলাল্লাহ! (দ.) অমুকের পুত্র অমুক আপনার উপর দরূদ প্রেরণ করেছেন।


এ হাদিসকে ইমাম বাজ্জার এবং বুখারী আত্তারিখুল কবীর এ এবং মুনজেরী ও বর্ণনা করেছেন। ইমাম হায়ছুমী বলেন, ইহার সনদে ইবনু হুমায়রী বর্ণনাকারীকে আমি চিনি না। তিনি ছাড়া সকল বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারী হন।


আবূ শায়খ ইবনু হাইয়্যান এর বর্ণনার শব্দসমূহ এরূপ যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার এক ফেরেশতা আছে, যাকে আল্লাহ তা'আলা সমস্ত সৃষ্টিকুলের শব্দ শােনার (এবং বুঝার) শক্তি দান করেছেন, তখন সে ফেরেশতা আমার ওফাতের পর কেয়ামত পর্যন্ত আমার কবরের উপর দণ্ডয়মান থাকবে, অতঃপর আমার উম্মতের মধ্য থেকে যে-কেউ আমার উপর দরূদ প্রেরণ করবে সে ফেরেশতা তার নাম এবং তার পিতার নাম নেবেন এবং বলবেন, হে মুহাম্মদ! (আমার মনিব) অমুক ব্যাক্তি আপনার খেদমতে দরূদ প্রেরণ করেছেন। তখন আল্লাহ তা'আলা সে ব্যাক্তির উপর প্রতি দরূদের বিনিময়ে দশটি রহমত অবতীর্ণ করবেন।


_______________________

ক. বাযযার : আল মুসনাদ, ৪/২৫৫, হাদিস : ১৪২৫, ১৪২৬;

খ. বুখারী : তারিখুল কবীর, ৬/৪১৬, হাদিস : ২৮৩১; 

গ. ইবনে হাইয়ান: আল আযমা, ২/৭৬২, হাদিস : ১;

ঘ. হায়ছুমী : মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১৬২;


হাদিস ১৬/৪০


عن عبد الرحمن بن عبد القاري، قال: انه سمع عمر بن الخطاب، يعلم الناس التشهد على المنبر : «التحيات لله الزاكيات لله الطيبات الصلوات لله، السلام عليك ايها النبي ورحمه الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوة»


رواه مالك والشافعي وعبد الرزاق والطحاوي . وقال الحاكم هذا حديث صحيح على شرط مسلم،


وفي رواية : عن ابن عمر رضي الله تعالى عنهما ، عن رسول الله صلى الله تعالى عنه أنه قال في التشهد : التحيات لله، والصلوات والطيباات، السلام عليك أيها النبي ورحمه الله و بر گاته،..


رواه الدار قطني ومالك . وقال الدار قطني : هذا إسناد صحيح .


وفي رواية : عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا التشهد : التحيات الطيبات الزاكيات لله ، السلام عليك أيها النبي ورمة الله وبركاته ...... فذكر الحديث بنحوه .


رواه الدارقطني والحاكم : عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما . وقال الدار قطني : وهذا إسناد متصل حسن . وقال الحاكم : صحته على شرط مسلم.


وفي رواية : عن عائشة رضي الله تعالى عنها ، زوج النبي صلى الله عليه وسلم كانت تقول إذا تشهدت ...... فذكره الحديث بنحوه.


رواه مالك وابن أبي شيبة



হযরত আবদুর রহমান ইবনু আবদুল ক্বারী থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত ওমর ইবনু খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মিম্বরের থাকাবস্থায় লােকদেরকে তাশাহহুদ শেখানাের সময় শুনলেন, হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তােমরা ইহাই বল, সমস্ত কথন ও করণীয় উপাসনা এবং সমস্ত পবিত্র বস্তুসমূহ আল্লাহ তা'আলার জন্য এবং হে সম্মানিত নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহ তা'আলার দয়া  ও তার বরকতসমূহ (অবতীর্ণ হােক) এবং শান্তি বর্ষিত হােক আমাদের উপর এবং আল্লাহ তাআলার সমস্ত নেক বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা'আলা ছাড়া কোন উপাস্য নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তা'আলার (প্রিয়) বান্দা ও তাঁর রাসূল।”


এ হাদিসকে ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আবদুর রাজ্জাক এবং তাহাভী বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম বলেন, এ হাদিস ইমাম মুসলিম এর শর্তাবলীর ভিত্তিতে সহীহ। 


“অপর এক বর্ণনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হুযূর নবী আকরম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাশাহহুদে (ইহাই পড়) সমস্ত কথন ও করণীয় উপাসনাসমূহ এবং সমস্ত পবিত্র কলিমাসমূহ আল্লাহ্ তা'আলার জন্য নির্দিষ্ট। হে সম্মানিত নবী! আপনার উপর শান্তি হােক এবং আল্লাহ তা'আলার দয়া..." এ হাদিসকে ইমাম দারুকুতনী এবং মালেক বর্ণনা করেছেন।


অপর এক বর্ণনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, হুযূর নবী আকরম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ তাশাহহুদ শেখাতে ছিলেন। সমস্ত কথন ও করণীয় উপাসনাসমূহ এবং সমস্ত উন্নত কলিমাসমূহ আল্লাহ্ তা'আলার জন্য নির্দিষ্ট। হে সম্মানিত নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহ্ তা'আলার দয়া ও বরকতরাজী (বর্ষিত) হােক... আল-হাদিস।


এ হাদিসকে ইমাম দারুকুতনী এবং হাকেম হযরত জাবের ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম দারুকুতনী বলেন, এ হাদিস সনদ হিসাবে মুত্তাসিল হাসান। ইমাম হাকেমও বলেন এ হাদিস ইমাম মুসলিম এর শর্তাবলীর ভিত্তিতে সহীহ।


অপর এক বর্ণনায় আছে যে, উম্মুল মু'মেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা তাশাহ্হুদে উপরােল্লেখিত দোয়াই পাঠ করতেন। এ হাদিসকে ইমাম মালেক এবং ইবনু আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন।


________________________

ক. ইমাম মালেক : আল মুয়াত্তা, কিতাবুন নিদা বিস্ সালাত, ১/৯০-৯১, হাদিস :২০৩-২০৬; 

খ. শাফেয়ী : আল মুসনাদ, ১/২৩৭; 

গ. আবূ শায়বা : আল মুসান্নাফ, ১/২৬১, হাদিস : ২৯৯২;

ঘ. আবদুর রাযযাক : আল মুসান্নাফ, ২/২০২, হাদিস : ৩০৬৭; 

ঙ. তাহাবী : শরহু মা'আনিয়াল আসার, ১/২৬১; 

চ. দারে কুতনী : আস্ সুনান, ১/৩৫১, হাদিস : ৬-৯;

ছ. হাকেম : আল মুসতাদরাক, ১/৩৯৮, ৩৯৯, হাদিস : ৯৭৮-৯৮৩;

জ. বায়হাকী : আস্ সুনানুল কুবরা, ২/১৪২, হাদিস : ২৬৫৫-২৬৬৭;

ঝ. ইবনে আবদুল বার: আল ইসতিযকার, ১/৪৮৪;


হাদিস ১৭/৪০


عن عبيد الله بن بريدة عن ابيه رضي الله تعالى عنه قال : قال رسول الله صلي الله عليه وسلم : یا بريده ، إذا جلست في صلاتك ، قلاتتركن التشهد والصلاة على فانها زكاة الصلاة ، وسلم على جميع أنبياء الله ورسوله ، وسلم على عباد الله الصالحين .


رواه الدار قطني والديلمي.



হযরত ওবাইদুল্লাহ ইবনু বুরায়দা নিজ পিতা হযরত বুরায়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে বুরায়দা! যখন তুমি নিজ নামায পড়তে বসবে, তখন তাশাহহুদ এবং আমার উপর দরূদ প্রেরণকে কখনাে ছেড়ে দেবে না। উহা নামাযের যাকাত। এবং আল্লাহ তা'আলার সমস্ত নবী এবং রাসূলগণের উপর এবং তাঁর নেক বান্দাদের উপরও সালাম প্রেরণ কর।


এ হাদিসকে ইমাম দারুকুতনী এবং দায়লামী বর্ণনা করেছেন।


________________________

ক. দারে কুতনী : আস্ সুনান, ১/৩৫৫, হাদিস: ৩

খ. দায়লামী : আল্ মুসনাদুল ফেরদাউস, ৫/৩৯২, হাদিস : ৮৫২৭;

গ. হায়ছূমী : মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ, ২/১৩২;


হাদিস ১৮/৪০


عن عبد الملك بن سعيد بن سويد، قال: سمعت ابا حميد، أو أبا أسيد الأنصاري يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إذا دخل أحدكم المسجد فليسلم على النبي صلى الله عليه وسلم، ثم ليقل: اللهم <ص:۱۲۷» افتح لي أبواب رحمتك، فإذا خرج قليقل: اللهم إني أسألك من فضلك "، رواه أبو داود وابن ماجه والدارمي،


وقال الرازي : قال أبو زرعة : عن أبي حميد وابي أسيد كلاهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أصح . وقال المناوي : إذا دخل أحدكم المسجد فليسلم ندبا مؤكدا أو وجوبا علي النبي صلي الله عليه وسلم لأن المساجد محل الذكر ، والسلام علي النبي صلى الله عليه وسلم منه .



হযরত আবু হােমাইদ আস্-সায়েদী বা আবু উসাইদ আল আনছারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বয়ান করেন যে, হুযূর নবী আকরম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তােমাদের মধ্য থেকে কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন তার উচিৎ যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সালাম প্রেরণ করা। তারপর বলবে, হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন এবং যখন মসজিদ থেকে বের হবে তখন বলবে। হে আল্লাহ! আমি আপনার থেকে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।


এ হাদিসকে ইমাম আবু দাউদ, ইবনু মাজা এবং দারেমী বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু হাতেম রাজী বলেন যে, ইমাম আবু জুরআ’ বলেন, হযরত আবু হােমাইদ এবং আবু ওসাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয় থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ বিশুদ্ধতম। এবং ইমাম মুনাভী বলেন, যখন তােমাদের মধ্য থেকে কেউ মসজিদে প্রবেশ করে তখন তার উচিৎ হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে সালাম পেশ করাকে পছন্দনীয় এবং আবশ্যকীয় মনে করে আবেদন করা, কেননা মসজিদ হল জিকির করার স্থান এবং হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র খেদমতে সালাম পেশ করাও আল্লাহর জিকির এর শামিল।


_______________________

ক, আবু দাউদ : আস্ সুনান, কিতাবুস সালাত, ১/১২৬, হাদিস : ৩৬৫;

খ. ইবনে মাজাহ : আস্ সুনান, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়াল জামাআত, ১/২৫৪, হাদিস : ৭৭২;

গ. দারেমী :  আস্ সুনান, ১/৩৭৭, হাদিস : ১৩৯৪;

ঘ. ইবনে হিব্বান : আস্ সহীহ, ৫/৩৯৭, হাদিস : ২০৪৮;

ঙ. রাযী : ইলালুল হাদীস, ১/১৭৮, হাদিস : ৫০৯;


হাদিস ১৯/৪০


عن فاطمة بنت الحسين، عن جدتها فاطمة الكبرى قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل المسجد صلى على محمد وسلم، وقال: رب اغفر لي ذنوبي، وافتح لي أبواب رحمتك، وإذا خرج صلى على محمد وسلم، وقال: رب اغفر لي ذنوبي، وافتح لي أبواب فضلك. رواه الترمذي وأحمد وعبد الراق.


وفي رواية يقول : بسم الله والسلام علي رسول الله .......... فذكر الحديث نحوه.  رواه ابن ماجه وابن أبي شيبة .


 وفي رواية : قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل المسجد صلي على محمد وسلم ....... فذكر الحديث نحوه.  رواه احمد وابو يعلي والتبراني-


وفي رواية : قالت : قال : السلام عليك أيها النبي ورحمه الله وبرگاته ، اللهم اغفرلي ذنوبي وافتح لي أبواب رزقك . رواه أبو يعلي في المعجم،



হযরত ফাতেমা বিনতু হােছাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা নিজ দাদীজান সৃষ্টি জগতের সৈয়দা ফাতেমাতুল কুবরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বললেন, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করার সময় মুহাম্মদ মােস্তফা সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র উপর সালাত ও সালাম পড়তেন, অতঃপর এ দোয়া বলতেন, হে রব! আমার জন্য আমার (অর্থাৎ উম্মতের) পাপ মােচন করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। এবং বাহির হওয়ার সময়ও মুহাম্মদ মােস্তফা সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাত ও সালাম পড়তেন, অতঃপর এ দোয়া চাইতেন। হে আমার রব! আমার জন্য আমার (উম্মতের) পাপ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার দয়ার দরজাসমূহ খুলে দিন।


এ হাদিসকে ইমাম তিরমিজী আহমদ এবং আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদিস হাসান।


অপর এক বর্ণনায় আছে যে, হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলতেন, আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আল্লাহ তা'আলার রাসূল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর উপরও সালাম হােক... তারপর এরূপে হাদিস বয়ান করেন। ইহাকে ইমাম ইবনু মাজা এবং ইবনু আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন।


অপর এক বর্ণনায় সৈয়দা ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বয়ান করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন মুহাম্মদ মােস্তফা সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাম প্রেরণ করতেন এবং এরূপে মসজিদ থেকে বাহির হওয়ার সময়ও মুহাম্মদ মােস্তফা সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র উপর সালাম প্রেরণ করতেন, ইহার পর পূর্ববর্তী হাদিসের দোয়া বয়ান করলেন। ইহাকে ইমাম আহমদ, আবু ইয়া’লা এবং তৃবরানী বর্ণনা করেছেন।


আরেক বর্ণনায় আছে যে, সৃষ্টিজগতের সৈয়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বয়ান করলেন যে, হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইহাই বলতেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার উপর শান্তি হােক এবং আল্লাহ তায়ালার রহমত ও বরকত হােক। এ হাদিসকে ইমাম আবু ইয়া'লা আল-মু'জম এ বর্ণনা করেছেন।


______________________

ক. তিরমিযী : আস্ সুনান, কিতাবুস সালাত ২/১২৭, হাদিস : ৩১৪;

খ. ইবনে মাজাহ : আস্ সুনান, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়াল জামাআত, ১/২৫৩, হাদিস : ৭৭১;

গ. ইবনে আবূ শায়বা : আস্ মুসান্নাফ, ১/২৯৮, হাদিস : ৩৪১৬; এবং ৬/৯৬, হাদিস : ২৯৭৬৪;

ঘ. আবদুর রাযযাক : আল মুসান্নাফ, ১/৪২৫, হাদিস : ১৬৬৪;

ঙ. আহমদ ইবনে হাম্বল: আল মুসনাদ, ৬/২৮২-২৮৩, হাদিস : ২৬৪৫৯-২৬৪৬২;

চ. আবু ইয়ালা : আল মুসনাদ, ১২/১২১, ১৯৯, হাদিস : ৬৭৫৩, ৬৮২২; এবং আল মু'জাম, ১/৫৪, হাদিস : ২৪;

ছ. তাবরানী : আল মু'জামূল কবীর, ২২/৪২৪, হাদিস : ১০৪৪; এবং আদ্ দোয়া, ১/১৫০, হাদিস : ৪২৩-৪২৬; 


হাদিস ২০/৪০


عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إذا دخل أحدكم المسجد فليسلم على النبي صلى الله عليه وسلم، وليقل : اللهم افتح لي أبواب رحمتك، وإذا خرج، فليسلم على النبي صلى الله عليه وسلم، وليقل : اللهم اعصمني من الشيطان الرجيم"


رواه ابن ماجه والنسائي والبخاري في الكبير. وقال الحاكم : هذا حديث صحيح علي شرط الشيخين . وقال الكناني : هذا إسناد صحيح ورجاله ثقات .



হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, হুজুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তােমাদের মধ্য থেকে কেউ মসজিদে প্রবেশ কর, তখন তার উচিৎ যে, তিনি হুজুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে সালাম পেশ করবে এবং (এর পর) ইহা বলবে, হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা সমূহ খুলে দিন। এবং যখন মসজিদ থেকে বের হবে, তখনও হুজুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে সালাম পেশ করবে এবং (ইহার পর) বলবে হে আমার আল্লাহ! আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে বাচান।


অপর এক বর্ণনানুযায়ী বললেন, তার উচিৎ যে, সে (সালাম পেশ করার পর) বলবে, হে আল্লাহ! আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে দুরে রাখুন।


এ হাদিসকে ইমাম ইবনু মাজা, নাসাঈ এবং বুখারী আত্তারিখুল কবর এ বর্ণনা করেছেন। এবং ইমাম হাকেম বললেন, এ হাদিস ইমাম বুখারী ও মুসলিম এর শর্তাবলীর ভিত্তিতে সহীহ। ইমাম কেনানী বললেন, এ হাদিসের সনদ সহীহ এবং ইহার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযােগ্য।


_______________________

ক, ইবনে মাজাহ : আস্ সুনান, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়াল জামাত, ১/২৫৪, হাদিস : ৭৭৩; 

খ. নাসায়ী : আস্ সুনানুল কুবরা, ৬/২৭, হাদিস : ৯৯১৮; 

গ. বুখারী : আত্ তারীখুল কুবরা, ১/১৫৯, হাদিস : ৪৭০; 

ঘ. হাকেম : আল মুসতাদরাক, ১/৩২৫, হাদিস : ৭৪৭;

ঙ. কেনানি : মিসবাহুয যুযাজাহ, হাদিস : ২৯৩


__________________

হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন

মূলঃ শায়খুল ইসলাম ড. মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদঃ মাওলানা মুহাম্মদ মুজাফ্ফর আহমদ

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন