শরীয়তে নারী পুরুষের ইবাদতের মধ্যে কিছু পার্থক্য


নারী পুরুষের শারীরিক গঠন, সক্ষমতা, নিরাপত্তা ইত্যাদী নানা বিষয়ে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি পার্থক্য রয়েছে ইবাদতসহ শরীয়তের অনেক বিষয়ে। যেমন-

●১-পুরুষ ও মহিলা উভয়ের উপরই হজ্ব ফরয। কিন্তু মহিলাদের জন্য পথ খরচ ছাড়াও হজ্বের সফরে স্বামী বা মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি শর্ত।

●২-ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ঢাকা নিষেধ। অথচ মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢেকে রাখা ফরয।


●৩-ইহরাম খোলার সময় পুরুষ মাথা মুণ্ডায়। কিন্তু মহিলাদের মাথা মুণ্ডানো নিষেধ।


●৪-হজ্ব পালনকালে পুরুষ উচ্চস্বরে তালবীয়া পাঠ করে, পক্ষান্তরে মহিলাদের জন্য নিচু কণ্ঠস্বরে পড়া জরুরি।


●৫-পুরুষের প্রতি জুমআ পড়া ফরয, মহিলাদের ক্ষেত্রে নয়।


●৬-নামাযে সতর্ক করার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে সতর্ক করার জন্য পুরুষের তাসবীহ পড়ার হুকুম করা হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের তাসফীক করা তথা হাতে শব্দ করার বিধান।


●৭-ইমাম ও খতীব শুধু পুরুষ-ই হতে পারে, কোনো নারী হতে পারেনা।


●৮-আজান শুধু পুরুষ-ই দেবে, কোনো নারীকে মুয়াজ্জিন বানানো জায়েজ নয়।


●৯-পুরুষের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামায পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। আর মহিলাদের ঘরে নামায পড়াই উত্তম বলা হয়েছে।


●১০-সতর। পুরুষের সতর হল নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। আর পরপুরুষের সামনে নারীদের সতর হল প্রায় পুরো শারীরই ঢেকে রাখা ফরয।



নারী-পুরুষের মাঝে এরকম পার্থক্যসম্বলিত ইবাদত সমূহের অন্যতম হলো নামায। তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানো, হাত বাঁধা, রুকু, সেজদা, প্রথম ও শেষ বৈঠক ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোতে পুরুষের সাথে নারীর পার্থক্য রয়েছে। তাদের সতরের পরিমাণ যেহেতু বেশি, তাই যেভাবে তাদের সতর বেশি রক্ষা হয় সেদিকটিও বিবেচনা করা হয়েছে ক্ষেত্রগুলিতে। মুসলিম উম্মাহর প্রায় দেড় হাজার বছরের ঐতিহ্যগত ধারা তাই প্রমাণ করে। এই বিষয়টি প্রমাণিত রাসূলে কারীম (ﷺ)-এর হাদীস, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের ফতোয়া ও আছারের মাধ্যমে।


প্রথমে আমরা সহীহ হাদিস, তারপর পর্যায়ক্রমে সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীনদের ফতোয়া ও আছার উল্লেখ করছি।

_________________

কিতাবঃ পুরুষ ও নারীর নামায পদ্ধতি এক নয়

🖋মুফতী মাওলানা এস, এম, সাকীউল কাউছার

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন