ইমাম যখন তাকবীর বলবেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলো। আর যখন তিলাওয়াত করবেন, তখন তোমরা চুপ থাকো।- এর ব্যাখা কী


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- ( ৭৯৮)]



○ অধ্যায়ঃ [নামাযের ক্বিরআত]


[ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﺍﻧﻤﺎ ﺟﻌﻞ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﻟﻴﺆﺗﻢ ﺑﻪ ﻓﺎﺫﺍ ﻛﺒﺮ ﻓﻜﺒﺮﻭﺍ ﻭﺍﺫﺍ ﻗﺮﺃ ﻓﺎﻧﺼﺘﻮﺍ . - ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻰ ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ]


হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ


"ইমাম এজন্যই নির্ধারিত হয়েছেন যেনো তাঁর অনুসরণ করা হয়। (টীকাঃ ১) তাই যখন (ইমাম) তাকবীর বলবেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলো। আর যখন তিলাওয়াত করবেন, তখন তোমরা চুপ থাকো।" (টীকাঃ ২)


[আবূ দাঊদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___________________________________


১. (ইমাম এজন্যই নির্ধারিত হয়েছেন যেনো তাঁর অনুসরণ করা হয়।)


◇ টীকাঃ ১.


অর্থাৎ মুক্বতাদীর উপর নামাযের মধ্যে ইমামের ﺍﻋﻤﺎﻝ বা কার্যাদির অনুসরণ করা ওয়াজিব; ﺍﻗﻮﺍﻝ বা পঠনের মধ্যে নয়। সুতরাং ইমাম যে কাজ করবে তা করা মুক্বতাদীর উপরও ওয়াজিব। এমনকি যদি হানাফী মুক্বতাদী শাফে'ঈ ইমামের পেছনে ফযরের নামায পড়ে আর ইমাম রুকূ'র পর 'কুনূত'-ই নাযিলাহ্ পড়েন, তখন হানাফী মুক্বতাদীর উপর ওই সময় দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াজিব। যদিও 'কুনূত' না পড়ে। এ মাসআলার উৎস হচ্ছে ওই হাদীস শরীফ। এখানে ﺍﻗﻮﺍﻝ বা পঠনের মধ্যে অনুসরণ করার অর্থ কেউ গ্রহণ করেন নি।


২. ( আর যখন তিলাওয়াত করবেন, তখন তোমরা চুপ থাকো।)


◇ টীকাঃ ২.


অর্থাৎ ইমামের পেছনে ক্বোরআন একেবারেই পড়ো না; না 'সূরা ফাতিহা' পড়বে, না অন্য কোন সূরা; চাই ইমাম নিন্মস্বরে তিলাওয়াত করুন, কিংবা উচ্চস্বরে। চাই, তোমাদের নিকট পর্যন্ত ইমামের শব্দ পৌঁছাক কিংবা না-ই পৌঁছাক।


এ হাদীস শরীফ হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে মুসলিম শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। যেমনঃ প্রথম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।


পবিত্র ক্বোরআন করীম-এর নিন্মোক্ত আয়াতও এর সমর্থন করে-


[ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗُﺮِﺉَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻓَﺎﺳْﺘَﻤِﻌُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻭَﺃَﻧﺼِﺘُﻮﺍ ...]


[তরজমাঃ আর যখন ক্বোরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনযোগ সহকারে সেটা শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো। (৭ঃ২০৪) আর এর উপরই অধিকাংশ সাহাবীর আমল রয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা ইমামের পেছনে ক্বিরআতও একেবারে পড়তেন না। এ হাদীস শরীফ ইমাম-ই আ'যমের পক্ষে মজবুত দলীল। এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম মালিক [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] ও ইমাম মুহাম্মদ [ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ] উচ্চ স্বরে ক্বিরআত বিশিষ্ট নামাযগুলোতে মুক্বতাদীদেরকে নিশ্চুপ থাকার নির্দেশ দিতেন। কতেক হাম্বলী ফক্বীহ্ বলেন যেনো মুক্বতাদী ইমামের ক্বিরআতের মধ্যভাগের বিরতিগুলোতে আলহামদু শরীফের আয়াতগুলো পড়ে নেন। কারো কারো মতে, ইমাম আলহামদু পড়ে চুপ থাকবে, তারপর মুক্বতাদী পড়বে। এমন কি ইমাম শাফে'ঈরও একটি অভিমত হচ্ছে- 'উচ্চ রবে ক্বিরআত বিশিষ্ট নামাযে মুক্বতাদী চুপ থাকবে।' এ থেকে প্রতীয়মান হয় এ হাদীস কতোই গুরুত্বপূর্ণ। আর ইমাম-ই আ'যমের মাযহাব কতোই শক্তিশালী। এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আমার কিতাব 'জা-আল হক্ব': দ্বিতীয় খন্ডে দেখুন।


□ হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. ৬৬, হাদীস নং-৭৯৮ এর টীকাঃ (৮১,৮২) দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন