❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮০৯)]
○ অধ্যায়ঃ [রুকূ] (টীকাঃ ১)
[ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﺍﻗﻴﻤﻮﺍ ﺍﻟﺮﻛﻮﻉ ﻭﺍﻟﺴﺠﻮﺩ ﻓﻮﺍﻟﻠﻪ ﺍﻧﻰ ﻻﺭﻛﻢ ﻣﻦ ﺑﻌﺪﻯ . ( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ )]
হযরত আনাস [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ
অর্থাৎ "রুকূ' ও সাজদা পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করো। আল্লাহ্'রই শপথ! আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখতে পাই।" (টীকাঃ ২)
[মুসলিম, বোখারী]
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
____________
◇ টীকাঃ ১.
রুকূ'র আভিধানিক অর্থ হলো- 'নত হওয়া' অথবা 'পিঠ বাঁকা করা'। পরিভাষায় কখনো 'বিনয় প্রকাশ ও নিজেকে ছোট করা'কে রুকূ' বলা হয়। কখনো পূর্ণ রাক্'আত বরং পূর্ণ নামাযকেও রুকূ' বলা হয়। মহান রব এরশাদ করেনঃ
[ﻭَﺍﺭْﻛَﻌُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺮَّﺍﻛِﻌِﻴﻦَ]
(যারা রুকূ' করে তাদের সাথে রুকূ' করো। ৩:৪৩)
সঠিক অভিমত হচ্ছে- পূর্ববর্তী উম্মতের নামাযগুলোতে 'রুকূ' ছিলো না। 'রুকূ' শুধু এ উম্মতের নামাযের বৈশিষ্ট্য। মহান রব হয়রত মরিয়মের উদ্দেশ্যে এরশাদ করেনঃ
[ﻭَﺍﺳْﺠُﺪِﻱ ﻭَﺍﺭْﻛَﻌِﻲ]
(এবং তুমি সাজদাহ্ করো ও রুকূ' করো। ২:৪৩)
ওখানে রুকূ' মানে বিনয় ও নম্রতা। রুকূ' প্রত্যেক রাক্'আতের 'রুকন' (মৌলিক ফরয)। তাই রুকূ' পাওয়া গেলে 'রাক্'আত' পাওয়া যায়।
◇ টীকাঃ ২.
প্রকাশ থাকে যে, এতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মুসলমানকে সম্বোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ হে আমার উম্মতগণ! নামায শুদ্ধভাবে সম্পন্ন করো। তোমরা যখনি যেখানে থাকো না কেন, আমি তোমাদের নামাযসমূহ দেখতে পাই। কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, আমার কাছে তোমাদের রুকূ' ও সাজদা, অন্ততের বিনয় ও নম্রতা গোপন নয়। বুঝা গেলো যে, হুযূর [ﷺ] আমাদের হৃদয়ের ভেদ ও রহস্য সম্পর্কেও অবগত। আর সম্মাণিত নবী ও ওলীগণ ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য ঘটনাবলী উপস্থিত বস্তুর মতোই দেখতে পান। হুযূর [ﷺ] মি'রাজে দোযখ ও জান্নাতে যথাক্রমে আযাব ও সাওয়াব-প্রাপ্তদেরকে তাদের স্ব-স্ব ঠিকানায় দেখেছেন। অথচ, এ আযাব ও সাওয়াব ক্বিয়ামতের পরে সংঘটিত হবে। আর এটাও হতে পারে যে, এতে সম্বোধন সাহাবীদেরকে করা হয়েছে আর ﺑﻌﺪ (বা'দু) মানে ﺧﻠﻒ বা 'পেছনে'।
অর্থাৎ ওহে সাহাবীগণ! তোমরা যে কোন কাতারে এবং যেখানেই থাকো না কেন আমার দৃষ্টি কিন্তু তোমাদের নামাযগুলো দেখতে পায়।
এতে বুঝা গেলো যে, হুযূর [ﷺ] -এর দৃষ্টি আলো ও আঁধারে দৃশ্যমান ও গোপন সবকিছু অনায়াসেই দেখতে পায়।
হযরত ঈসা [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] এরশাদ করেছিলেন, "তোমরা ঘরে যা কিছু খেয়ে কিংবা সঞ্চয় করে আসো তা' আমি তোমাদেরকে বলে দিতে পারি।" এটাও হুযূর [ﷺ] -এর মু'জিজা। 'মিরক্বাত' প্রণেতা বলেছেন, "এ হাদীস শরীফ সেটার প্রকাশ্য অর্থে ব্যবহৃত। এতে কোন প্রকারের ভিন্ন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
□ হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ
f/Ishq-E-Mustafa ﷺ
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. ৭৩, হাদীস নং-৮০৯ এর টীকাঃ ১,২ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।]
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন