ক্ববরের পাশে চেরাগ জ্বালানো এবং ক্বেবলার দিক থেকে মৃতকে কবরে নামানো প্রসঙ্গ


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (১৬১২)]


○ অধ্যায়ঃ [মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা]

[ﻭﻋﻦ ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﷺ ﺩﺧﻞ ﻗﺒﺮﺍ ﻟﻴﻼ ﻓﺎﺳﺮﺝ ﻟﻪ ﺑﺴﺮﺍﺝ ﻓﺎﺧﺬ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ ﻭﻗﺎﻝ ﺭﺣﻤﻚ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻥ ﻛﻨﺖ ﻻﻭﺍﻫﺎ ﺗﻼﺀ ﻟﻠﻘﺮﺍﻥ . ‏] : ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﺳﻨﺎﺩﻩ ﺿﻌﻴﻒ )


তাঁরই (হযরত ইবনে আব্বাস) থেকে বর্ণিত, নবী করীম [ﷺ] রাতের বেলায় একটি ক্ববরের নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন। তখন তাঁর জন্য চেরাগ জ্বালানো হয়েছিলো। (টীকাঃ ১) হুযূর মৃতকে কেবলার দিক থেকে নিয়েছেন। (টীকাঃ ২) আর এরশাদ করেছেন- "আল্লাহ্ তোমার উপর দয়া করুন! তুমি খুব কান্নাকারী এবং ক্বোরআন তিলাওয়াতকারী ছিলে।" (টীকাঃ ৩)


[তিরমিযী]


'শরহে সুন্নাহ'র প্রণেতা বলেছেন, সেটার সনদ 'দুর্বল পর্যায়ের। (টীকাঃ ৪)


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



                                   


১. (নবী করীম [ﷺ] রাতের বেলায় একটি ক্ববরের নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন। তখন তাঁর জন্য চেরাগ জ্বালানো হয়েছিলো।)


◇ টীকাঃ ১.


অর্থাৎ রাতে মৃতকে দাফন করা হয়েছে বিধায় মৃতের জন্য কিংবা হুযূরের জন্য চেরাগ দ্বারা আলোকিত করা হয়েছিলো। এ থেকে দু'টি মাস্'আলা জানা গেলোঃ


● এক. কবরের উপর আগুন নিয়ে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু চেরাগ (প্রদীপ) নিয়ে যাওয়া জায়েয। কেননা, # এটা আলোর জন্য , # মুশরিকদের সাথে


সাজূয্যের # জন্য নয় । মুশরিকগণ মৃতের সাথে আগুন নিয়ে যায়- আগুনকে পূজা করা কিংবা মৃতকে জ্বালানোর জন্য। সুতরাং বুযুর্গের মাযারের পাশে লোবান কিংবা আগর বাতি জ্বালানো জায়েয; যাতে মৃতের মনে শান্তি পায় এবং যিয়ারতকারীগণ আরাম পায়। এ কারণে মৃতের কাফনে খুশবু দেওয়া সুন্নাত যাকে ফক্বীহগণ 'ইস্তিজ্মার' বলেন।


● দুই. প্রয়োজন হলে কবরের পাশে চেরাগ জ্বালানো জায়েয। সুতরাং যেসব বুযুর্গের মাযারে দিনরাত যিয়ারতকারীদের ভিড় ও ক্বোরআন তেলাওয়াত অব্যাহত থাকে, সেখানে প্রয়োজন অনুসারে আলো জ্বালানো যাবে। এর দলীল হচ্ছে- এ হাদীস। হুযূর-ই আনওয়ার [ﷺ] -এর রওযা-ই আনওয়ারের উপর সব সময়, এখন নজদীদের যুগে আরো বেশী উন্নতমানের ব্যবস্থায় আলো জ্বালানো হয়। বিশেষ করে গম্বুজ শরীফের উপর অন্তত: বিশটি বাল্ব লাগানো হয়েছে। যেসব হাদীস শরীফে কবরের উপর চেরাগ জ্বালানোর নিষেধ এসেছে, সেগুলোতে # বিনা প্রয়োজনে কবরের উপর # চেরাগ রেখে আসার কথা


# বুঝানো হয়েছে । কারণ, তাতে অপচয় করা হয়।


স্মর্তব্য যে, বুযুর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যও আলো জ্বালানো যায়। যেমনঃ কা'বা মু'আয্যামার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সেটার উপর হিলাফ থাকে এবং কা'বা শরীফের দরজার উপর অত্যন্ত মূল্যবান শম'ই কাফূরী (অত্যুজ্জ্বল প্রদীপ বিশেষ) জ্বালানো হয়। রমযান মাসে মসজিদগুলোতে আলোকসজ্জা করার পক্ষে দলীলও এখান থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। [দেখুন- জা'আল হক্বঃ প্রথম খন্ড]


২. (হুযূর মৃতকে কেবলার দিক থেকে নিয়েছেন।)


◇ টীকাঃ ২.


অর্থাৎ মৃতকে কবরে ক্বেবলার দিক থেকে নামিয়েছেন। এটাই ইমাম আযমের অভিমত। আর এ হাদীস শরীফ এর পক্ষে দলীল। এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আমি এক্ষুনি পূর্ববর্তী হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় করেছি।


৩. (এরশাদ করেছেন- "আল্লাহ্ তোমার উপর দয়া করুন! তুমি খুব কান্নাকারী এবং ক্বোরআন তিলাওয়াতকারী ছিলে।)


◇ টীকাঃ ৩.


অর্থাৎ হুযূর [ﷺ] মৃতকে এ সম্বোধন করতে করতে দাফন করেছেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, মুমিনের মৃত্যুর পর প্রশংসা করা চাই। তাছাড়া মৃতরা শুনতে পায়। জীবিতরা তাদেরকে সালামও করে, বরং তাদেরকে সম্বোধন করে কথাবার্তাও বলে। মৃতদের শ্রবণ করা ও তাদেরকে সম্বোধন করে কথা বলা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ ও বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত। এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আমার কিতাব 'ইলমুল ক্বোরআন' -এ দেখুন। ক্বোরআন পাকে যা এরশাদ হয়েছে - 'হে হাবীব! আপনি অন্ধদের হিদায়ত করতে পারবেন না এবং মৃতদের শোনাতে পারবেন না।' - # তাতে হৃদয়ের অন্


ধ ও মৃতদের কথা বুঝানো উদ্দেশ্য । অর্থাৎ কাফিরগণ। এ কারণেই সেখানে মৃতদের বিপরীতের মু'মিনের কথা বলা হয়েছে। যেমনঃ এরশাদ হয়েছে- [ﺇِﻥ ﺗُﺴْﻤِﻊُ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦ ﻳُﺆْﻣِﻦُ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ]


[আপনি শুনাবেন না, কিন্তু (তাকে) যে আমার আয়াতগুলোর উপর ঈমান আনে; (২৭:৮১)]


স্মর্তব্য যে, এ মাইয়্যেত সাইয়্যেদুনা আব্দুল্লাহ্ ইয়াজাওয়াঈন। [মিরক্বাত]


৪. ('শরহে সুন্নাহ'র প্রণেতা বলেছেন, সেটার সনদ 'দুর্বল পর্যায়ের।)


◇ টীকাঃ ৪.


কিন্তু তিরমিযী এ হাদীসকে 'হাসান' পর্যায়ের বলেছেন। কেননা, সেটার সনদের মধ্যে 'মিনহাল ইবনে খলীফা আছেন, যাঁকে ইবনে মা'ঈন 'দুর্বল' বলেছেন। কিন্তু অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ 'সিক্বাহ্' (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন; যাঁদের কারণে এ হাদীস 'হাসান' (উত্তম) হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে শাফে'ঈগণ ইমাম তিরমিযীর 'হাসান' বলে মন্তব্যটি উল্লেখ করেন না; কিন্তু শরহে সুন্নাহ্'র দুর্বল বলে মন্তব্যটা উল্লেখ করে থাকেন। এটাও আশ্চর্যের বিষয় যে, এ হাদীস শরীফ 'হাসান' হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা গ্রহণ করেন না। আর পূর্ববর্তী হাদীস; যা এক্ষুনি উল্লেখ করা হয়েছে, যা সর্বসম্মতভাবে 'দুর্বল', (সেটা) অনুসারে কাজ করেন। ইমাম সুয়ূতী [ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ] বলেন, # এ হাদীস শরীফ বহু সনদ সহকারে 'হযরত ইবনে মাস্'ঊদ' থেকে # বর্ণিত হয়েছে । তিনি বলেন, আমি যেনো দেখছি যে, তাবূকের যুদ্ধে নবী করিম [ﷺ] এবং হযরত সিদ্দীক্ব ও হযরত ফারুক্ব, আব্দুল্লাহ্ যুল ইয়াজাওয়াঈনের দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন। আর হুযূর [ﷺ] তাঁকে ক্বেবলার দিক থেকে ক্ববরে নামাচ্ছেন এবং একথা বলছিলেন। তাছাড়া দাফনের পরক্ষণে বলেছেন, 'হে আল্লাহ্! আমি তার উপর সন্তুষ্ট। তুমিও তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাও। এমনকি আমি আরজু করেছিলাম, 'আহা! যদি এ মাইয়্যেত আমি হতাম! [মিরক্বাত]



□ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. ৬০৬, হাদীস নং-১৬১২ এর টীকাঃ ১৯,২০,২১,২২ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন