ঈমান পর্ব


[ﻭﻋﻦ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻤﻄﻠﺐ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﺫﺍﻕ ﻃﻌﻢ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ ﻣﻦ ﺭﺿﻰ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﺭﺑﺎ ﻭﺑﺎﻻﺳﻼﻡ ﺩﻳﻨﺎ ﻭﺑﻤﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻻ . ‏] : ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ )


হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] (টীকাঃ ১) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ" ওই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ উপভোগ করেছে, যে আল্লাহ্ রব, ইসলাম দ্বীন এবং হযরত মুহাম্মাদ [ﷺ] ঈমানের রসূল হওয়ার উপর সন্তুষ্ট হয়েছে। (টীকাঃ ২)


[মুসলিম শরীফ]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


◇ টীকাঃ ১.


তিনি হুযূর করীমের আপন চাচা। তাঁর বয়স হুযূরের চেয়ে দু'বছরের বেশি ছিলো।তিনি বলতেন, "বড় হলেন হুযূর, বয়স আমার বেশি।" তাঁর মাতা কা'বা শরীফের উপর সর্বপ্রথম সিল্কের রেশমী গিলাফ দিয়েছিলেন। তিনি হাতির ঘটনার পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ৩২ হিজরীর ১২ রজব জুমু'আর দিন ৮৮ বছর বয়সে ওফাত পান। তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। আমি (লেখক) তাঁর কবর শরীফের যিয়ারত করেছি। তিনি ইসলাম আগেই গ্রহণ করেছিলেন; বদরের যুদ্ধে বাধ্য হয়ে কাফিরদের সাথে এসেছিলেন। স্বীয় হিজরতের দিন ইসলাম প্রকাশ করেন। তিনিই সর্বশেষ হিজরতকারী।


◇ টীকাঃ ২.


'আল্লাহ্'র রবূবিয়াতে সন্তুষ্ট থাকা'র অর্থ হচ্ছে- তাক্বদীরে তাঁর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা। অসুস্থ ব্যক্তি ডাক্তারের তিক্ত ঔষধ এবং তাঁর অপারেশন করার উপরও সন্তুষ্ট থাকেন।


'ইসলাম দ্বীন হবার উপর সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হচ্ছে- ইসলামের বিধি-বিধান আনন্দচিত্তে ক্ববূল করা। কোন বিধানের উপর মূখেও সমালোচনা না করা।


'হুযূর [ﷺ] -এর নুবূয়তের উপর সন্তুষ্টি' হচ্ছে- তাঁর সুন্নাতগুলোর প্রতি মুহাব্বত রাখা। তাঁর আওলাদ, মদীনা মুনাওয়ারাহ্ বরং যেসব জিনিস হুযূরের প্রতি সম্পৃক্ত সেসব জিনিসকে মুহাব্বত করা।


এ হাদীস শরীফ পূর্বেকার হাদীস শরীফের বিরোধী নয়। এ তিনটি গুণ যার নসীব হবে, পূর্বের হাদীসে বর্ণিত তিনটি বিষয়ও তার অর্জিত হবে।



□ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ২৭, হাদীস নং-০৮ এর টীকাঃ ৪৩,৪৪ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।

❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (০৯)]



○ অধ্যায়ঃ [ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ : ঈমান পর্ব]


[ﻭﻋﻦ ﺍﺑِﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻭﺍﻟﺬﻯ ﻧﻔﺲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻴﺪﻩ ﻻﻳﺴﻤﻊ ﺑﻰ ﺍﺣﺪ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﻣﺔ ﻳﻬﻮﺩﻯ ﻭﻻ ﻧﺼﺮﺍﻧﻰ ﺛﻢ ﻳﻤﻮﺕ ﻭﻟﻢ ﻳﺆﻣﻦ ﺑﺎﻟﺬﻱ ﺍﺭﺳﻠﺖ ﺑﻪ ﺍﻻ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﻨﺎﺭ . ‏] ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ )


হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ "যে সত্তার কুদরতী হাতে আমার প্রাণ তাঁরই শপথ! এ উম্মতের (টীকাঃ ১) কোন ইহুদী ও খ্রিষ্টান আমার নাম শুনে, অতঃপর আমার প্রতি যা প্রেরণ করা হয়েছে তার উপর ঈমান আনা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করে সে দোযখী হবেই।" (টীকাঃ ২)


[মুসলিম শরীফ]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


◇ টীকাঃ ১.


এখানে 'উম্মত' মানে 'উম্মত-ই দাওয়াত'; অর্থাৎ সমস্ত মানুষ। ইহুদী ও খ্রিষ্টান সেটার ব্যাখ্যা। মুশরিক ও কাফির প্রমুখ স্বয়ং এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। কারণ, যখন ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের উপরও ইসলাম গ্রহণ করা অনিবার্য হলো, যারা পূর্বের পয়গম্বরগণের উপর ঈমান এনেছিলো, তখন যারা কোন নবীকে মোটেই গণ্য করতো না, তাদের জন্য নিশ্চিতভাবে ইসলাম গ্রহণ করা আবশ্যক।


◇ টীকাঃ ২.


এ হাদীস শরীফ থেকে দু'টি মাসআলা জানা গেলোঃ


এক. সমস্ত সৃষ্টির উপর রাসূলের আনুগত্য করা আবশ্যক। যে কোন দেশ, যে কোন গোত্র এবং যে কোন যমানারই হোক না কেন, যে খোদার বান্দা, তার উপর হুযূরের আনুগত্য করা আবশ্যক।


দুই. যার কাছে হুযূর [ﷺ]'র নুবূয়তের সংবাদ পৌঁছেনি, সে ওযর সম্পন্ন (নিরুপায়)। তার নাজাতের জন্য শুধু তাওহীদ বা একত্ববাদে বিশ্বাস করাটাই যথেষ্ট।


সুতরাং হুযূর [ﷺ]'র সম্মাণিত মাতাপিতা ক্ষমাপ্রাপ্ত ও জান্নাতী। কারন, তাঁরা একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হুযূরের নুবূয়তের (প্রকাশের) পূর্বেই ওফাত প্রাপ্ত হন। এ মাসআলার পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ আমার কৃত 'তাফসীর-ই নাঈমী' ১ম পারায় দেখুন।



□ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ২৮, হাদীস নং-০৯ এর টীকাঃ ৪৫,৪৬ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম। 

🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন