চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত


মসজিদে কুবার ফযিলত

১৬. عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْتِي قُبَاءً  يَعْنِي  كُلَّ سَبْتٍ،، كَانَ يَأْتِيهِ رَاكِبًا وَمَاشِيًا، قَالَ ابْنُ دِينَارٍ:وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ

১৬. অনুবাদ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (رضي الله عنه)থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)প্রত্যেক শনিবারে মসজিদে কুবায় যেতেন। তিনি পায়ে হেঁটেও যেতেন আবার সাওয়ারীর উপর হয়েও যেতেন। বর্ণনাকারী ইবনে দীনার (رحمة الله) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (رضي الله عنه)অনুরূপ করতেন।

➥[৩৭] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৩২৯২


ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদিস খানা বুখারী শরীফেও আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)প্রতি শনিবারে মসজিদে কুবায় যাওয়ার কারণ হল- আল্লামা আইনী (رحمة الله) বলেন- হিজরতের সময় সর্বপ্রথম নবী করিম (ﷺ) মসজিদে কুবা নির্মাণ করেন অতঃপর মসজিদে নববী নির্মাণ করেন। মসজিদে নববীতেই তিনি জুমুআ পড়াতেন। কুবা বাসীরা সকলেই মসজিদে নববীতে এসে জুমুআর নামায পড়তেন। মসজিদে কুবায় জুমুআর নামায হত না। তাই তার ক্ষতিপুরণ হিসাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)শনিবারে কুবায় যেতেন। দ্বিতীয় কারণ হল- শনিবারে তিনি অবসর থাকতেন তাই প্রিয়জনদের সাক্ষাত করার জন্য তিনি কুবায় যেতেন। তৃতীয় কারণ হল- অধিকাংশ কুবাবাসী জুমুআ পড়ার জন্য শুক্রবারে মদীনায় চলে আসত এবং নবীর সাক্ষাতে ধন্য হত। যারা অক্ষম ও দূর্বল তারা তাঁর সাক্ষাত থেকে বঞ্চিত হত। এ কারণে তিনি দয়া পরবশ হয়ে শনিবারে তাদের নিকট চলে যেতেন। যাতে যারা মদীনায় যেতে পারে নি তারাও যেন তাঁর সাক্ষাত লাভে ধন্য হয়।

➥[৩৮] শরহে মুসলিম, গোলাম রাসূল সাঈদী (رحمة الله), খন্ড ৩, পৃ. ৭৭১


রাসূলুল্লাহ (ﷺ)তিন মসজিদ তথা মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসা ছাড়া ও অন্য কোন মসজিদের দিকে সফর করতে নিষেধ করেছেন অথচ তিনি প্রতি শনিবারে মসজিদে কুবায় যেতেন। এর উত্তর হল- ঐ তিন মসজিদ ব্যতিত অন্য কোন মসজিদে যাওয়ার মানত করা যাবে না। অথবা ঐ তিন মসজিদ ব্যতিত অন্য কোন মসজিদে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করা যাবে না। সাধারণভাবে যাওয়া-আসা করা নিষেধ নয়।

হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) ও আল্লামা আইনী (رحمة الله)’র মতে উক্ত হাদিস দ্বারা নফলী ইবাদতকে কোন কোন দিনের সাথে খাস করা বৈধ এবং ঐ আমলকে নিয়মিত করাও জায়েয।

➥[৩৯] শরহে মুসলিম, গোলাম রাসূল সাঈদী (رحمة الله), খন্ড ৩, পৃ. ৭৭১


ইমাম নববী (رحمة الله) বলেন- এই হাদিসে প্রমাণিত হয় যে, কোন দিনকে যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করা জায়েয।

➥[৪০] আল্লামা ইয়াহিয়া ইবনে শরফ নববী (رحمة الله) (৬৭৬) হি. শরহে মুসলিম, খন্ড. ১, পৃ. ৪৪৮


এভাবে ওরস, ফাতেহা, মাদরাসার সভা কিংবা দ্বীনি মাদরাসায় ছবক পড়ানোর জন্য ঘন্টা নির্ধারণ করা যদি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন উদ্দেশ্য না হয়ে অন্য কোন ফায়েদা অর্জনের উদ্দেশ্যে হয় তাহলে মৌলভী আশরাফ আলী থানভীর মতেও জায়েয।

➥[৪১] আশরাফ আলী থানভী, বাওয়াদেরে নাওয়াদের পৃ. ৪৫৮)।

++++++++++++
গ্রন্থ: চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত
রচনায়: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি।
আরবী প্রভাষক,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা,ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন