আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?


❏ বিষয় নং-৩: নবী পাক (ﷺ) নূরের তৈরী


হযরত সায়্যিদুনা আনাস (رضي الله عنه)’র আক্বীদা

হযরত সায়্যিদুনা আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন,

لَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي دَخَلَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَدِينَةَ أَضَاءَ مِنْهَا كُلُّ شَيْءٍ

-‘‘রাসূলে করিম (ﷺ) যে দিন মদিনা পাকে তাশরীফ আনয়ন করেন, তাঁর নূরের আলোকে প্রত্যেক বস্তু আলোকিত হয়।’’ ➥29

২৯.
১. ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, ৬/১৭ পৃ. হা/৩৬১৮

২. ইমাম তিরমিযি, শামায়েলে মুহাম্মাদিয়্যাহ, ১/৩৩৩ পৃ. হা/৩৯৩

৩. খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, (৫৪৭ পৃ. ভারতীয়) ৩/১৬৮১ পৃ., হা/৫৯৬২

৪. ইবনে মাজাহ, আস-সুনান, ২/৫৫৪ পৃ. হা/১৬৩১

৫. ইমাম ইবনে সা‘দ, আত-তবকাতুল কোবরা, ১/১৮১ পৃ.

৬. কাস্তাল্লানী, মাওয়াহেবুল্লা দুনিয়া, ১/১৮৪ পৃ.

৭. শায়খ ইউসুফ নাবহানী, আনওয়ারে মুহাম্মদীয়া, ৩৮ পৃ.,

৮. ইমাম যুরকানী, শারহুল মাওয়াহিব, ২/১৬৫ পৃ.

৯. ইমাম হালবী, সিরাতে হালবীয়্যা, ২/৭৪ পৃ.

১০. শায়খ ইউসুফ নাবহানী, জাওয়াহেরুল বিহার, ৬০ পৃ.,

১১. ইমাম সুয়ূতি, খাসায়েসুল কুবরা, ১/৩১২ পৃ.

১২. শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী, মাদারেজুন নবুয়াত, ২/৮০ পৃ.

১৩. ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ৩/৫৯ পৃ. হা/৪৩৮৯, তিনি বলেন, সনদটি সহীহ।

১৪. যাহাবী, তালখিসুল মুস্তাদরাক, তৃতীয় খণ্ড, ১২ পৃ.

১৫. ইমাম দিয়ার বকরী, তারিখুল খামীস, ১/৩৪১ পৃ.

১৬. ইমাম ইবনে হাজার হাইসামী, আশরাফুল ওয়াসায়েল, ১/৫৭৩ পৃ.

১৭. ইমাম বায়হাকী, দালায়েলুন নবুয়ত, ৭/২৬৫ পৃ.

১৮. বাগভী, আনওয়ার ফি শামায়েলে নাবিয়্যিল মুখতার, ১/৭৫৬ পৃ. হা/১২১০

১৯. ইমাম ইবনে সালেহ শামী, সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ২/৩৭২ পৃ.

২০. ইমাম ইবনে কাসির, সিরাতে নববিয়্যাহ, ৪/৫৪৪ পৃ.

২১. ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ২১/৩৫ পৃ. হা/১৩৩১২

২২. মুসনাদে বায্যার, ১৩/২৯১ পৃ. হা/৬৮৭১

২৩. ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১৪/৫০ পৃ. হা/৩৮৩৩

২৪. ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানী, দালায়েলুন নবুয়ত, ২২৭ পৃ. হা/১৭৯


আল্লামা কুতুবুদ্দীন দেহলভী ছাহেবে ‘মাযাহেরে হক’ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, মদীনা মুনাওয়ারার দরজা এবং দেয়াল পর্যন্ত আলোকিত হয়। ➥30

৩০. নবাব কুতুবুদ্দীন দেহলভী, মাযাহেরে হক, ৩৩৯ পৃষ্ঠা, চতুর্থ খণ্ড

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! উপর্যুক্ত হাদিসে পাকের মাধ্যমে প্রতিভাত হলো যে, রাসূল কারিম হুযূরে পূরনূর (ﷺ) এর সম্মানিত সাহাবাগণের নূরানী আক্বীদা দ্বারা প্রকাশ পায় যে, তারা রাসূলে কারিম (ﷺ) কে নূর জানতেন।

সুতরাং দেওবন্দীদের বড় বড় আলেম যারা কেবল হুযুর পুরনূর (ﷺ) কে মানুষই মানে এবং বাশার বাশার বলে ডাক হেঁকায় এবং সাথে সাথে এই দাবীও করে যে, আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াত জাম‘আত।

উল্লেখিত হাদিসে পাকের আলোকে হাদীসে সুবুল পেশওয়ায়ে কুল হুযুর (ﷺ) এবং সাহাবারে কেরাম  (رضي الله عنه) গণের আক্বীদাকে উপেক্ষা করত নিজেদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত দাবী করা মূলত ধোঁকাবাজীরই অন্তর্ভূক্ত।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত তো তারাই যারা হুযুর (ﷺ) কে নূর মানে; আর এ আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আতই হল বেরলভীগণ।

দেওবন্দীরা বলে হুযূর (ﷺ)’র সম্মানিত বিবি ও আওলাদ ছিলেন এবং তিনি পানাহার করেতেন এজন্য তিনি নূর নয়।

দেওবন্দীদের আকল আর জ্ঞানের দাবী হলো রাসূল (ﷺ)’র নূর মানার জন্য তাঁর পানাহার করা, শাদী করা, আজওয়ায়ে মুতাহ্হারাত হওয়া এবং আওলাদে পাক থাকা নিষিদ্ধ।

কিন্তু সাহাবারে কেরামদের সামনে মিরাজ শরীফের দুলহান, সমস্ত সৃষ্টিকূলের আশ্রয় স্থল হুযুর পূরনূর (ﷺ) পানাহার করতেন। তাঁরাও তো জানতেন রাসূল (ﷺ)’র শাদী মুবারক, আজওয়াজে মুতাহ্হারাত এবং আওলাদে পাক রয়েছেন। তা সত্ত্বেও সাহাবায়ে কেরাম রাসূল (ﷺ) কে নূর হিসেবে মানতেন।

যেমন উম্মতে মুহাম্মদীর সকল মুফাস্রিদের সর্দার হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) কুরআন পাকের নিম্নোক্ত আয়াত-

قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ

এর তাফসীরে বলেন,

{قَدْ جَآءَكُمْ مِّنَ الله نُورٌ} رَسُول يَعْنِي مُحَمَّدًا

-‘‘তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলের নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ (ﷺ) তাশরীফ এনেছেন।’’ ➥31

৩১. তাফসীরে ইবনে আব্বাস, ৯০ পৃ., পৃথিবীর সুবিখ্যাত ৭৬ টি তাফসিরে উপরোক্ত আয়াতের নূর দ্বারা রাসূল (ﷺ) কে উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ ১ম খণ্ডের ৫৪০-৫৬০ পৃষ্ঠায় দেখুন।

+++++++++++++
আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?

মূল: আল্লামা আবুল হামেদ মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।

ভাষান্তর
মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
বিএ অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্পাদনায়, তাখরীজ, প্রকাশক:
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন