চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত


মদীনাকে ইয়াসরিব বলা নিষিদ্ধ

২৫. عَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَمَّى الْمَدِينَةَ يَثْرِبَ، فَلْيَسْتَغْفِرِ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ، هِيَ طَابَةُ هِيَ طَابَةُ

২৫. অনুবাদ: হযরত বারা (رضي الله عنه)নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি মদীনাকে ইয়াসরিব বলবে সে যেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। মদীনা পবিত্র, মদীনা পবিত্র।

➥[৬৭] মুসনাদে আহমদ, সূত্র: আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ. ৭৭

➥[৬৮] বুখারী শরীফ, হাদিস নং ১৭৫১, বাব নং ১১৭২

 ➥[৬৯] ইমাম আহমদ, বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ, সূত্র: আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ. ৯৭

➥[৭০] আল্লামা আইনী (رحمة الله) (৮৫৫ হি.) উমদাতুলকারী খন্ড ১১. পৃ. ২৪৯

➥[৭১] শরহে সহীহ মুসলিম, খন্ড. ৩, পৃ. ৭৪৪-৭৪৫

➥[৭২] বুখারী শরীফ, হাউয অধ্যায়, খন্ড. ২, পৃ. ৯৭৪

➥[৭৩] ইমাম বায়হাকী, শোয়াবুল ঈমান, মিশকাত শরীফ, পৃ. ২৪০


ব্যাখ্যা: নবী করিম  রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিয়ম ছিল যে, খারাপ অর্থবোধক নাম তিনি পরিবর্তন করে সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখতেন। অনেক নারী-পুরুষ সাহাবীর নাম তিনি পরিবর্তন করে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রেখেছেন। অনুরূপভাবে মদীনার পূর্ব নাম ‘ইয়াসরিব’ কেও তিনি পরিবর্তন করে মদীনায়ে তায়্যেবাহ রেখেছেন। অর্থাৎ পবিত্র শহর।

‘ইয়াসরিব’ নাম পরিবর্তন করার কারণ হল, এর অর্থ হল ধ্বংস ও ফাসাদ। অথবা এটি ছিল জাহেলী যুগের নাম। অথবা এটি একটা প্রতিমার নাম। যার নাম দিয়ে এই শহরের নামকরণ করা হয়েছে।

ইমাম বুখারী (رحمة الله) তাঁর তারীখ গ্রন্থে একটি হাদিস লিখেছেন- যে কেউ একবার যদি ‘ইয়াসরিব’ বলে সে যেন দশবার মদীনা বলে, যেন এর ক্ষতিপূরণ হয়।

➥[৬৭] মুসনাদে আহমদ, সূত্র: আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়িলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা, পৃ. ৭৭


আল্লামা ইবনে হাজর (رحمة الله) ফতহুল বারী গ্রন্থে লিখেছেন, শিরোনামে বর্ণিত হাদিস দ্বারা অনেকেই মদীনাকে ‘ইয়াসরিব’ বলা মাকরূহ বলেছেন। পবিত্র কুরআনে সূরা আহযাবে يَا أَهْلَ يَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ বলা হয়েছে। তা মুনাফিকের কথাকে বর্ণনা করা হয়েছে। এর দ্বারা ‘ইয়াসরিব’ বলা জায়েযের দলীল নেয়া যাবে না।

হযরত ঈসা ইবনে দীনার মালেকী (رحمة الله) বলেন, কেউ মদীনাকে ‘ইয়াসরিব’ বললে তার জন্য একটি গুনাহ লিখা হয়।

বুখারী শরীফে হযরত হুমায়েদ (رضي الله عنه)থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছালে, তিনি বললেন, هذه طابة এই হল তাবা।

➥[৬৮] বুখারী শরীফ, হাদিস নং ১৭৫১, বাব নং ১১৭২


এখন মদীনাকে মদীনাতুর রাসূল, মদীনাতুল মুনাওয়ারা বা মদীনাতুত তায়্যেবাহ নামে ডাকা হয়। বর্তমানে মদীনা শরীফের রাস্তায় সাইনবোর্ডে মদীনাতুল মুনাওয়ারা লেখা আছে। কোথাও কেবল মদীনা লেখা দেখা যায় না।

মদীনা শরীফ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)’র কদম মোবারকের সদকায় এমনভাবে পবিত্র হয়ে গেল যে, ইতিপূর্বে যার আবহাওয়া ছিল অস্বাস্থ্যকর এখন তা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য সম্পন্ন হয়ে গেল। ইতিপূর্বে যেখানে গেলে মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ত আর এখন সেখানে রুগী গেলে সুস্থ হয়ে যায়। ইতিপূর্বে এর মাটি ছিল রোগ জীবানুতে ভরা এখন এর মাটি হল জীবাণুমুক্ত শেফা। এ ব্যাপারে অদমও পরীক্ষীত।

++++++++++
গ্রন্থ: চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত
রচনায়: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি।
আরবী প্রভাষক,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা,ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন