❏ বিষয় নং-৫: হাশরের ময়দানে শাফায়াত বা সুপারিশ
হযরত আনাস ইবনে মালিক (رضي الله عنه)’র আকিদা:
রাসূলে কারিম (ﷺ)’র প্রিয় সাহাবা হযরত আনাস বিন মালেক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূলে করিম (ﷺ) ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন যখন সকল মানুষ একত্রিত হবে তখন তারা আফসোস করে বলবে,
لَوِ اسْتَشْفَعْنَا إِلَى رَبِّنَا حَتَّى يُرِيحَنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا
-‘‘হায়! আমাদের রবের নিকট যদি কোন সুপারিশকারী পেতাম, তবে তিনি আমাদের মুক্তি দিতেন।’’
তখন সবাই একত্রে হযরত আদম (عليه السلام)’র কাছে গিয়ে আবেদন জানাবে। আপনি কি মানুষের অবস্থা দেখছেন না? আল্লাহ তা‘য়ালা আপনাকে তাঁর কুদরতি হাতে সৃষ্টি করেছেন, সমস্ত ফেরেশতা আপনাকে সিজদা করেছেন, আপনাকে সব কিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন।
اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا حَتَّى يُرِيحَنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا
-‘‘সুতরাং আপনি আমাদের রবের নিকট সুপারিশ করুন। যাতে এই স্থান হতে আমরা মুক্তি পাই।’’ প্রত্যুত্তরে হযরত আদম (عليه السلام) বললেন,
لَسْتُ هُنَاكَ
-‘‘এটা আমার কাজ নয়।’’
এরপর এক পর্যায়ে তিনি বলেন-
ائْتُوا نُوحًا، فَإِنَّهُ أَوَّلُ رَسُولٍ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ
-‘‘বরং তোমরা হযরত নূহ (عليه السلام)’র কাছে যাও, কেননা পৃথিবীতে তাকেই মহান আল্লাহ তা‘য়ালা সর্বপ্রথম রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন।’’
তারা হযরত নূহ (عليه السلام)’র কাছে গেলে তিনি বলবেন,
لَسْتُ هُنَاكُمْ
-‘‘এটা আমার কাজ নয়।’’
তিনি তখন এক পর্যায়ে বলবেন-
ائْتُوا إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ الرَّحْمَنِ
-‘‘তোমরা বরং হযরত ইব্রাহিম (عليه السلام)’র কাছে যাও। তিনি মহান আল্লাহর পরম বন্ধু।’’
তারা হযরত ইবরাহীম (عليه السلام)’র কাছে যাবে। ইবরাহীম (عليه السلام) বলবেন,
لَسْتُ هُنَاكُمْ
-‘‘এটা আমার কাজ নয়।’’ এক পর্যায়ে তিনি বলবেন-
ائْتُوا مُوسَى، عَبْدًا آتَاهُ اللَّهُ التَّوْرَاةَ، وَكَلَّمَهُ تَكْلِيمًا
-‘‘তোমরা বরং হযরত মূসা (عليه السلام)’র কাছে যাও। আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে তাওরাত কিতাব দান করেছেন এবং তাঁর সাথে কথা বলেছেন।’’
তারা হযরত মূসা (عليه السلام)’র কাছে আসবে। হযরত মূসা (عليه السلام) বলবেন,
لَسْتُ هُنَاكُمْ
-‘‘এটা আমার কাজ নয়।’’ এক পর্যায়ে তিনি বলবেন-
ائْتُوا عِيسَى عَبْدَ اللَّهِ وَرَسُولَهُ، وَكَلِمَتَهُ وَرُوحَهُ
-‘‘তোমরা হযরত ঈসা (عليه السلام)’র কাছে যাও। তিনি আল্লাহর খাছ বান্দা। তাঁর রাসূল, তাঁর কালমা এবং রুহ।’’
তারা হযরত ঈসা (عليه السلام)’র কাছে আসবে। হযরত ঈসা (عليه السلام) বলবেন-
لَسْتُ هُنَاكُمْ
-‘‘এটা আমার কাজ নয়।’’ এক পর্যায়ে তিনি বলবেন-
وَلَكِنِ ائْتُوا مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَبْدًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبهِ وَمَا تَأَخَّرَ
-‘‘তোমরা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (ﷺ)’র কাছে যাও। তিনি আল্লাহর প্রিয় বান্দা, তাঁর কারণে আল্লাহ তা‘য়ালা তাঁর (উম্মতের) পূর্বের এবং পরের সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’’
রাসূলে করিম (ﷺ) ইরশাদ করেন, তারা সকলে আমার কাছে আসবে।
فَأَنْطَلِقُ، فَأَسْتَأْذِنُ عَلَى رَبِّي، فَيُؤْذَنُ لِي عَلَيْهِ
-‘‘আমি তাদেরকে নিয়ে যাবো এবং আমার রবের নিকট অনুমতি চাইবো, আমাকে অনুমতি দেয়া হবে।’’
আর আল্লাহর সাক্ষাতের সাথে সাথে আমি সিজদা করবো। তখন আল্লাহ বলবেন,
ارْفَعْ مُحَمَّدُ وَقُلْ يُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ
-‘‘আপনার মাথা মুবারক তুলুন। আপনি বলুন শ্রবণ করা হবে। আপনি চান দেয়া হবে এবং আপনি সুপারিশ করুন সুপারিশ কবুল করা হবে।’’
সরওয়ারে আলম (ﷺ) বলেন, যে ঈমান আনবে এবং তার অন্তরে গমের দানা পরিমাণ নেক আমল থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। যে ঈমান আনবে তাঁর অন্তরে গুন্দম পরিমান ভাল আমল থাকবে তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে ঈমান আনবে তার অন্তরে জররা পরিমাণ নেক আমল থাকবে। ৮৮
৮৮. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৯/১২১ পৃ. হা/৭৪১০, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, (ভারতীয় ৪৮৮ পৃষ্ঠা), ৩/১৫৪৬ পৃ. হা/৫৫৭২, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, হা/১২১৫৩, বায়হাকী, কিতাবুল আসমাওয়া সিফাত, ১৪৬ পৃষ্ঠা, ইবনে কাসীর, আল-বেদায়া ওয়ান নিহায়া, দ্বিতীয় খণ্ড, ১৮৮ পৃ., নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, ১০/২১৩ পৃ. হা/১১৩৬৯, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/২৮৯৯, সহীহ মুসলিম, হা/১৯৩)।
+++++++++++
আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?
মূল: আল্লামা আবুল হামেদ মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।
ভাষান্তর
মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
বিএ অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্পাদনায়, তাখরীজ, প্রকাশক:
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন