প্রাসঙ্গিক কুরআনের আয়াতের বিবরণ ৩
-------------------
❏ সৈয়দ শরীফ আবদুল আযীয মাসউদ كتاب الابريز নামক গ্রন্থে বলেছেন-
هُوَعَلَيْهِ السَّلاَمُ لاَيَخْفَى عَلَيْهِ مِنْ شَئٌُ مِنَ الْخَمْسِ الْمَذْكُوْرَةِ فِى الْاَيَةِ وَكَيْفَ يَخْفَى ذَالِكَ وَالْاَقْطَابُ السَّبْعَةُ مِنْ اُمَّتِهِ الشَّرِ يْفَةِ يَعْلَمُوْنَهَا وَهُمْ دُوْنَ الْغَوْثِ فَكَيْفَ بِالْغَوْثِ فَكَيْفَ بِسَيِّدِ الِاَوَّلِيْنَ وَالْاَخِرِيْنَ الَّذِىْ هُوَسَبَبُ كُلِّ شَئْيٍّ مِنْهُ كُلُّ شَيئٌُ
অর্থাৎ- রাসূল (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখিত পাঁচটি বিষয়ের কোনটিই গোপন নয়। এসব বিষয় তার সুদূর প্রসারী দৃষ্টি এড়াতে পারে কিভাবে? যেখানে রাসূল (ﷺ) উম্মতের সাতজন কুতুবও এগুলো সম্বন্ধে অবগত। তাঁরা তো গাউছের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরে অধিষ্ঠিত। এখন গাউছের জ্ঞান সম্পর্কে কি বলা হবে? আর যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জ্ঞানী গুণীদের সরদার, যিনি সমস্ত কিছুর মূল এবং যার থেকে সবকিছুই বিকশিত সে পবিত্র সত্ত্বার জ্ঞান সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করবেন?
{সৈয়দ শরীফ আব্দুল আযীয মাসউদঃ কিতাবুল ইবরিযঃ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ ১৬৭-১৬৮ পৃ.}
❏ আল্লাহ জালাল উদ্দীন সুয়ুতী (رحمة الله)-এর জামে সগীরের ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘রাওয়াযুন নযীরে’ এ হাদীছ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ
قَوْلُهُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ اِلاَّهُوَ مَعْنَاهُ بِاَنَّهُ لاَيَعْلَمُهَا اَحَدٌُ بِذَاتِهِ اِلاَّهُوَ لكِنْ قَدْ يَعْلَمُ بِهِ بِاِعْلاَمِ اللهِ فَاِنَّ ثَمَّ مَنْ يَعْلَمُهَا وَقَدْ وَجَدْ نَا ذَالِكَ بِغَيْرِ وَاحِدٍ كَمَا رَءيْنَا جَمَا عَةً عَلِمُوْا مَتَى يَمُوْتُوْنَ وَعَلِمَوْا مَافِى الْاَرْحَامِ
অর্থাৎ- রাসূল (ﷺ)-এর اِلاَّهُوَ বলার অর্থ হচ্ছে যে, সে সমস্ত বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া সত্ত্বাগতভাবে আর কেউ জ্ঞাত নয় তবে কখনো আল্লাহ কর্তৃক অবহিত করার ফলে জ্ঞাত হওয়া যায়। কেননা এখানে এমন বুযুর্গলোক আছেন যারা এগুলো সম্পর্কেও জানেন। এ ধরনের অনেক ব্যক্তি আমি দেখেছি। যেমন- আমি এমন এক সম্প্রদায়কে দেখেছি, যাঁরা জানতেন, কখন তাঁরা ইনতিকাল করবেন। এমনিভাবে তারা গর্ভস্থিত শিশু সম্পর্কে জানতেন।
{ইমাম আহমদ রেযা খানঃ খালিসুল ই’তিকাদঃ পৃ. ৭২}
❏ আল্লামা জালালউদ্দীন সুয়ুতী (رحمة الله) “খাসায়েসুল কোবরা” শরীফে উল্লেখ করেছেনঃ
عَرِضَ عَلَيْهِ مَا هُوَ كَائِنٌُ فِيْ اَُمَّتِهِ حَتَّى تَقُوْمَ السَّاعَةُ
অর্থাৎ- রাসূল (ﷺ)-এর নিকট সে সমস্ত বিষয় বা ঘটনাবলী তুলে ধরা হয়েছে, যা রাসূল (ﷺ)-এর উম্মতের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত ঘটতে থাকবে।
❏ আল্লামা ইব্রাহিম বাইজুরী (رحمة الله) শরহে কাসীদায়ে বুর্দ্দার ৭৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ
لَمْ يَخْرُجِ النَّبِىُّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ مِنَ الدُّنْيَا اِلاَّبَعْدَ اَنْ اَعْلَمَهُ اللهُ بِهَذِهِ اَلاُمُوْرِ الْخَمْسَّةِ
অর্থাৎ- রাসূল (ﷺ) ধরাপৃষ্ঠ থেকে তশরীফ নিয়ে যাননি, যতক্ষণ না আল্লাহ তা’আলা তাঁকে (ﷺ) পঞ্চ বিষয়ের عَلُوْمِ خَمْسَةِ জ্ঞান দান করেন।
❏ জামেউন নিহায়া جمع النهاية গ্রন্থে আল্লামা শুনওয়ারী (رحمة الله) বলেছেনঃ
وَقَدْ وَرَدَاَنَّ اللهُ تَعَالَى لَمْ يُخْرِجِ النَّبِىَّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ حَتَّى اَطْلَعَهُ اللهُ عَلَى كُلِّ شَيئٍ
অর্থাৎ- একথা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ তা’আলা নবী আলাইহিস সালামকে পৃথিবী থেকে নিয়ে যাননি, যতক্ষণ না প্রত্যেক বিষয় সম্বন্ধে তাঁকে অবহিত করেন।
{ইমাম আহমদ রেযা খানঃ খালিসুল ই’তিকাদঃ পৃ. ৭৭-৭৮}
❏ আল্লামা শুনওয়ারী (رحمة الله) একই কিতাবে আরও বলেন-
قَالَ بَعْضَ الْمُفَسِّرِيْنَ لاَيَعْلَمُ هَذِهِ الْخَمْسَ عِلْمًا لِدُّنْيًا ذَاتِيًا بِلاَّ وَاسِطَةٍ اِلاَّ اللهُ فَاْلِعْلُم بِهَذِهِ الصَّفَةِ مِمَّا اخْتَصَّ للهُ بِهِ وَاَمَّا بِوَاسِطَهٍ فَلاَ يَحْتَصُّ بِهِ
অর্থাৎ- কোন কোন তাফসীরকারক বলেন যে, উক্ত পঞ্চ বিষয় علوم خمسة সম্পর্কে সত্ত্বাগত ও মাধ্যম বিহীন একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ অবহিত নয়। এ রকম জ্ঞাত হওয়ার ব্যাপারটি কেবল আল্লাহর জন্য সীমিত। কিন্তু কোন মাধ্যমসূত্রে লব্ধ জ্ঞান আল্লাহর বৈশিষ্ট্য নয়।
{ইমাম আহমদ রেযা খানঃ খালিসুল ই’তিকাদঃ পৃ. ৭৭-৭৯}
❏ ‘আরবায়ীনে ইমাম নববী (رحمة الله) এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘ফুতুহাতে ওয়াহবিয়া’তে ফাযিল ইবন ‘আতিয়ায় বলেছেনঃ
اَلْحَقُّ كَمَا قَالَ جَمْعٌُ اَنَّ اللهَ لَمْ يَقْبِضَ نَبِيِّنَا عَلَيْهِ السَّلاَمُ حَتَّى اَطْلَعَهُ عَلَى كُلِّ مَا اَبْهَمَ عَنْهُ اِلاَّ اَنَّهُ مِرَ بِكَتِمَ بَعْضٍ وَالْاِعْلاَمِ بِبَعْضٍ
অর্থাৎ- সঠিক কথা হলো, যা দ্বীনী মনীষীদের এক সম্প্রদায় বলেছেন আল্লাহ তা’আলা রাসূল (ﷺ)কে, এ ধরাধাম থেকে নিয়ে যান নি, যতক্ষণ না যাবতীয় গুপ্ত ও রহস্যাবৃত বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেছেন। অবশ্য কোন কোন তথ্য গোপন রাখার ও কোন কোনটি ব্যক্ত করার জন্য তিনি আদিষ্ট ছিলেন।
❏ আল্লামা শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী সাহেব (رحمة الله) ‘বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন’ নামক গ্রন্থের ১১৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ
نقل مي كند كه والد شيخ ابن حجر رافر زند نمى زيست كبيده خاطر بحضور شيخ رسيد – شيخ فرمود كه از پشت تو فرزندے خواهد آمد كه بعلم خوددنيا راپر كند
অর্থাৎ- বর্ণিত আছে যে, শাইখ ইবন হাজর (রহমতুল্লাহে আনহু) এর পিতার কোন সন্তান বাঁচতো না। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্বীয় শাইখ সাহেব (رحمة الله) এর খেদমতে উপস্থিত হলেন। তাঁর শাইখ বললেন, ‘তোমার ঔরস থেকে এমন একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে, যাঁর জ্ঞানালোক সারা দুনিয়া উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে।
{শায়খ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভীঃ বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন (ফার্সী)- ৩০৪ পৃ. করাচী হতে মুদ্রিত।}
এতক্ষণ পর্যন্ত পঞ্চ জ্ঞানের علم خمسه সমর্থনে ঐতিহ্যগত বা কুরআন হাদীছে রিওয়ায়েতকৃত প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হলো। এর যুক্তি ও জ্ঞান ভিত্তিক প্রমাণ (আকলী-দলীল) হচ্ছে, ভিন্নমতাবলম্বীগণও একথা স্বীকার করেন যে, রাসূল (ﷺ)-এর জ্ঞান সমস্ত সৃষ্টিকূলের থেকে অনেক বেশী। এ তথ্যের উদ্ধৃতি ইতিপূর্বে তাদের রচিত ‘তাহযীরুন্নাস’ নামক গ্রন্থ থেকে পেশ করেছি। এখন দেখতে হবে সৃষ্টিকূলের কাউকে উক্ত পঞ্চ বিষয়ের জ্ঞান দান করা হয়েছে কিনা।
❏ মিশকাত শরীফের ‘কিতাবুল ঈমান বিল কদর’ এ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছেঃ রাসূল (ﷺ) মায়ের গর্ভে শিশুর শারীরিক গঠন প্রণালীর বর্ণনা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেনঃ
ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ: فَيَكْتُبُ عَمَلَهُ، وَأَجَلَهُ، وَرِزْقَهُ، وَشَقِيٌّ، أَوْ سَعِيدٌ، ثُمَّ يَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ
-‘‘অতঃপর মহাপ্রতিপালক চারটি বিষয় সহকারে একজন ফিরিশতা প্রেরণ করেন। তিনি সে শিশুর আমল, মৃত্যু, জীবিকা এবং সে সন্তান নেককার হবে, না বদকার হবে এ চারটি বিষয় লিখে যান। এরপর ‘রূহ’ ফুঁকে দেওয়া হয়।’’
{ক. খতিব তিবরিযীঃ মেশকাতঃ ১/৩৬ পৃ. হাদিসঃ ৮২
খ. বুখারীঃ আস-সহীহঃ ৬/৩০৩ পৃ. হাদিসঃ ৩২০৮
গ. মুসলিমঃ আস-সহীহঃ ৪/২০৩৬ হাদিসঃ ১
ঘ. আবু দাউদঃ আস-সুনানঃ ৫/৮২ পৃ. াহদিসঃ ৪৭০৮
ঙ. তিরমিজীঃ আস-সুনানঃ ৪/৩৮৮ পৃ. হাদিসঃ ২১৩৭
চ. ইবনে মাজাহঃ আস-সুনানঃ আল-মুকাদ্দিসঃ ১/২৯ পৃ. হাদিসঃ ৭৬}
এগুলোও হচ্ছে পঞ্চ জ্ঞানের অন্তভুর্ক্ত। তাহলে বলতে হয়, বর্তমান ও বিগত সকল মানুষের এ চারটি বিষয়ে ভাগ্য লিপির লেখক ফিরিশতাও জ্ঞাত।
❏ মিশকাত শরীফের একই অধ্যায়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছেঃ
كَتَبَ اللَّهُ مقادير الْخَلَائق قبل أَن يخلق السَّمَوَات وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ
-‘‘আল্লাহ তা’আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই সৃষ্টিকূরের নিয়তি বা তাকদীর লিপিবদ্ধ করেছেন।’’
{ ক. খতিব তিবরিযীঃ মেশকাতঃ ১/৩৬ হাদিসঃ ৭৯
খ. আল্লামা আজলুনীঃ কাশফুল খাফাঃ১/২৩৬, হাদিসঃ৭৬
গ. মুসলিমঃ আস-সহীহঃ ৪/২০৪৪ হাদিসঃ ১৬}
বোঝা গেল যে, লওহে মাহফুজে উক্ত পঞ্চ বিষয়ের কথা লিপিবদ্ধ আছে। তা’হলে লওহে মাহফুজের দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতাগণ এবং অনুরূপ নবীগণ, এমন কি ওলীগণও যাদের দৃষ্টি লওহে মাহফুজের দিকে নিবদ্ধ থাকে, এ পঞ্চ বিষয়ের জ্ঞান লাভ করেন। মিশকাত শরীফের উক্ত ‘কিতাবুল ঈমান বিল কদর’ এ উল্লেখিত আছে যে, আল্লাহ কর্তৃক তার প্রভুত্বের স্বীকৃতি সূচক প্রতিশ্রুতি গ্রহণের দিন يوم ميثاق হযরত আদম (عليه السلام) কে তাঁর সমস্ত আওলাদের রূহ গুলো সাদা-কালো বর্ণে দেখানো হয়েছিল। কালো রূহগুলো ছিল কাফিরদের, আর সাদাগুলো মুসলমানদের। মি’রাজের সময় রাসূল (ﷺ) হযরত ইব্রাহীম (عليه السلام) কে এমন এক অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন, যখন তাঁর ডান দিকে সাদা এবং বাম দিকে কালো বর্ণের রূহসমূহ বিরাজমান ছিল। অর্থাৎ বেহেশতী ও দোযখী লোকগণ তাঁর যথাকব্রমে ডান ও বাম পাশের্ব বিরাজমান ছিল। মুমিনদেরকে দেখে তিনি আনন্দিত, আর কাফিরদেরকে দেখে দুঃখিত হতেন। এ মিশকাত শরীফের ‘কিতাবুল ঈমান বিল কদর’-এ আরও উল্লেখিত আছে যে, একদিন রাসূল (ﷺ) নিজের দু’হাতে দু’টো কিতাব নিয়ে সাহাবীদের সমাবেশে আগমন করেন। ডান হাতস্থিত কিতাব সম্পর্কে বলেন- এতে বেহেশতীগণের না, তাঁদের নিজ নিজ গোত্রের নাম সহ উল্লেখিত আছে, এবং অপর কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে- সমস্ত দোযখবাসীর নাম, তাদের নিজ নিজ গোত্রের নামসহ। পরিশেষে সে সমস্ত নামের মোট সংখ্যা কত হবে, তার যোগফলও দেয়া হয়েছে।
❏ এ হাদীছের ব্যাখ্যায় আল্লামা মোল্লা ‘আলী কারী (رحمة الله) মিরকাত’ গ্রন্থে বলেছেনঃ
اَلظَّاهِرُ مِنَ الْاِ شَارَةِ اَنَّهُمَا حِسِّيَانِ وَقِيْلَ تَمْثِيْلٌُ
-‘‘হাদীছে ব্যবহৃত নির্দেশসূচক সর্বনাম (এ কিতাবটি) থেকে একথাই বোঝা যায় যে, ওই কিতাবগুলো দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল।’’
{আল্লামা মোল্লা আলী ক্কারীঃ মিরকাতঃ ১/২৪২ পৃ. হাদিসঃ ৭৯}
❏ মিশকাত শরীফের ‘কবরের আযাব’ শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, মৃত ব্যক্তি যখন মুনকীর নকীর ফিরিশতাদ্বয়ের পরীক্ষায় কৃতকার্য বা অকৃতকার্য হয়, তখন ফিরিশতাদ্বয় বলেনঃ
قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ اَنَّكَ تَقُوْلُ هَذَا.
অর্থাৎ- আমরা আগেই জানতাম যে, তুমি এ রকম উত্তর প্রদান করবে।
{ক. খতিব তিবরিযীঃ মেশকাতঃ ১৪৬ হাদিসঃ ১৩০ হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) এর সূত্রে
খ. ইমাম তিরমিজীঃ ৩/৩৮৩ হাদিসঃ ২০৭১ হাসান সনদ}
বোঝা গেল যে, মৃত ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার পূর্বে উক্ত ফিরিশতাদ্বয় তার ‘নেককার’ ও ‘বদকার’ হওয়া সম্পর্কে জ্ঞাত হন। পরীক্ষাটা নিছক কানুনের অনুসরণ বা কেউ যাতে তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে মর্মে আপত্তি করতে না পারে, সে জন্য করা হয়ে থাকে। হাদীছ শরীফে আছে যে, কোন নেককার বান্দার সঙ্গে তার স্ত্রী দুনিয়াতে ঝগড়াঝাটি করলে, বেহেশত থেকে হুর ডাক দিয়ে বলেন, “সে তোমার কাছে কয়েক দিনের মেহমান মাত্র। শীগগির সে আমাদের কাছে ফিরে আসবে। তাই তাঁর সাথে ঝগড়া করো না।” (মিশকাত শরীফের ‘কিতাবুন নিকাহ ফি ইশরাতিন নিসা” দ্রষ্টব্য) উপরোক্ত হাদীছ থেকে বুঝা গেল যে, ‘হুর’ ও একথা জানতে পারে যে, সে ব্যক্তির পরিণাম ভালই হবে। রাসূল (ﷺ) বদর যুদ্ধের একদিন আগে যমীনের উপর রেখা অংকিত করে বলেন, এখানে অমুক কাফির, ওখানে অমুক কাফির মারা যাবে।
(মিশকাত শরীফের কিতাবুল জিহাদ দ্রষ্টব্য)
এতে বোঝা যায় যে, রাসূল (ﷺ) ওদের মৃত্যুবরণের সুনির্দিষ্ট স্থান সম্বন্ধে জ্ঞাত ছিলেন।
উল্লেখিত হাদীছসমূহ থেকে বোঝা গেল যে, আল্লাহ তা’আলা তাঁর কতেক প্রিয় বান্দাগণকেও উক্ত পঞ্চ বিষয়ের জ্ঞান দান করেছেন। আর রাসূল (ﷺ)-এর ব্যাপক জ্ঞান তাঁদের সবার সমষ্টিগত জ্ঞানের পরিধিেিকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে। এমতাবস্থায় এটা কিভাবে সম্ভব যে রাসূল (ﷺ) পঞ্চ জ্ঞানের অধিকারী হবেন না? এ থেকে এও প্রমাণিত হলো যে, পঞ্চ জ্ঞান খোদা প্রদত্ত ও অচিরন্তন হওয়ার কারণে আল্লাহর গুণ বা বৈশিষ্ট্য নয়। অন্যথায়, কেউ এ জ্ঞানের বিন্দুমাত্রও অধিকারী হতো না। কেননা, আল্লাহ তা’আলা কোন গুণে আংশিক বা সামগ্রিকরূপে কারও শরীক হওয়া বৈধ হতে পারে না। এ সব দলীলের উত্তর প্রদান বিরোধী মতাবলম্বীদের পক্ষে ইনশা আল্লাহ সম্ভবপর হবে না।
(১৭)وَمَا يَعْلَمُ تَاوِيْلَهُ اِلاَّاللهُ
অর্থাৎ- কুরআনের বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ বা দ্ব্যর্থবোধক আয়াতের (মুতশাবিহাত আয়াতের) মর্ম আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।”
{সূরাঃ আলে ইমরান, আয়াতঃ ৭, পারাঃ ৩}
এ থেকে বোঝা গেল যে, রাসূল (ﷺ)-এর ‘মুতশাবিহাত’ আয়াতের লক্ষ্যার্থের জ্ঞান ছিল না।
উত্তরঃ এ আয়াতে এ কথা কোথায় বলা হলো যে, আমি (আল্লাহ) ‘মুতশাবিহাত আয়াতের’ জ্ঞান কাউকে প্রদান করিনি? মহাপ্রভু তো ইরশাদ করেছেন- اَلرَّحْمَنُ – عَلَّمَ الْقُرْاَنَ [দয়াবান আল্লাহ (নিজের প্রিয় বন্ধুকে) কুরআন শিখিয়েছেন।] যখন মহাপ্রভুই সমগ্র কুরআন হুযুরকে শিখিয়েছেন তখন মুতশাবিহাত আয়াতও নিশ্চয়ই শিখিয়েছিলেন এজন্য হানাফী মাযহাবের সর্বসম্মত ‘আকীদা’ হলো রাসূল (ﷺ) মুতশাবিহাত সম্বন্ধে সম্যকরূপে জ্ঞাত, অন্যথায় সেগুলো নাযিল করাটাই অনর্থক হবে। শাফিঈ মাযহাবালম্বীদের মতে বিজ্ঞ আলিমগণও মুতশাবিহাত আয়াত সমূহের জ্ঞান রাখেন। তাঁরা আয়াত এর وَالرَّ اسِخُوْنَ فِى الْعِلْمِ, পরেই বিরাম চিহ্ন তথা ‘ওয়াক্ফ’ আছে বলে মত পোষন করেন এবং উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করেন- মুতশাবিহার জ্ঞান আল্লাহ তা’আলা ও বিজ্ঞ উলামা ছাড়া আর কেউ জানে না।
(এ ব্যাপারে নুরুল আনওয়ারের মুতাশা বিহাত অধ্যায় দেখুন- বাহাদুর)।
+++++++++
জা’আল হক (প্রথমাংশ)
মূলঃ হযরাতুল আল্লামা আলহাজ্ব মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহমতুল্লাহে আলাইহে
অনুবাদকঃ (শাহজাদা) মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আলম ও মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
তথ্য সংযােজনঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন