প্রথম অধ্যায়ঃ ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) প্রসঙ্গ
হাদিস শরিফের আলোকে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ)
(১) ইমাম বুখারী (رحمة الله)-এর দাদা উস্তাদ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (ওফাত.২১১হি.) রাসূল (ﷺ)-এর মিলাদ বা সৃষ্টি সম্পর্কে একটি হাদিস সংকলন করেন এভাবে-
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَخْبِرْنِي عَنْ أَوَلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ اللَّهُ قَبْلَ الأَشْيَاءِ، فَقَالَ: يَا جَابِرُ! إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ قَبْلَ الأَشْيَاءِ نُورُ نَبِيِّكَ مِنْ نُورِهِ، فَجَعَلَ ذَلِكَ النُّورِ يَدُورُ بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ، وَلَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ لَوْحٌ وَلا قَلَمٌ وَلا جَنَّةٌ وَلا نَارٌ وَلا مُلْكٌ وِلا سِمِاءٌ وَلا أَرْضٌ وَلا شَمْسٌ وَلا قَمَرٌ وَلا جِنِّيٌ وَلا إِنْسٌ.
-‘‘হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন, আমি নবী করিম (ﷺ) কে লক্ষ্য করে বললাম- হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার পিতা মাতা আপনার উপর কোরবান হোক। আমাকে কি আপনি অবহিত করবেন যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোন বস্তু সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন? তদুত্তরে রাসূলে করিম (ﷺ) ইরশাদ করেন- হে জাবির! সমস্ত বস্তুর সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ তোমার নবীর নূরকে তাঁর আপন নূর হতে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় ঐ নূর কুদরতে যেথায় সেথায় ভ্রমণ করতেছিল। ঐ সময় লওহ-কলম, বেহেস্ত-দোজখ, ফেরেশতা, আসমান-জমীন, চন্দ্র-সূর্য, জিন-ইনসান কিছুই ছিল না।’’
🔺(ইমাম আবদুর রায্যাক : আল-মুসান্নাফ (জুযউল মুফকুদ) : ১/৬৩, হাদিস-১৮, (ঈসা মানে হিমইয়ারা সংকলিত), আল্লামা আজলুনী : কাশফুল খাফা : ১/৩১১পৃ. হাদিস : ৮১১, আল্লামা কুস্তালানী : মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া : ১/১৫, মাকতুবাতুল ইসলামী, বয়রুত, লেবানন, আল্লামা জুরকানী: শরহুল মাওয়াহেব : ১/৮৯, আশরাফ আলী থানবী : নশরুত্ত্বীব : পৃ. ২৫, আব্দুল হাই লাখনৌভী, আসারুল মারফূআ,৪২-৩৩পৃ. ইবনে হাজার মক্কী, ফতাওয়ায়ে হাদিসিয়্যাহ, ৪৪পৃ. (শামেলা), শায়খ ইউসুফ নাবহানী, হুজ্জাতুল্লাহিল আলামিন: ৩২-৩৩পৃ. ও জাওয়াহিরুল বিহার, ৩/৩৭পৃ. আনোওয়ারে মুহাম্মাদিয়্যা, ১৯পৃ. মোল্লা আলী ক্বারী, মাওয়ারিদুর রাভী, ২২পৃ. ইমাম নববী, আদ্-দুরারুল বাহিয়্যাহ, ৪-৮। এ হাদিসের আরও রেফারেন্স বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মাচন’’ এর ১ম খন্ডের ২৯৩-৫৭৪পৃষ্ঠা দেখুন)
এ হাদিসে রাসূল (ﷺ) তাঁর শুভাগমনের সূচনা কিভাবে হয়েছিল তা আলোকপাত করেছেন। এ হাদিস ও বিষয় সম্পর্কে আপত্তির নিষ্পত্তি বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত [‘‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’’ ১ম খন্ডে ৩৪৩-৩৭১পৃষ্ঠা দেখুন।]
-‘‘হাদিস শাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ তিরমিযী (رحمة الله) তাঁর সংকলিত ‘সুনানে তিরমিযী’ শরীফে একটি অধ্যায়ের মধ্যে بَابُ مَا جَاءَ فِي مِيلاَدِ النَّبِيِّ
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلم ‘মিলাদুন্নবী (ﷺ) শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ প্রণয়ন করেছেন এবং এতে হুজুর (ﷺ) এর জন্ম তারিখ নিয়ে আলোচনা সম্বলিত হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি হলো-হযরত মোত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ আপন দাদা কায়েস বিন মোখরামা (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন- আমি ও নবী করিম (ﷺ) ‘আমুল ফীল’ অর্থাৎ, বাদশাহ আবরাহার হস্তি বাহিনীর উপর আল্লাহর গযব নাজিল হওয়ার বছর জন্মগ্রহণ করেছি। হযরত ওসমান বিন আফ্ফান (رضي الله عنه) বনি ইয়ামার ইবনে লাইস এর ভাই কুবাছ ইবনে আশইয়ামকে বললেন- ‘আপনি বড় না রাসূল (ﷺ) ? তখন তিনি বললেন, রাসূল আমার চেয়ে অনেক বড় সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে, আর আমি জন্ম সূত্রে রাসূল (ﷺ) থেকে আগে মাত্র।’’
🔺(তিরমিযী, আস্-সুনান, ৫/৫৮৯ পৃ. হাদিস নং. ৩৬১৯, দারুল গুরুবুল ইসলামী, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ১৯৯৮খৃ.।)
এ হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) ‘হাসান’ বলেছেন। এ হাদিস থেকে দুটি বিষয় প্রমাণিত হল (১) সাহাবীদের যুগে বিভিন্ন স্থানে মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর আলোকপাত হত (২) আর যারা বলেন মিলাদুন্নবী (ﷺ) বলতে কোনো কথা কুরআন হাদিসে নেই ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন মিলাদুন্নবী (ﷺ) অধ্যায় রচনা করে। নিন্মের এ হাদিসে নবীজি নিজেই তার মিলাদুন্নবী (ﷺ)-এর আলোচনা করেছেন।
عَن العِرْباض بن ساريةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ... وَسَأُخْبِرُكُمْ بِأَوَّلِ أَمْرِي دَعْوَةُ إِبْرَاهِيمَ وَبِشَارَةُ عِيسَى وَرُؤْيَا أُمِّي الَّتِي رَأَتْ حِينَ وَضَعَتْنِي وَقَدْ خَرَجَ لَهَا نُورٌ أَضَاءَ لَهَا مِنْهُ قصر الشام… (رواية في شرح ااسنة)
(৪) -‘‘হযরত ইরাবাদ বিন ছারিয়া (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি হযরত নবী করিম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন...আমি হযরত ইব্রাহিম (عليه السلام) এর দোয়া হযরত ঈসা (عليه السلام) এর সুসংবাদ। আমার মাতা যখন আমাকে প্রসব করলেন তখন যে নূর বের হয়েছিল তাতে শাম দেশের কোঠা তিনি দেখতে পেয়েছেন। আমি সেই স্বপ্ন বা দৃশ্য।’’
🔺(খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবিহ, ৩/১৬০৪পৃ. হাদিস নং. ৫৭৫৯, মাকতুবাতুল ইসলামী, বয়রুত, লেবানন, ১৯৮৫খৃ. আলবানী এ হাদিসটিকে মিশকাতের তাহকীকে সহিহ বলেছেন, হাকিম, মুস্তাদরাক, ২/৬৫৬পৃ. হাদিস নং. ৪১৭৪, ইবনে কাসির, বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ২/৮৫পৃ. ও ২৭৫পৃ. ও তাফসীরে ইবনে কাসির, ৪/৩৬১পৃ.)
এ হাদিসটিকে আহলে হাদিসের ইমাম নাসিরুদ্দীন ইমাম আলবানী স্বয়ং সনদটিকে সহিহ বলেছেন।
🔺(এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘রাসূল (দ.)-এর সৃষ্টি নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান’’ দেখুন)
এ হাদিসটি অসংখ্য সনদে বর্ণিত আছে।
عَن الْعَبَّاس أَنَّهُ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَأَنَّهُ سَمِعَ شَيْئًا فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ:مَنْ أَنَا؟ فَقَالُوا: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالَ:أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْخَلْقَ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ ثمَّ جعلهم فرقتَيْن فجعلني فِي خير فِرْقَةً ثُمَّ جَعَلَهُمْ قَبَائِلَ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ قَبيلَة ثمَّ جعله بُيُوتًا فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ بَيْتًا فَأَنَا خَيْرُهُمْ نفسا وَخَيرهمْ بَيْتا . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ-
-‘‘হুজুর করিম (ﷺ) এর চাচা হযরত আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা তিনি হুযুর (ﷺ) এর নিকট ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আসলেন। কারণ তিনি যেন হুযুর করিম (ﷺ) এর বংশ বুনিয়াদ সম্পর্কে বিরূপ কিছু মন্তব্য শুনেছেন। (তা হুযুর করিম (ﷺ) কে অবহিত করলেন।) তখন হুজুর (ﷺ) মিম্বর শরীফের উপর আরোহন করলেন। (বরকতময় ভাষন দেয়ার উদ্দেশ্যে) অতঃপর তিনি সাহাবা কেরামগণের উদ্দেশ্যে বললেন “আমি কে ?” উত্তরে তাঁরা বললেন “আপনি আল্লাহর রাসূল”। তখন হুজুর আকরাম (ﷺ) এরশাদ করলেন “আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র মুহাম্মদ (ﷺ)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মানব-দানব সবই সৃষ্টি করেছেন। এতেও আমাকে উত্তম পক্ষের (অর্থাৎ মানবজাতি) মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের (মানব জাতি) কে দু ‘সম্প্রদায়ে বিভক্ত করেছেন (অর্থাৎ আরবীয় ও অনারবীয়) এতেও আমাকে উত্তম দু‘সম্প্রদায়ে (আরবী) সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরব জাতিকে অনেক গোত্রে বিভক্ত করেছেন। আর আমাকে গোত্রের দিক দিয়ে উত্তম গোত্রে (কুরাইশ) এ রেখেছেন করেছেন। তারপর তাদেরকে (কুরাইশ) বিভিন্ন উপগোত্রে ভাগ করেছেন। আর আমাকে উপগোত্রের দিক দিয়ে উত্তম উপগোত্রে (বনি হাশেম) সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আমি তোমাদের মধ্যে সত্তাগত, বংশগত ও গোত্রগত দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ।’’ ইমাম তিরমিযি এ সনদটিকে ‘হাসান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
🔺(তিরমিযী, আস্-সুনান, ৬/৮ পৃ. হাদিস নং. ৩৬০৮; খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবিহ, - ৫১৩ পৃ.)
আলোচ্য হাদিস দ্বারা স্পষ্ট ভাবে বুঝা গেল রাসূল (ﷺ) স্বীয় মিলাদুন্নবী (ﷺ) বা জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা করে নিজের বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
عن ابن عباس رضى الله عنهما انه كان يحدث ذات يوم فى بيته وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم قال حلت لكم شفاعتي -
-‘‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, একদা তিনি হুযুর (ﷺ) এর পবিত্র মিলাদের বা জন্মের ঘটনা বর্ণনা করছিলেন। এমন সময় নবী করিম (ﷺ) সেখানে তাশরীফ আনলেন এবং তা দেখে এরশাদ করলেন- “তোমাদের জন্য কেয়ামত দিবসে আমার শাফা’য়াত ওয়াজিব হয়ে গেল”। (অর্থাৎ সমবেত হয়ে আমার জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনার ফলে তোমাদের জন্য কিয়ামত দিবসে আমার সুপারিশ নিশ্চিত হয়ে গেলো।’’ (ইবনে দাহিয়াহ, আত্তানবীর ফিল মাওলিদিল বাশীরিন্নাযীর, ৭৭পৃ. )।
عن ابى الدرداء رضى الله عنه انه مر مع النبى صلى الله عليه وسلم إلى بيت عامر الأنصاري وكان يعلم وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لابنائه وعشيرته ويقول هذا اليوم هذا اليوم فقال عليه الصلوة والسلام ان الله فتح لك أبواب الرحمة والملائكة يستغفرون لك ومن فعل فعلك نجانجا تك -
(৮) -‘‘হযরত আবু দারদা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, একদা তিনি হুযুর করিম (ﷺ) এর সাথে হযরত আমের আনসারী (رضي الله عنه) এর ঘরে গিয়েছিলেন। তখন হযরত আমের আনসারী (رضي الله عنه) তাঁর সন্তান ও স্বগোত্রীয় লোকদের সাথে নিয়ে মিলাদুন্নবী (ﷺ) বা হুযুর করিম (ﷺ) এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করছিলেন এবং বলছিলেন- “এই দিনটি, এই দিনটি” তখন হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেলেন- “(হে আমের আনসারী!) নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্য রহমতের দরজা সমূহ খুলে দিয়েছেন। আর ফিরিশতাগণ তোমার জন্য মাগফেরাত কামনা করছে। তাছাড়া যারা তোমার মতো আমার মিলাদুন্নবী (ﷺ) বা জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে তারা তোমার মতোই নাজাত লাভ করবে। (ইবনে দাহিয়াহ, আত্তানভীন ফী মাওলিদিল বাশীরিন্নাযীর, ৭৮পৃ. )
আলোচ্য হাদিস দু’টি থেকে প্রমাণিত হয় যে, সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) হুজুর (ﷺ) এর মিলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করতেন এবং তা নিজ সন্তান ও স্বগোত্রীয়দের শিক্ষা দিতেন। এ দুটি হাদিস ও বিষয় সম্পর্কে আপত্তির নিষ্পত্তি বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’’ ১ম খন্ডে ৫১১-৫১৭ পৃষ্ঠা দেখুন।
+++++++++++
ফতোওয়ায়ে আহলে সুন্নাহ (আটটি বিষয়ের সমাধান)
গ্রন্থনা ও সংকলনেঃ
মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
প্রতিষ্ঠাতা, ইমাম আযম রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ ০১৭২৩-৯৩৩৩৯৬
সম্পাদনা পরিষদঃ
আল্লামা মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদী (মা.জি.আ.)
মুনাজেরে আহলে সুন্নাহ ও বিশিষ্ট ইসলামী লেখক ও গবেষক।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন