চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত


মসজিদে কুবায় নামায আদায় করার ফযিলত

১৫. عَنْ أُسَيْدَ بْنَ ظُهَيْرِ الأَنْصَارِيَّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الصَّلَاةُ فِي مَسْجِدِ قُبَاءٍ كَعُمْرَةٍ

১৫. অনুবাদ: হযরত উসায়দ ইবনে জুহায়র (رضي الله عنه)থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মসজিদে কুবায় নামায আদায় করা একটা উমরার সমতুল্য।

➥[৩১] আহমদ, তিরমিযী, হাকেম, সূত্র: আরবাউন হাদিসান কি ফাযায়েলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা পৃ. ৩৫


ব্যাখ্যা: মসজিদে কুবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্মাণকৃত ইসলামের প্রথম মসজিদ। হিজরতের সময় তিনি কুবা নামক স্থানে বনী আমর গোত্রে অবস্থান করেন। এসময় তিনি এ মসজিদ নির্মাণ করলেন। পবিত্র কুরআনে এই মসজিদের এবং এটা এলাকাবাসীর প্রশংসা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

:لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

নিশ্চয় যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথমদিন থেকে সেটিই আপনার দাঁড়াবার স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আল্লাহ অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীকে ভালবাসেন।

➥[৩২] সূরা তাওবা, আয়াত ১০৮


ঐ এলাকার অধিবাসীরা মাটি-পাথর দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার পর পুনরায় পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতেন। তাই আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রশংসা করেন।

রাসূলুল্লাল্লাহ (ﷺ) প্রতি শনিবার পায়ে হেঁটে মসজিদে কুবায় আসতেন। তিনি বলেন-

"مَنْ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوْءَ، ثُمَّ جَاءَ مَسْجِدِ قُباء، فَصَلَّى فِيْهِ، كَانَ لَهُ أَجْرُ عُمْرَةَ".

যে ব্যক্তি ভালভাবে উযূ করে মসজিদে কুবায় এসে নামায আদায় করবে, তার জন্য রয়েছে একটি উমরার সাওয়াব।

➥[৩৩] আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়েলিল মদীনা মুনাওয়ারা পৃ. ৩৮


ইবনে আবি শায়বা বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণনা করেন:

 لِاَنْ اُصَلِّى فِىْ مَسْجِدِ قُبَاءِ رَكَعَتَيْنِ اُحَبَّ اِلَىَّ مِنْ اَنْ اتَى بَيْتُ الْمُقَدَّسِ مَرَّتَيْنِ لَوْيَعَلَمُوْنَ مَافِى قُبَاءِ لَصَرَفُوْا اِلَيْهِ اَكْبَادُ الْاِبْلِ

মসজিদে কুবায় দুই রাকআত নামায আদায় করা আমার নিকট বায়তুল মোকাদ্দাসে দুইবার গিয়ে নামায পড়ার চেয়ে বেশি প্রিয়। মসজিদে কুবা’র নামাযের ফযিলত সম্পর্কে যদি তারা জানত তবে মানুষ তার দিকে দূর-দূরান্ত থেকে উট হাঁকিয়ে সফর করে আসত।

➥[৩৪] হাফিয ইবনে হাজর আসকলানী (رحمة الله) (৮৫২ হি.) ফতহুল বারী, খন্ড ৩, পৃ. ৬৯


হযরত আবু হোরায়রা (رضي الله عنه)বলেন,

 مَنْ صَلَّى فِىْ مَسَاجِدِ الْاَرْبَعَةِ غُفِرَلَهُ ذُنُوْبُهُ

যে ব্যক্তি চারটি মসজিদে নামায পড়বে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর এই চারটি মসজিদ হল ১. মসজিদে হারাম ২. মসজিদে নববী ৩. মসজিদে আকসা ও ৪. মসজিদে কুবা।

➥[৩৫] জযবুল কুলুব ইলা দিয়ারিল মাহবুব পৃ. ১৪১


হাফেয ইরাকী বলেন, মসজিদে কুবা যিয়ারত করা এবং তাতে নামায আদায় করা মুস্তাহাব আর শনিবারে যাওয়া সুন্নাত ইবনে ওমর (رضي الله عنه)’র হাদিস দ্বারা।

➥[৩৬] (আরবাউনা হাদিসান ফি ফাযায়েলিল মদীনাতিল মুনাওয়ারা পৃ. ৩৮)


উল্লেখ্য যে, মদীনার ফযিলত বর্ণনার মধ্যে মসজিদে কুবার ফযিলত এর কথা আসার কারণ হল মসজিদে কুবাটি মদীনায় অবস্থিত।

++++++++++
গ্রন্থ: চল্লিশ হাদিস দ্বারা মদীনা শরীফের ফযিলত
রচনায়: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি।
আরবী প্রভাষক,জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা,ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন