সহিহ হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন হাদিস ১/৪০


সহিহ হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন

হাদিস ১/৪০


عن أوس بن أوس، قال: قال رسو الله صلى الله عليه وسلم: «إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة، فيه خلق آدم، وفيه قبض، وفيه النفخة، وفيه الصعقة، فأكثروا على من الصلاة فيه، فإن صلاتكم معروضة علي» قال: قالوا: يا رسول الله، وكيف تعرض صلاتنا عليك وقد أرمت - يقولون: بليت -؟ فقال: «إن الله عز وجل حرم على الارض أجساد الأنبياء-


 وفي رواية : «إن الله عز وجل قد حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء-


رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه والدارمي واحمد وابن خزيمة وابن حبان.  وقال الحاكم : هذا حديث صحيح على شرط البخاري . وقال الوادياشي : صححه ابن حبان . | وقال العسقلانى : وصححه ابن خزيمة . وقال العجلونى : رواه البيهقي بإسناد جيد .


وقال ابن كثير: قد صحح هذا الحديث بن خزيمة وابن حبان ، والدار قطني ، والنووي فى الاذكار -



হযরত আউস ইবনু আউস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় তােমাদের দিনসমূহের মধ্য থেকে জুমুআর দিনই সর্বোত্তম। সেদিন হযরত আদম আলায়হিস্ সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সেদিনেই তিনি ওফাত বরণ করেছেন। সেদিনেই সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং সেদিনেই বিকট শব্দ প্রকাশিত হবে। অতএব সেদিনেই আমার উপর অধিকহারে দরূদ শরীফ প্রেরণ করো, কেননা তােমাদের দরূদ আমার উপর পেশ করা হয়। সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের দরূদ আপনার ওফাতের পর আপনার উপর কিরূপে পেশ করা হবে? আপনার বরকতপূর্ণ মােবারক দেহ কি মাটিতে মিশে যাবে না? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, (না, এরূপ নয়) আল্লাহ তা'আলা ভূমির জন্য সম্মানিত নবীগণের দেহ (খেয়ে ফেলা বা কোনরূপ ক্ষতিসাধাণ করা) কে হারাম করে দিয়েছেন।


অপর বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ আমাদের দেহকে খেয়ে ফেলা ভূমির উপর হারাম করে দিয়েছেন।


এ হাদিসকে ইমাম আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, দারেমী, আহমদ, ইবনু খুজায়মা এবং ইবনু হিব্বান বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম বলেন, এ হাদিস ইমাম বুখারীর শর্তাবলীর ভিত্তিতে সহীহ এবং ইমাম ওয়াদিয়াশীও বলেন ইহাকে ইমাম ইবনু হাব্বান সহীহ নির্ধারণ করেছেন এবং ইমাম আসক্বালানী বলেন, ইহাকে ইমাম ইবনু খুজায়মা সহীহ নির্ধারণ করেছেন। ইমাম আলুনী বলেন, ইহাকে ইমাম বায়হাক্বী উত্তম, মজবুত সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। আল্লামা ইবনু কাছির বলেন, ইহাকে ইমাম ইবনু খুজায়মা, ইবনু হিব্বান, দারুকুতনী এবং নববী ‘আল-আযকার’ এ সহীহ নির্ধারণ করেছেন।”


________________________________

ক. আবু দাউস : আস্ সুনান, কিতাবুস সালাত, ১/২৭৫, হাদিস :১০৪৭; এবং কিতাবুস সালাত, ২/৮৮, হাদিস : ১৫৩১; 

খ. নাসায়ী : আস্ সুনান, কিতাবুল জুমাআ', ৩/৯১, হাদিস : ১৩৭৪; এবং আস্ সুনানুল কুবারা, ১/৫১৯, হাদিস :১৬৬৬; 

গ. ইবনে মাজাহ : আস্ সুনান, কিতাবু ইকামাতিস সালাত, ১/৩৪৫, হাদিস :১০৮৫; 

ঘ. দারেমী : আস্ সুনান, ১/৪৪৫, হাদিস : ১৫৭২; 

ঙ. আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ, ৪/৮, হাদিস : ১৬২০৭; 

চ. আবূ শায়বা : আল মুসান্নাফ, ২/২৫৩, হাদিস : ৭৬৯৭; 

ছ. ইবনে খুযাইমা : আস্ সহীহ, ৩/১১৮, হাদিস : ১৭৩৩-১৭৩৪;

জ. ইবনে হিব্বান : আস্ সহীহ, ৩/১৯০, হাদিস : ৯১০;

ঝ. হাকেম: আল মুসতাদরাক, ১/৪১৩, হাদিস : ১০২৯;

ঞ. বাযযার: আল মুসনাদ, ৭/৪১১, হাদিস : ৩৪৮৫; 

ট. তাবরানী : আল মুজামুল আওসাত, ৫/৯৭, হাদিস : ৪৭৮০; এবং মু'জামুল কবীর, ১/২৬১, হাদিস : ৫৮৯;

ঠ. বায়হাকী : আস্ সুনানুস সুগরা, ১/৩৭১, হাদিস : ৬৩৪; আস্ সুনানুল কুবরা, ৩/২৪৮; হাদিস: ৫৭৮৯; শুআবুল ঈমান, ৩/১০৯, হাদিস : ৩০২৯; 

ঢ. দাহযামী : ফাদ্বলুস্ সালাতি আলান্ নবী, /৩৭, হাদিস : ২২;

ণ. ওয়াদীয়াশী: তুহফাতুল মুহতাজ, ১/৫২৪, হাদিস : ৬৬১;

ত. আসকালানী ; ফাতহুল বারী, ১১/৩৭০;

থ. আলযুনী : কাশফুল খিফা, ১/১৯০, হাদীস : ৫০১; 

দ. ইবনে কাসীর : তাফসীরু কুরআনিল আযীম, ৩/৫১৫;


হাদিস ২/৪০


وعن أبي الدرداء قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة ، فإنه مشهود تشهده الملائكة ، وإن أحدا لم يصل علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها " ، قال : قلت : وبعد الموت ؟ قال : " إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء ، فنبي الله حي يرزق " . رواه ابن ماجه . 


رواه ابن ماجه بإسناد صحيح . وقال المنذري : رواه ابن ماجه باسناد جيد . وقال المناوي قال الدميرى : رجاله ثقات. وقال العجلونى: حسن



হযরত আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমুআ'র দিন আমার উপর অধিকহারে দরূদ প্রেরণ কর। ইহা ইয়াউমে মশহুদ (অর্থাৎ আমার দরবারে ফেরেশতাদের বিশেষ হাজিরার দিন)। এদিন ফেরেশতাগণ (বিশেষ নিয়মে অধিকহারে আমার দরবারে) হাজির হন। যখন কোন ব্যক্তি আমার উপর দরূদ প্রেরণ করে তখন সে উহা থেকে ফ্রি হওয়া পর্যন্ত তার দরূদ আমার সামনে পেশ করে দেয়া হয়। হযরত আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, আমি আরজ করলাম (এয়া রাসূলাল্লাহ!) আর আপনার ওফাতের পর কিরূপ হবে? তিনি সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, হ্যাঁ (আমার উপরিদৃষ্টের) ওফাতের পরও (আমার সামনে এরূপে পেশ করা হবে কেননা) আল্লাহ্ তা'আলা ভূমির জন্য আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালাম এর দেহকে খেয়ে ফেলা হারাম করে দিয়েছেন। অতএব আল্লাহ্ তা'আলার নবী জীবিত হন এবং তাঁকে রিযিকও দেয়া হয়।


এ হাদিসকে ইমাম ইবনু মাজাহ্ সহীহ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুনযেরী বলেন, ইহাকে ইমাম ইবনু মাজাহ উত্তম-মজবুত সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুনাবী বর্ণনা করেন যে, ইমাম দমীরী বলেন, ইহার রাভীগণ নির্ভরযােগ্য। ইমাম আজলুনীও ইহাকে হাদীসে হাসান বলেছেন।”


________________________

ক. ইবনে মাজাহ : কিতাবুল জানাযা, ১/৫২৪, হাদিস : ১৬৩৭; :

খ. মুনজারী : আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব, ২/২২৮, হাদিস : ২৫৮২;

গ. ইবনে কাসীর : তফসীরু কুরআনিল আযীম, ৩/৫১৫, ৪/৪৯৩;

ঘ. মুনাবী : ফয়যুল কদীর, ২/৮৭;

ঙ. আযুলুনী : কাশফুল খিফা, ১/১৯০, হাদিস : ৫০১;


হাদিস ৩/৪০


عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ما من أحد يسلم على الا رد الله علي روحى حتى ارد عليه السلام -


رواه ابو داؤد والحمد والطبراني والبيهقي . وقال العسقلاني : رواه أبو داود ورواته ثقات، وقال الهيثمى : وفيه عبد الله بن يزيد الاسكندرانى ولم اعرفه ومهدى بن جعفر ثقه وبقية رجاله ثقات.



হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুজুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, (আমার উম্মতের মধ্য থেকে) কোন ব্যাক্তি এমন নয় যিনি আমার উপর সালাম প্রেরণ করে কিন্তু আল্লাহ আমার উপর আমার রূহ ফিরিয়ে দেন না, যে পর্যন্ত আমি (প্রত্যেক সালাম প্রেরণকারীর) সালামের উত্তর দান করি।


এ হাদিসকে ইমাম আবু দাউদ, আহমদ, তাবরানী এবং বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন। ইমাম আসক্বালানীও বলেন, ইহাকে ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং ইহার বর্ণনাকারী নির্ভরযােগ্য। ইমাম হায়ছমীও বলেন, ইহার সনদে আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াজিদ আল-ইস্কান্দারানী বর্ণনাকারীকে আমি চিনি না, যখন মাহদী ইবনু জাফর এবং অপরাপর সমস্ত বর্ণনাকারী নির্ভরযােগ্য।”


____________________________

ক. আবু দাউদ : আস্ সুনান, কিতাবুল মানাসিক, ২/২১৮, হাদিস : ২০৪১;

খ. আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ, ২/৫২৭, হাদিস : ১০৮৬৭; 

গ. তাবরানী : আল মু'জামুল আওসাত, ৩/২৬২, হাদিস : ৩০৯২, ৯৩২৯; 

ঘ. বয়েহাকী : আস্ সুনানুল কুবরা, ৫/২৪৫, হাদিস : ১০০৫০; শুআবুল ঈমান, য২/২১৭, হাদিস: ৫১৮১-৪১৬১; 

ঙ. ইবনে রাহবীয়া : আল মুসনাদ, ১/৪৫৩, হাদিস : ৫২৬;

চ. হায়ছুমী : মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১৬২; 


হাদিস ৪/৪০


عن أنس بن مالك، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " أتيت - وفي رواية هداب: مررت - على موسى ليلة أسري بي عند الكثيب الآحمر، وهو قائم يصلي في قبره -


رواه مسلم والنساءى،


হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি মেরাজের রাতে হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম এর নিকট আসলাম (হাদ্দার এর এক বর্ণনা মতে) লাল টিলার পাশ দিয়ে আমার গমন হলাে (তখন আমি দেখলাম যে,) হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম নিজ কবরে দণ্ডয়মান অবস্থায় নামাযরত ছিলেন।


এ হাদিসকে ইমাম মুসলিম, নাসাঈ, আহমদ এবং ইবনু আবি শায়বাহ্ বর্ণনা করেছেন।


_________________________

ক. মুসলিম : আস সহীহ, কিতাবুল ফাযায়েল, ৪/১৮৪৫, হাদিস :২৩৭৫;

খ. নাসায়ী :  আস্ সুনান, কিতাবু কিয়ামিল লাইয়লি ওয়া তাত্বাওউয়িন নাহারি, ৩/২১৫, হাদিস : ১৬১-১৬৩২; আস্ সুনানুল কুবরা, ১/৪১৯, হাদিস : ১৩২৮; 


হাদিস ৫/৪০


عن أنس بن مالك، قال شول الله صلى الله عليه وسلم: «الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون -


 رواه أبو يعلي ورجاله ثقات وابن عدي والبيهقي والديلمي . وقال ابن  عدى : وارجوا انه لا بأس به . وقال الهيثمي : رجال ابي يعلي ثقات . وقال الشوكاني : فقد صححه البيهقي والف في ذالك جزاء . وقال الزرقاني : وجمع البيهقي كتابا لطيفا في حياة الأنبياء وروي فيه بإسناد صحيح عن أنس رضي الله تعالي عنه مرفوعا ،



হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস্ সালাম নিজ নিজ কবরে জীবিত আছেন এবং নামাযও পড়েন।


এ হাদিসকে ইমাম আবু ইয়ালা, ইবনু ‘আদী, বায়হাক্বী এবং দায়লামী নির্ভরযােগ্য বর্ণনাকারীগণ থেকে বয়ান করেন এবং ইমাম ইবনু ‘আদী বলেন, এ হাদিসের সনদে কোন ত্রুটি নেই। ইমাম হায়ছমীও বলেন, ইমাম আবু ইয়ালার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযােগ্য এবং আল্লামা শওকানী বলেন, ইহাকে ইমাম বায়হাক্বী সহহী নির্ধারণ করেছেন এবং আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালামের জীবনের উপর তিনি একটি জুম্ (সহীহ হাদিসসমূহের সংক্ষিপ্ত কিতাব) সংকলন করেছেন। এরূপে ইমাম জুরানীও বলেন যে, ইমাম বায়হাক্বী আম্বিয়া আলায়হিমুস্ সালাম-এর জীবনের উপর একটি নিতান্ত সূক্ষ কিতাব সংকলন করেছেন। যার মধ্যে হযরত আনাস্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর মরফু বর্ণনাসমূহ সহীহ সনদ সহকারে বয়ান করেছেন।


_________________________

ক. আবু ইয়ালা : আল মুসনাদ, ৬/১৪৭, হাদিস : ৩৪২৫;

খ. ইবনে আদী : আল কামেল, ২/৩২৭, হাদিস : ৪৬০;

গ. দায়লামী : মুসনাদুল ফিরদাউস, ১/১১৯, হাদিস : ৪০৩;

ঘ. আসকালানী : ফতহুল বারী, ৬/৪৮৭; লিসানুল মিযান, ২/১৭৫, ২৪৬, হাদিস : ৭৮৭, ১০৩৩;

ঙ. হায়ছামী : মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৮/২১১;

চ. সুয়ূতী : শরহু আলা সুনানিন নাসায়ী, ৪/১১০;

ছ. আযীমাবাদী : আওনুল মা'বুদ, ৬/১৯; তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি 'আল ইনতিবাহিল আযকিয়া বি হায়াতি আম্বিয়া' নামে পুস্তক রচনা করেছি। 

জ. মানাভী : ফয়যুল কাদীর

ঝ. শাওকানী : নায়লুল আওতার, ৫/১৭৮; 

ঞ. যুরকানী : শরহু আল মুয়াত্তয়ি লিল ইমামিল মালেক, ৪/৩৫৭;


হাদিস ৬/৪০


عن أنس بن مالك: قال النبي صلى الله عليه وسلم: " ففرض الله عز وجل على أمتي خمسين صلاة فرجعت بذلك حتى مررت على موسى فقال : ما فرض الله لك على أمتك ؟ قلت : فرض خمسين صلاة ، قال : فارجع إلى ربك فإن أمتك لا تطيق ذلك ، فراجعت فوضع شطرها ، فرجعت إلى موسى ، قلت : وضع شطرها ، فقال : راجع ربك فإن أمتك لا تطيق ، فراجعت فوضع شطرها ، فرجعت إليه ، فقال : ارجع إلى ربك فإن أمتك لا تطيق ذلك ، فراجعته ، فقال : هي خمس ، وهي خمسون ، لا يبدل القول لدي ، فرجعت إلى موسى ، فقال : راجع ربك ، فقلت : استحييت من ربي، حتى انتهى بي إلى سدرة المنتهى، وغشيها ألوان لا أدري ما هي؟ ثم أدخلت الجنة، فإذا فيها حبايل اللؤلؤ واذا ترابها المسك - متفق عليه



হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বয়ান করেন যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মে’রাজ এর রাত্রি) আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ রাকাত নামায ফরজ করলেন, তখন আমি ঐ (নামায)গুলােকে নিয়ে ফিরে আসি। এ পর্যন্ত যে আমি মূসা আলায়হিস সালাম এর পাশ দিয়ে চললাম তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ তা'আলা আপনার উম্মতের জন্য আপনার উপর কি ফরজ করেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ তা'আলা পঞ্চাশ রাকাত নামায ফরজ করেছেন। তিনি বললেন, আপনি রবের দিকে ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মত ইহা (আদায়) এর শক্তি রাখেনা। তখন তিনি আমাকে ফিরায়ে দিলেন। (আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে) আল্লাহ তা'আলা উহার একভাগ কমিয়ে দিলেন।


আমি হযরত মূসা আলায়হিস্সালামের নিকট ফিরে আসলাম এবং বললাম যে, আল্লাহ তা'আলা একভাগ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট পুনরায় গমন করুন, কেননা আপনার উম্মতের মধ্যে ইহা (আদায়) এর শক্তিও নেই। তারপর আমি ফিরে গেলাম তখন আল্লাহ তা'আলা আরও একভাগ কমিয়ে দিলেন। আমি তাঁর নিকট এলাম। তিনি আবারও বললেন, আপনার রবের নিকট যান, কেননা আপনার উম্মতের মধ্যে ইহা আদায়েরও শক্তি নেই। আমি ফিরে গেলাম তখন (আল্লাহ্ তা'আলা) বললেন, এই (হল যে) পাঁচ (নামায) কিন্তু (পুণ্যের হিসেবে) পঞ্চাশ (এর বরাবর), আমার নিকট নির্দেশাবলী পরিবর্তিত হয় না।


আমি হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম এর নিকট আসলাম তখন তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট যান (আরও বেশী করে কমিয়ে দেয়ার আবেদন করুন)! আমি বললাম, এখন আমার রবের নিকট আমার লজ্জাবােধ হচ্ছে। অতঃপর (জিব্রাঈল আলায়হিস সালাম) আমাকে নিয়ে চললেন, শেষ পর্যন্ত সিদরাতুল মুনতাহার উপর পৌছলেন, যাকে বিচিত্র রঙে আবৃত করে রেখেছে, জানিনা উহা কি? অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করা হলাে যেখানে মুক্তার হারসমূহ রয়েছে এবং উহার মাটি যেন মেশক (এর ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত)। 


এ হাদিস মুত্তাফাকুন আলায়হি।


_______________________

ক. বুখারী : আস্ সহীহ, কিতাবুস্ সালাত, ১/১৩৬, হাদিস : ৩৪২; কিতাবুল আম্বিয়া, হাদিস : ৩১৬৪;

খ. মুসলিম : আস্ সহীহ, কিতাবুল ঈমান,১/১৪৮, হাদিস : ১৬৩;


হাদিস ৭/৪০


عين الزهري، قال: أخبرني سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ليلة أسري به : " لقيت موسى، قال: فتعته، فإذا رجل حسبته قال – مضطرب رجل الرأس، گانه من رجال شنوءة، قال: ولقيت عیسی فنعته النبي صلى الله عليه وسلم فقال: - ربعه أحمر، كانما خرج من دیماس - يعني الحمام -،  ورايت إبراهيم وأنا أشبه ولده به،- متفق عليه. 



হরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুজুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, মেরাজের রাত্রি হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামের সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। হাদিস বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামের গুণ এরপ বর্ণনা করলেন, তিনি হালকা-পাতলা, দীর্ঘকায় এলােমেলাে চুলবিশিষ্ট। তিনি শানুয়াহ গােত্রের লােক সাদৃশ্য। হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালামের সাথেও আমার সাক্ষাৎ হলাে, তখন হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভূষণ এর বর্ণনা দিলেন যে, তিনি মধ্যম কায়বিশিষ্ট লাল বর্ণওয়ালা (এবং এমন হৃষ্টপুষ্ট) যেন এখনই হাম্মাম থেকে (গােসল সেরে) বের হয়েছেন এবং আমি হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম এর সাথেও সাক্ষাৎ করেছি এবং আমি তাঁর সকল আওলাদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক তাঁর সাদৃশ্যপূর্ণ হই।


এ হাদিস মুত্তাফাকুন আলায়হি।


________________________

ক. বুখারী : আস সহীহ, কিতাবুল আম্বিয়া, ৩/১২৬৯, হাদিস : ৩২৫৪

খ. মুসলিম : আস সহীহ, কিতাবুল ঈমান, ১/১৫৪, হাদিস : ১৬৮


হাদিস ৮/৪০


عن عطاء ، مؤلى أم حبيبة قال : سمعت أبا هريرة ، يقول : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ليهبطن عيسى ابن مريم حكما عدلا ، وإماما مقسطا وليسلكن فجا حجا، أو معتمرا أو نبيتهما وليأتين قبري حتى يسلم ولاردن عليه يقول أبو هريرة : أي بني اخي إن رأيتموه فقولوا : أبو هريرة يقرئك السلام. 


رواه الحاكم وابن عساكر وقال : هذا حديث صحيه الإسناد ،



হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুযূর নবী আকরম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, হযরত ঈসা ইবনু মরইয়ম আলায়হিস সালাম ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী হুকুমদাতা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী নেতা হিসাবে নিশ্চয় অবতীর্ণ হবেন, তিনি অবিলম্বে হজ্ব বা ওমরা অথবা উভয়টির নিয়তে বের হবেন এবং নিশ্চয় তিনি আমার কবরে আসবেন এবং আমাকে সালাম দেবেন আর আমি নিশ্চয় তাকে উত্তর দেব। হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (বর্ণনাকারীকে) বললেন, হে আমার ভাতিজা! যদি আপনি তার জেয়ারতের ভাগ্য হাসিল করেন, তখন তাঁর নিকট আরজ করবেন যে, আবু হুরায়রা আপনার খেদমতে সালাম পেশ করেছেন।


এ হাদিসকে ইমাম হাকেম, ইবনু আসাকের এবং মুত্তাকী হিন্দী বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম বলেন, ইহা সহীহ সনদ বিশিষ্ট হাদিস।


________________________

ক. হাকেম। : আল মুসতাদরাক, ২/৬৫১, হাদিস : ৪১৬২;

খ. ইবনে আসকীর : তারিখে মাদীনা-এ দামেস্ক, ৪৭/৪৯৩; গ. হিন্দী : কানযুল উম্মাল, ১৪/১৪৬, হাদিস : ৩৮৮৫১;


হাদিস ৯/৪০


عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقد رأيتنى في الحجر وقريش تسألني عن مسراي، فسألتني عن أشياء من بيت المقدس لم أثبتها، فگربت كربة ما كربت مثله قط، قال فرفعه الله لي أنظر إليه، ما يسألوني عن شيء إلا أنبأتهم به، ممثله قط»،  وقد رأيت في جماعة من الأنبياء، فإذا موسی قائم يصلي، فإذا رجل ضرب، جعد گانه من رجال شنوءة، وإذا عیسی ابن مريم عليه السلام قائم يصلي، أقرب الناس به شبها غروة بن مسعود الثقفي، وإذا إبراهيم عليه السلام قائم يصلي، أشبه الناس به صاحبگم - يعنى نفسه - 


فحانت الصلاة فأمتهم، فلما فرغت من الصلاۃ قال قائل: يا محمد، هذا مالك صاحب النار، فسلم عليه، فالتفت إليه، فبدأني بالسلام " رواه مسلم والنسائي ، 



হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মে'রাজের রাতে) আমি নিজেকে হাতীমে কা'বায় পেলাম এবং কোরাইশগণ মে’রাজের সফর প্রসঙ্গে আমার নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন, তাঁরা বায়তুল মুকাদ্দিছ এর কিছু বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলেন, যেগুলাে আমি (স্মৃতিপটে) সংরক্ষিত রাখিনি, যদ্বারা আমি এত অস্বস্থিবােধ করেছি যে, ইতােপূর্বে কখনাে এত অস্বস্থিবােধ করিনি। তখন আল্লাহ তা'আলা বায়তুল মুকাদ্দিছকে উঠিয়ে নিয়ে আমার সামনে রেখে দিলেন, তাঁরা বায়তুল মুকাদ্দিছ প্রসঙ্গে যা কিছু জিজ্ঞাসা করেন (দেখে দেখে) তাদেরকে বলে দিতে লাগলাম। এবং আমি নিজকে নবীদের একটি দলের অন্তর্ভুক্ত পেলাম। আমি দেখলাম হযরত মূসা আলায়হিস সালাম দণ্ডয়মান অবস্থায় নামাযরত আছেন। এবং তিনি শানুয়াহ গােত্রের লােকদের ন্যায় এলােমেলাে চুলওয়ালা ছিলেন। অতঃপর ঈসা ইবনু মরইয়ম আলায়হিমাস সালামও দন্ডয়মান অবস্থায় নামাজরত ছিলেন এবং উ’রওয়া ইবনু মাসউদ ছাক্বাফী তাঁর সাদৃশ্য ছিলেন। অতঃপর হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম দণ্ডয়মান অবস্থায় নামাযরত ছিলেন। এবং আপনাদের সর্দার (অর্থাৎ স্বয়ং হুযূর নবী আকরম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথে সবচেয়ে বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন এবং আমি সেসব নবী আলায়হিমুস্ সালামের ইমামতী করলাম। যখন নামায থেকে অবসর হলাম একজন প্রবক্তা আমাকে বললেন, ইনি মালিক যিনি জাহান্নামের দারােগা। তাঁকে সালাম দিন, তখন আমি তার অভিমুখী হলাম তখন তিনি (আমার) আগে আমাকে সালাম করলেন।


ইহাকে ইমাম মুসলিম এবং নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।


________________________

ক. মুসলিম : আস্ সহীহ, কিতাবুল ঈমান, ১/১৫৬, হাদিস : ১৭৮;

খ. নাসায়ী : আস্ সুনানুল কুবারা, ৬/৪৫৫, হাদিস : ১১৪৮০;


হাদিস ১০/৪০


عن أبي سعيد الخدري، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول وهو يصف يوسف حين راه في الشماء الثالثة، قال: " رايت صورته كصورة القمر ليلة البدر، فقلت: يا جبريل من هذا؟ قال: هذا اخوك يوف " قال ابن إسحاق: وكان الله قد أعطى يوسف من الحسن والهيبة ما  لم يعطه أحدا من العالمين قبله، ولا بعده حتی کان يقال: والله أعلم إنه أعطي نصف الحسن و وابن قتيبة وقسم النصف الأخر بين الناس،


 رواه الحاكم وابن قتيبة -



হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বয়ান করেন যে, আমি হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনলাম, সে সময় তিনি হযরত ইউসুফ আলায়হিস সালাম এর গুণাবলী বয়ান করতে ছিলেন। যখন হুযুর সহ তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (মে’রাজের রাতে) তৃতীয় আসমানে দেখলেন, হযরত সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখলাম যার আকৃতি চৌদ্দ তারিখের চাদের ন্যায় ছিল। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিব্রাঈল! ইনি কে? তিনি আরজ করলেন, ইনি আপনার ভাই হযরত ইউসুফ আলায়হিস্ সালাম। ইবনু ইসহাক বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইউসুফ আলায়হিস্ সালামকে ঐ সৌন্দর্য ও প্রভাব দান করে ছিলেন যা সারাজগতে তার আগে বা পরে কাউকে দান করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বলা যেত যে, আল্লাহর শপথ আমি ইহাই জানি যে, হযরত ইউসুফ আলায়হিস সালামকে পূর্ণ সৌন্দর্যের অর্ধাংশ এবং অপর অর্ধাংশ (সারা দুনিয়ার) লােকদেরকে দেয়া হলাে। 


এ হাদিসকে ইমাম হাকেম এবং ইবনু কুতায়বাহ্ বর্ণনা করেছেন।


____________________

ক. হাকেম : আল মুসতাদরাক, ২/৬২৩

খ. ইবনু কুতাইবা : তাবীলু মুখতালাফিল হাদিস, ১/৩২১

__________________

হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর পরকালীন জীবন

মূলঃ শায়খুল ইসলাম ড. মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদঃ মাওলানা মুহাম্মদ মুজাফ্ফর আহমদ

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন