নামাযের মধ্যে মুক্বতাদীর নিশ্চুপ থাকা ওয়াজিব


ইমামের পেছনে ক্বিরআত'র আলোচনাঃ 


□ ইল্লা-বিফা-তিহাতিল কিতাব'র ব্যাখ্যাবলীর বিন্যাসঃ


□ নামাযের মধ্যে মুক্বতাদীর নিশ্চুপ থাকা ওয়াজিবঃ


__________


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৭৯৫)]


○ অধ্যায়ঃ [নামাযের ক্বিরআত]



[ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺑﻦ ﺍﻟﺼﺎﻣﺖ ﻗﺎﻝ ﻛﻨﺎ ﺧﻠﻒ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﷺ ﻓﻰ ﺻﻠﻮﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﻘﺮﺃ ﻓﺜﻘﻠﺖ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻘﺮﺃﺓ ﻓﻠﻤﺎ ﻓﺮﻍ ﻗﺎﻝ ﻟﻌﻠﻜﻢ ﺗﻘﺮﺅﻥ ﺧﻠﻒ ﺍﻣﺎﻣﻜﻢ ﻗﻠﻨﺎ ﻧﻌﻢ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻻ ﺗﻔﻌﻠﻮﺍ ﺍﻻ ﺑﻔﺎﺗﺤﺔ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻓﺎﻧﻪ ﻻ ﺻﻠﻮﺓ ﻟﻤﻦ ﻟﻢ ﻳﻘﺮﺃ ﺑﻬﺎ - ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻰ ﻣﻌﻨﺎﻩ ﻭﻓﻰ ﺭﻭﺍﻳﺔ ﻻﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ ﻗﺎﻝ ﻭﺍﻧﺎ ﺍﻗﻮﻝ ﻣﺎﻟﻰ ﻳﻨﺎﺯﻋﻨﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺍﻥ ﻓﻼ ﺗﻘﺮﺀﻭﺍ ﻭﺑﺸﻰﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺍﺫﺍ ﺟﻬﺮﺕ ﺍﻻ ﺑﺎﻡ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ .]


হযরত ওবাদাহ্ ইবনে সামিত [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ফজরে হুযূর [ﷺ]-এর পেছনে ছিলাম। তিনি ক্বিরআত সম্পন্ন কররেন; তাঁর নিকট ক্বির'আত ভারী হলো। যখন নামায সমাপ্ত করলেন, হয়তো তোমরা তোমাদের ইমামের পেছনে তিলাওয়াত করে থাকো!" আমরা বললাম, "হাঁ! হে আল্লাহ্'র রাসূল!" (টীকাঃ ১)তিনি এরশাদ করলেন, "সূরা ফাতিহা ছাড়া কিছু পাঠ করো না। কেননা, যে সূরা ফাতিহা পড়ে না তার নামায হয় না।" (টীকাঃ ২)


[আবূ দাঊদ ও তিরমিযী] নাসাঈ সেটার সমার্থ বর্ণনা করেছেন।


আবূ দাঊদ-এর অপর এক বর্ণনায় আছে, হুযূর এরশাদ করেছেন, 'আমি অন্তরে চিন্তা করছিলাম যে, আমার নিকট ক্বোরআন কেন ভারী বোধ হচ্ছিলো? সুতরাং যখন আমি উচ্চ রবে ক্বিরআত সম্পন্ন করি, তখন 'আলহামদু' (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত অন্য কিছু তিলাওয়াত করো না।" (টীকাঃ ৩)


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___________________________________


◇ টীকাঃ ১.


বুঝা গেলো যে, মুক্বতাদীর ভুল-ত্রুটির প্রভাব ইমামের উপর পড়ে। দেখুন মুক্বতাদীরা মনে মনে হুযূর [ﷺ] -এর পেছনে ক্বির'আত সম্পন্ন করেছেনন, যার প্রভাব এ হলো যে, হুযূরের ক্বির'আত ভারী বোধ হয়েছিলো, যেমনিভাবে যদি মুক্বতাদীর পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ না হয়, তবে ইমামের লোক্বমা লেগে থাকে।


◇ টীকাঃ ২.


এ হাদীস ওইসব হযরতের পক্ষে দলীল, যাঁরা ইমামের পেছনে ক্বিরআতের পক্ষপাতী। কারণ, এতে সুস্পষ্টভাবে মুক্বতাদীগণকে ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এ মাসআলায় নিন্মলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয়ঃ


প্রথমতঃ


এ হাদীস হযরত আবূ হোরায়রা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]'র বর্ণিত হাদীসের বিপরীত, যা এখনই এটার পর আসছে। যার মধ্যে উচ্চস্বরে ক্বিরআত পড়তে হয় এমন নামাযগুলোতে মুক্বতাদীকে কোন প্রকার ক্বিরআত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে।


দ্বিতীয়তঃ


এ হাদীস হযরত জাবির, আলক্বামাহ্, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস'ঊদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, যায়দ ইবনে সবিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আলী, আলী মুরত্বাদা এবং হযরত ওমর [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ] প্রমুখের বর্ণিত ওই হাদীসের বিরোধী, যার মধ্যে (ক্বিরআতের সময়) ইমামের পেছনে একেবারে নিশ্চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তৃতীয়তঃ


এ হাদীস ক্বোরআনের বর্ণিত বিধানেরও বিপরীত। আল্লাহ্ তা'আলা এরশাদ করেন-


[ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗُﺮِﺉَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻓَﺎﺳْﺘَﻤِﻌُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻭَﺃَﻧﺼِﺘُﻮﺍ]


(অর্থাৎ আর যখন ক্বোরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনযোগ সহকারে সেটা শ্রবণ করো এবং নিশ্চুপ থাকো। ৭ঃ২০৪)


চতুর্থতঃ এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেছেন যে, অধিক সহীহ (বিশুদ্ধ) অভিমত হচ্ছে- তাতে শুধু এতোটুকু রয়েছে-


[ﻻ ﺻﻠﻮﺓ ﻟﻤﻦ ﻟﻢ ﻳﻘﺮﺃ ﺑﻔﺎﺗﺤﺔ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ]


(অর্থাৎ যে সূরা ফাতিহা পড়েনি তার নামায নেই।)


সুতরাং এখানে 'মুক্বতাদী'র উল্লেখ নেই। তাই এ হাদীস শরীফ অনুসারে আমল করা যাবে না; অথবা 'মানসুখ' বা রহিত।


◇ টীকাঃ ৩.


এ শব্দগুলো বাহ্যতঃ আমাদের বিরোধীদেরও বিপরীত। কেননা, এটার অর্থ এ যে, উচ্চস্বরে ক্বির'আত করা হয় এমন নামাযে আমার পেছনে শুধু 'আলহামদু' পাঠ করো আর নিন্মস্বরে পড়তে হয় এমন নামাযে 'আলহামদু' ও সূরা উভয়ই পাঠ করো; অথচ তাঁরাও মুক্বতাদীদেরকে সূরা পড়ার অনুমতি দেন না।


facebook.com/SunniAqidah


□ হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. (৬৩-৬৪), হাদীস নং-৭৯৫ এর টীকাঃ (৭১-৭৩) দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন