নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৬১]

○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]



হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,


রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ


[ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻋﺸﺮﺍ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ )]


"যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরুদ পড়লো, তার প্রতি আল্লাহ্ দশটি রহমত বর্ষণ করবেন।"(টীকাঃ ১.) [মুসলিম]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখাঃ


_______


◇ টীকাঃ ১.


এ হাদীসের সমর্থন ক্বোরআন-ই করীমের নিন্মোক্ত আয়াত করে থাকে-


[ﻣَﻦ ﺟَﺎﺀَ ﺑِﺎﻟْﺤَﺴَﻨَﺔِ ﻓَﻠَﻪُ ﻋَﺸْﺮُ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ]


(অর্থাৎঃ যে কেউ একটা সৎকর্ম করবে তার জন্য তদনুরূপ দশগুণ রয়েছে। ৬:১৬০)


ইসলামে একটি পূণ্যের বিনিময় কমপক্ষে দশ(১০)গুণ। স্মর্তব্য যে, বান্দা নিজের যোগ্যতানুসারে দুরুদ শরীফ পাঠ করে; কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা আপন মর্যাদা অনুসারে তার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যা বান্দার ধারণা ও চিন্তার অতীত।


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. ১০৭, হাদীস নং-৮৬১ এর টীকাঃ ১২ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।]



❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৬২]



○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]



হযরত আনাস [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,


রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ


[ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ‏[ﷺ ‏] ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻋﺸﺮ ﺻﻠﻮﺍﺕ ﻭﺣﻄﺖ ﻋﻨﻪ ﻋﺸﺮ ﺧﻄﻴﺎﺕ ﻭﺭﻓﻌﺖ ﻟﻪ ﻋﺸﺮ ﺩﺭﺟﺎﺕ -. ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺂﺋﻰ )]


"যে কেউ আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তার প্রতি দশটি রহমত (বর্ষণ) করবেন আর দশটি গুনাহ্ মার্জনা করা হবে এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে।"(টীকাঃ ১.) [নাসাঈ]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখাঃ


_______


◇ টীকাঃ ১.


অর্থাৎ একটি দুরুদের মধ্যে তিন(০৩)টি উপকারিতা নিহিত রয়েছে।


যথাঃ দশ(১০)টি রহমত, দশ(১০)টি গুনাহ্'র মার্জনা এবং দশ(১০)টি মর্যাদা বুলন্দ করা।


ওই ব্যক্তিই ভাগ্যবান, যাঁর রসনা প্রতিনিয়ত দুরুদ শরীফের সাথে মিলতে থাকে। দুরুদ শরীফ প্রত্যেক দো'আ ক্ববূল হওয়ার পূর্বশর্ত।


● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. (১০৭-১০৮)হাদীস নং-৮৬২ এর টীকাঃ ১৩ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম]



❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৬৩]


○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]


হযরত ইবনে মাসঊদ [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,


রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ


[ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ‏[ﷺ ‏] ﺍﻭﻟﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﻤﺔ ﺍﻛﺜﺮﻫﻢ ﻋﻠﻰ ﺻﻠﻮﺓ . - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ )]


অর্থাৎ "ক্বিয়ামত-দিবসে আমার অতি নিকটতম সেই হবে, যে আমার উপর বেশী পরিমাণে দুরুদ শরীফ পাঠ করবে।" (টীকাঃ ১) [তিরমিযী]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখাঃ


_______


◇ টীকাঃ ১.


ক্বিয়ামত দিবসে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী শান্তিতে থাকবে, যে হুযূরের সাথে থাকবে। আর হুযূরের সাথে থাকার সৌভাগ্য অর্জনের মাধ্যম হলো দুরুদ শরীফ বেশী করে পাঠ করা।


এতে প্রতীয়মান হয় যে, দুরুদ শরীফ সর্বোত্তম পুণ্যকর্ম; কারণ সমস্ত পুণ্যকর্ম দ্বারা জান্নাত লাভ হয়, আর এটা দ্বারা জান্নাতের দুলহা হুযূর [ﷺ] কে পাওয়া যায়।


● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২য় খন্ড, পৃ. (১০৭-১০৮), হাদীস নং-৮৬৩ এর টীকাঃ ১৪ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।



□ হুযূর [ﷺ] দূরবর্তী ও নিকটবর্তী সব জায়গা থেকে শুনেনঃ


_______


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৬৪]



○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]


তাঁরই (হযরত ইবনে মাসঊদ [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,


রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ


[ﻭﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﺍﻥ ﻟﻠﻪ ﻣﻼﺋﻜﺔ ﺳﻴﺎﺣﻴﻦ ﻓﻰ ﺍﻷﺭﺽ ﻳﺒﻠﻐﻮﻧﻰ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻰ ﺍﻟﺴﻼﻡ ‏] . - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺂﺋﻰ ﻭﺍﻟﺪﺍﺭﻣﻰ )


অর্থাৎ "আল্লাহর কিছু সংখ্যক ফিরিশতা ভূ-পৃষ্ঠে ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছে, যারা আমার উম্মতের সালাম আমার নিকট পৌঁছায়।" (টীকাঃ ১) [নাসাঈ, দারেমী]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


◇ টীকাঃ ১.


অর্থাৎ এসব ফিরিশতার ডিউটি হচ্ছে এ যে, তাঁরা হুযূরের আস্তানা-ই আলীয়ায় উম্মতের সালাম পৌঁছাতে থাকেন।


এখানে কিছু কথা স্মরণ রাখা দরকার যে, প্রথমতঃ ফিরিশতা কর্তৃক দুরুদ শরীফ প্রেরণ করায় এটা অনিবার্য হয় না যে, হুযূর স্বয়ং প্রত্যেকের দুরুদ শরীফ শুনছেন না; সঠিক অভিমত হচ্ছে সরকার-ই দু'আলম প্রত্যেক নিকট ও দূরবর্তী দুরুদ শরীফ পাঠকদের দুরুদ শরীফ শুনছেনও, দুরুদ শরীফ পাঠকদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য ফিরিশতারাও তাঁর পবিত্র দরবারে দুরুদ শরীফ পৌঁছিয়ে দেন, যাতে দুরুদ শরীফের বরকতে আমরা গুনাহগারদের নাম হুযূরের মহান দরবারে ফিরিশতার মুখে উচ্চারিত হয়।


হযরত সুলাইমান [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] তিন(০৩) মাইল দূর থেকে যদি ছোট্ট পিপীলিকার শব্দ শুনে থাকেন, তবে হুযূর আমরা পাপীদের প্রার্থনা শুনবেন না কেন? দেখুন, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের কৃতকর্মসমূহ দেখছেন, এতদসত্ত্বেও তাঁর সমীপে ফিরিশতারা আমলসমূহ পেশ করছেন।


দ্বিতীয়তঃ


এসব ফিরিশতা এতো দ্রুতগামী যে, এদিকে উম্মতের মুখে দুরুদ শরীফ উচ্চারিত হয়, ওদিকে তাঁরা হুযূরের সবুজ গম্বুজে তা পেশ করেন। যদি কেউ কোন মজলিসে হাজার বার দুরুদ শরীফ পাঠ করে, তবে এ ফিরিশতা তার ও মদীনা তাইয়্যেবাহ্'র মধ্যে হাজার বার গমনাগমন করবেন। এটা নয় যে, সারা দিনের দুরুদ শরীফ থলের মধ্যে পুরে নিয়ে ডাক পিয়নের মতো বিকেলে সেখানে পৌঁছাবেন; যেমনটি এ যুগের কিছু মূর্খ লোক মনে করে থাকে।


তৃতীয়তঃ


আল্লাহ তা'আলা ফিরিশতাদেরকে হুযূর-ই আনওয়ারের পবিত্র দরবারের খিদমতগার করেছেন। হুযূর-ই আনওয়ারের খিদমতগারগণ এ ফিরিশতাদের সমান মর্যাদা রাখেন।


● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী (রহ.)]

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন