বাতিলপন্থীদের একটি ধোঁকাঃ বাতিলপন্থীদের দাবি হল ইমাম সাখাভী (রহ) হযরত আবু বকর (রা) এর বর্ণিত হাদিসটি সংকলন করে বলেন, لا يصح ‘হাদিসটি সহিহ নয়।’
🔺(ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ১/৩৮৪ : হাদিস : ১০২১)
সমস্ত মুহাদ্দিসগণ একমত যে হাদিসটি ‘সহিহ নয়’ শব্দ দ্বারা হাদিসটি ‘হাসান’ বুঝায়। আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) বলেন-
وَقَالَ ابْنُ الْهَمَّامِ: وَقَوْلُ مَنْ يَقُولُ فِي حَدِيثٍ أَنَّهُ لَمْ يَصِحَّ إِنْ سَلِمَ لَمْ يُقْدَحْ ; لِأَنَّ الْحُجَّةَ لَا تَتَوَقَّفُ عَلَى الصِّحَّةِ، بَلِ الْحَسَنُ كَافٍ،– فصل الثانى من باب: ما يجوز من العمل فى الصلاة.
-‘‘ইমাম কামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন হুমাম (রহ) বলেন : কোন হাদিস সম্পর্কে কোন মুহাদ্দিস যদি বলেন যে এ হাদিসটি সহিহ (বিশুদ্ধ) নয়, তাদের কথা সত্য বলে মান্য করা হলেও কোন অসুবিধা নেই, যেহেতু (শরীয়তের) দলীল বা প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শুধু (হাদিস) সহিহ বা বিশুদ্ধ হওয়া নির্ভরশীল নয়। সনদ বা সূত্রের দিক দিয়ে ‘হাসান’ হলেও (হাদিসটি শরীয়তের দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার জন্য) যথেষ্ট।’’
🔺(আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : মিরকাত : ৩/৭৭পৃ, হাদিস : ১০৮, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন)
আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (রহ) তার কিতাবে লিখেন-
وَقَول أَحْمد إِنَّه حَدِيث لَا يَصح أَي لذاته فَلَا يَنْفِي كَونه حسنا لغيره وَالْحسن لغيره يحْتَج بِهِ كَمَا بَين فِي علم الحَدِيث - (الصواعق المحرقة على أهل الرفض والضلال والزندقة: خاتمة الفصل الاول من الباب: الحادى عشر:২২৮)
-‘‘ইমাম ইবনে হাজর মক্কী (রহ) বলেন, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ)‘র একটি হাদিস প্রসঙ্গে বক্তব্য হাদিসটি لا يصحবিশুদ্ধ নয় এর অর্থ হবে সহিহ লিজাতিহী তথা জাতি বা প্রকৃত অর্থে সহিহ নয় উক্ত হাদিসটি (সনদের দিক দিয়ে) হাসান লিজাতিহী বা অন্য সনদে হাসান লিগায়রিহী (জাতিগত সহিহ না হওয়া; সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সহিহ’র কারণে নিজে সহিহ হওয়া।) হওয়াকে মানা (নিষেধ) করে না। আর হাসান লিগায়রিহীও (শরিয়তের) প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। যা ইলমে হাদিস তথা হাদিসশাস্ত্র হতে জানা যায়।’’
🔺(ইবনে হাজার মক্কী : আস-সাওয়ায়েকুল মুহরিকা, ২য় খন্ড, পৃ-৫৩৬, মুয়াস্সাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবানন)
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) তাঁর গ্রন্থে ইমাম সাখাভী (رحمة الله)‘র রায় পেশ করে সমাধানের কথা বলেন যে-
قُلْتُ وَإِذَا ثَبَتَ رَفْعُهُ عَلَى الصَّدِّيقِ فَيَكْفِي الْعَمَلُ بِهِ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسِنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِين من بعدى-
-‘‘আমার কথা হলো হাদিসটির সনদ যেহেতু হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) পর্যন্ত প্রসারিত (মারফূ হিসেবে প্রমাণিত), সেহেতু আমলের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। কেননা হুযুর (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
🔺( ক. ইমাম আবু দাউদ : আস্-সুনান : হাদিস : ৪৬০৭, হযরত উমর (رضي الله عنه) এর সূত্রে, তিরমিযী : আস্-সুনান : হাদিস : ২৬৭৬, ইবনে মাজাহ : আস্-সুনান : হাদিস : ৪২, ইমাম ইবনুল বার্ : জামিউল বায়ান ওয়াল ইলমে বি ফাদ্বলিহী : ২/৯০ পৃ. ইমাম আহমদ : আল মুসনাদ : ৪/১২৭ পৃষ্ঠা হযরত ইরবায বিন সারিয়া (رضي الله عنه) এর সূত্রে)
তোমরা আমার পর আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আকড়ে ধরো।’’
🔺(মোল্লা আলী ক্বারী : মওদ্বুআতুল কাবীর : ৩১৬ : হাদিস : ৪৫৩, মোল্লা আলী ক্বারী : আসারুল মারফ‘ূআ : ২১০ : হাদিস : ৮২৯, আযলূনী : কাশফুল খাফা : ২/২৭০ : হাদিস : ২২৯৬)।
+++++++
ফতোওয়ায়ে আহলে সুন্নাহ (আটটি বিষয়ের সমাধান)
গ্রন্থনা ও সংকলনেঃ
মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
প্রতিষ্ঠাতা, ইমাম আযম রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ ০১৭২৩-৯৩৩৩৯৬
সম্পাদনা পরিষদঃ
আল্লামা মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদী (মা.জি.আ.)
মুনাজেরে আহলে সুন্নাহ ও বিশিষ্ট ইসলামী লেখক ও গবেষক।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন