আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?


রাসূল (ﷺ)’র সাহাবী হযরত উসমান বিন হানিফ (رضي الله عنه)’র আকীদা:


যেমন, হাদীসের কিতাব সমূহে এসেছে, হযরত উসমান বিন হানীফ (রা:) বর্ণনা করেন, এক অন্ধ সাহাবা রাসূলে কারিম (ﷺ)’র দরবারে এসে আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আল্লাহর দরবারে একটু দোয়া করুন। যাতে আল্লাহ তা‘য়ালা আমাকে দৃষ্টি শক্ত দান করেন। তখন সারকারে দোআলম (ﷺ) ইরশাদ করেন, যাও অযু করে দু’রাকাত নামায পড় এবং নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ে প্রার্থনা কর।

اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ، وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ، يَا مُحَمَّدُ، إِنِّي تَوَجَّهْتُ بِكَ إِلَى رَبِّي فِي حَاجَتِي هَذِهِ، فَتَقْضِي لِي، اللهُمَّ شَفِّعْهُ

-“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, রহমতের নবী মুহাম্মদ (ﷺ)’র উসিলায়, আপনার নিকট মনোনিবেশ করছি। হে মুহাম্মদ (ﷺ)! আপনার উসিলা নিয়ে নিজ রবের নিকট মনোনিবেশ করছি, আমার এমন হাজতে যা পূরণীয় হে আল্লাহ! হুযুর (ﷺ)’র শাফায়াত আমার জন্য কবুল করুন।’’ ৯২


৯২. ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ২৮/৪৭৮ পৃ. হা/১৭২৪০, ইমাম নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, ৯/২৪৪ পৃ. হা/১০৪১৯, সুনানে তিরমিযী, ৫ম খণ্ড, ৪৬১ পৃষ্ঠা, হা/৩৫৭৮, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ২/২৬৮ পৃ. হা/২৪৯৫, সহীহ ইবনে খুযাইমা দ্বিতীয় খণ্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা, হা/১২১৯, ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, প্রথম খণ্ড, ৪৫৮ পৃষ্ঠা, হা/১১৮০, সুনানে ইবনে মাযাহ, ২/৩৯৫ পৃষ্ঠা, হা/১৩৮৫, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ৯/৩০ পৃ. হা/৮৩১০, শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী, জযবুল কুলুব, ২২০ পৃষ্ঠা, ইমাম কাযি আয়্যায, শিফা শরীফ, প্রথম খণ্ড, ২৭৩ পৃষ্ঠা

এই হাদীস শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ) নিজ উম্মতকে, “ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বারা আহবান করার অনুমতি প্রদান করেছেন। সায়্যিদুল মুরসালিন (ﷺ), ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলার শিক্ষা দিয়েছেন। আর দেওবন্দীরা বলে এরূপ বলা শিরক। সুতরাং আপনারা নিজেই বিচার করুন তারা কী আহলে সুন্নাত নাকি বাগী?

উম্মতে মুহাম্মদী (ﷺ)’র মহান ব্যক্তিত্ব ইমাম তাবরানী (رحمة الله) একটি রেওয়ায়েতে এনেছেন, যা দ্বারা প্রমাণিত হয় সাহাবায়ে কিরাম (রা.) হুযুর (ﷺ)’র ইন্তেকালের পরও এই দোয়া এবং অজীফার উপর আমল করেছেন এবং এর শিক্ষা দিয়েছেন। ৯৩

৯৩. ইমাম তাবরানী, মু‘জামুস সগীর, ১/৩০৬ পৃ. হা/৫০৮, কিতাবুদ দোয়া, ১/৩২০ পৃ. হা/১০৫০, এবং মু‘জামুল কাবীর, ৯/৩০ পৃ. হা/৮৩১০

সায়্যিদুনা উসমান বিন হানিফ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান গণী (رضي الله عنه)’র সাথে কোন এক ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল, কিন্তু তা পূর্ণ হচ্ছে না। হযরত উসমান (رضي الله عنه) তার দিকে কোন দৃষ্টিপাতই করছেন না।

তখন ওই ব্যক্তি হযরত উসমান বিন হানিফ (رضي الله عنه)’র কাছে গিয়ে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দিলেন। তিনি বললেন, তুমি অযু করে দু’রাকাত নামায পড়, তারপর নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي أَتَوَجَّهُ بِكَ إِلَى رَبِّكَ عَزَّ وَجَلَّ فَيَقْضِي لِي حَاجَتِي

এরপর খলিফার নিকট যাবে। সুতরাং তিনি সবকিছু করে হযরত উসমান (رضي الله عنه)’র কাছে গেলেন। দারোয়ান এসে তাকে সামনে নিয়ে খলিফা হযরত উসমান (رضي الله عنه)’র কাছে নিয়ে গেলেন। হযরত উসমান (رضي الله عنه) তাকে নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে তার সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করলেন এবং তা পূর্ণ করলেন। এরপর তাকে বললেন ভবিষ্যতে তোমরা কোন সমস্যা হলে আমার কাছে আসবে এবং আমি তা পূর্ণ করব। আবেদনকারী অত্যন্ত খুশি হয়ে হযরত উসমান বিন হানিফ (رضي الله عنه)’র কাছে গিয়ে বললেন,

جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا

-‘‘আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।’’

আপনার কথা মত আমি দোয়া পাঠ করেছি, সেজন্য আমার কাজ সমাধা হয়েছে। অথচ ইতোপূর্বে হযরত উসমান (رضي الله عنه) আমার দিকে দৃষ্টিপাতও করেন নি।’’ ৯৪

৯৪. ইমাম তাবরানী, মু‘জামুস সগীর, ১/৩০৬ পৃ. হা/৫০৮, কিতাবুদ দোয়া, ১/৩২০ পৃ. হা/১০৫০, এবং মু‘জামুল কাবীর, ৯/৩০ পৃ. হা/৮৩১০

    প্রিয় পাঠকবৃন্দ! উপর্যুক্ত আলোচনা দ্বারা দিবালোকের ন্যায় প্রতিভাত হল যে, সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) এবং তাবেয়ীনগণ (رضي الله عنه) রাসূলে কারিম (ﷺ)’র ইন্তেকালের পরেও “ইয়া মুহাম্মদ, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)” বলাকে বৈধ বলে স্বীকার করেন। বরং মুশকিল এবং পেরেশানারী সময় “ইয়া মুহাম্মদ, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)” বলে ডাকতেন।  আর এরূপ ডাকার কারণে তাদের সমস্যা দূরীভূত হত। কিন্তু বর্তমানে দেওবন্দীরা যারা ইয়া মুহাম্মদ (ﷺ), ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে তাদেরকে মুশরিক বলে আর নিজেদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত বলে দাবী করে। লাহাওলা ওলাকুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীগণের এই কার্যকরী অজীফাকে মুহাদ্দেসীনে কেরামগণ তাদের নির্ভরযোগ্য কিতাবে এনেছেন।

++++++++
আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত কারা?

মূল: আল্লামা আবুল হামেদ মুহাম্মদ জিয়াউল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।

ভাষান্তর
মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
বিএ অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্পাদনায়, তাখরীজ, প্রকাশক:
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন